লেখালেখির স্বপ্নবাজ

আপডেট : ০৯ মে ২০১৪, ১৯:৩৬
চট্টগ্রাম সরকারি কলেজে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে স্নাতকোত্তর শ্রেণীতে পড়াশোনা করছেন তিনি। এর বাইরে তার পরিচয় হলো, তিনি একজন লেখক ও গল্পকার। তার লেখা শুধু দেশের পত্র-পত্রিকা নয়, অন্যদেশের পত্রিকায়ও ছাপা হয়। প্রতিভাবান এই মেয়েটি চট্টগ্রামে থেকেও, তার লেখা দিয়ে জয় করছেন ঢাকাসহ দেশের বাইরের সম্পাদকদের মন। তরুণ এই লেখিকার নাম শাম্মী শিল্পী তুলতুল। তার গল্প লিখেছেন সাজেদুল ইসলাম শুভ্র ছোটবেলায় পড়ালেখায় খুব ফাঁকিবাজ ছিলেন। তাই টিচার এলে নানা অজুহাতে তাড়ানোর বাহানা করতেন। ছোটবেলায় নানাবাড়ি বেড়াতে গিয়ে পুকুরে পড়ে গিয়েছিলেন। ভাগ্যক্রমে পুকুররে একটা পাকা ঘাট ধরে কাঁদতে থাকেন। পরে তার চিত্কার শুনে খালা আর মা এসে বাঁচান। ছোট মানুষটির দস্যিপনাতে সবাই আনন্দও পেতেন। তাদের পরিবারের সবার সাথে সবার আলাদা আত্মিক সম্পর্ক। তার পরিবারটিও মজার। একটা রাজনৈতিক, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিবারে তার জন্ম। ছোটবেলা থেকে একদিকে যেমন দেখেছেন পরিবারের লোকজনকে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করতে তেমনি সমানতালে সংস্কৃতি অঙ্গনেও অংশগ্রহণ করতে। বাবা আবু মোহাম্মদ খালেদ ছিলেন তত্কালীন (রাউজানের) সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংগঠন জাগরণী সংস্থার সভাপতি। মা কাজী রওশন আখতার ছিলেন কলেজ ছাত্রসংঠনের নেতা। ছোটবেলা থেকেই নানা কাজী এজারুল ইসলমের মুখে শুনেছেন কবিতার বোল। কারণ তিনি ছিলেন দৌলত কবির নাতি। আর নানি কাজী লতিফা হককে দেখেছেন বেগম পত্রিকায় লেখালেখি করতে। আর দাদু আলহাজ্ব আব্দুল কুদ্দুস মাস্টার ছিলেন একজন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের নেতা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, নজরুল-বন্ধু। সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি ছিলেন একজন সুপরিচিত লেখক। তাদেরকে অনুসরণ করেই ছোটবেলা থেকেই তার লেখালেখির হাতেখড়ি। এখানেই শেষ নয়, চট্টগ্রাম টেলিভিশনে নিয়মিত আবৃত্তি ও বেতারে অনুষ্ঠান গ্রন্থণা করেন তিনি। লেখালেখি শুরু কীভাবে জানতে চাইলে জানালেন, প্রথমে ভয়ে ভয়ে চট্টগ্রামের বিভিন্ন পত্রিকায় লেখা পাঠাতেন। সেখানে লেখা ছাপা হওয়ার পরে আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়। এরপর আস্তে আস্তে পা বাড়ালেন ঢাকার জাতীয় দৈনিকগুলোতে। প্রথমবার পাঠানোর পরে ছাপা না হওয়ায় আবারও পাঠালেন। সবচেয়ে বড় কথা, ধৈর্য হারাননি। বারবার চেষ্টা করেছেন। যখন জাতীয় দৈনিকে লেখা ছাপা হলো তখন তার বিশ্বাসের মাত্রা আরও বেড়ে গেল। এরপর চেষ্টা করলাম ভারতের বাংলা পত্রিকাগুলোতে লেখা ছাপাতে। অবশেষে সেই চেষ্টায়ও সফল হলেন। আর এখনও চেষ্টার মধ্যেই আছেন। একদিকে পড়ছেন, আরেকদিকে লিখছেন। এভাবেই চলে তার লেখালেখি। সৃজনশীল এই কাজে অনেকের সাহায্য পেয়েছেন বলে জানালেন শাম্মী। অনেক চড়াই-উত্রাই পেরিয়ে অনেক মানুষের সাহায্যে আজকের তিনি। তিনি চট্টগ্রাম, ঢাকার বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদকদের কাছে ঋণী। প্রতিটা পাতার সম্পাদকের কাছে ঋণী। যাদের সাহযোগিতা না পেলে তিনি এতদূর এগোতে পারতেন না। বিভিন্ন জনের কাছ থেকে পেয়েছেন অনুপ্রেরণা। বাবা-মা তো আছেনই। তবে তিনি আসলে ঘরের চাইতে বাইরের মানুষের অনুপ্রেরণা বেশি পেয়েছেন। বন্ধু-বান্ধব ও তার পাঠকদের কাছ থেকেই তিনি বেশি উত্সাহ পেয়েছেন। যেটা এই বয়সে অনেক বড় পাওয়া। লেখার পাশাপাশি পড়াশোনাও করতে হয় তাকে। অনেকের কাজই তার ভালো লাগে। সিনিয়র-জুনিয়ার সবার কাজ দেখেন। সবার কাছ থেকে নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করেন। শাম্মী মনে করেন, প্রতিটা মানুষ তার নিজ নিজ মেধা নিয়ে জন্ম নেয়। প্রত্যেকেরেই নিজস্ব গুণ রয়েছে। কেউ কারও জায়গা নিতে পারে না। কেউ কারও মতো হতে পারে না।