রং নিয়ে রং-তামাশা

আপডেট : ০৯ মে ২০১৪, ১৯:৩৭
বিশ্বের যে প্রান্তে যাই ঘটুক না কেন, আজহার মামার দোকানে সেটা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক হবেই। আর সেই তর্কে বিষয়ের অভাব হয় না কখনও। রাজনীতি হোক আর খেলায় শচীনের সেঞ্চুরি হোক, আলোচনার যেন কোনো নিয়মনীতি নেই। সেদিন হঠাত্ করেই বাঁধন নিলয়কে দেখে বলল, ‘তুই গোলাপি গেঞ্জি পরেছিস কেন? এটা তো মেয়েদের রং।’ ব্যস শুরু হলো তুমুল বাগবিতণ্ডা। সাথে যোগ দিল আরও ক’জন। রং নিয়ে তাদের সেই রং-তামাশার সার সংক্ষেপ নিয়ে জমে উঠেছে আমাদের এবারের আড্ডা। নিলয় :সেদিন এক খবরের কাগজে দেখলাম যে সব মেয়েদেরই নাকি পছন্দের রং হলো গোলাপি, মানে পিংক। অন্যদিকে ছেলেদেরও নাকি নীল রং সবচেয়ে প্রিয়। আচ্ছা এটা কোনো কথা হলো! এ রকম পছন্দের বিষয় নিয়ে আলটপকা কথা বলার কোনো মানে হয় না। আমার প্রিয় রং তো লাল। বাঁধন :সেজন্যই তো তোকে আমরা খেপাই। লাল-গোলাপি এসব তো মেয়েদেরই রং। মৌন :আরে তোর এসব কী শুরু করলি? রঙের আবার ছেলেমেয়ে কী? টকটকে বা বেশি উজ্জ্বল রং সব জায়গায় সবসময় মানায় না। এ ব্যাপারে একটু সচেতন থাকলেই হলো। নিশান :তোর পছন্দের রং অনেকের পছন্দের সাথে নাই-ই মিলতে পারে। এ রকম ব্যক্তিগতভাবে অনেকেরই পছন্দ হয়তো মিলবে না। কিন্তু এটা ধরে নেওয়া হয় যে, নীল রং হলো পুরুষালি রং আর গোলাপি একটু মেয়েলি। রিফাত :এটা কোনো কথা হলো নিশান? ‘ধরে নেওয়া হয়’ মানে? রঙের মধ্যেও তোরা ভেদাভেদ লক্ষ করিস? পুরুষালি আর মেয়েলি দেখার কী আছে? তোদের এই বিভাজন করার পেছনে আমার সত্যি আপত্তি আছে। তা ছাড়া সব বিষয়েই এ রকম একগুঁয়েমি তর্ক মানায় না। নিলয় :ধুর! আজ থেকে আমি আর গোলাপি গেঞ্জিই পরব না। সব আলোচনা এখানে সমাপ্ত হোক তাহলে। বাঁধন :তা কি আর আমরা বলছি? একটু রংসচেতন হতে বলেছি, গরুর মতো তো আর কালার ব্লাইন্ড থাকতে পারিস না তোরা। রিফাত :এসব ‘আমরা’-‘তোরা’ বিষয়গুলো আসছে কোত্থেকে? তোরা যদি সেটাই মানিস; তাহলে তোরা যে বলিস, পুতুল ব্যাপারটা মেয়েদের। রান্নাবান্না করা নাকি মোটেও ছেলেদের কাজ নয়। তার বেলায়? সেটার ব্যাখ্যাটাও তো তোরা দাঁড় করিয়ে দিয়েছিস। মৌন :দেখ, রঙের বিষয়টা আর কিছুই নয়। এটা নিজের পছন্দ আর রুচির ব্যাপার। একটু যাচাই-বাচাই করলে দেখা যাবে, বেশিরভাগ ছেলেই নীল রং পছন্দ করে। আবার মেয়েরা পছন্দ করে গোলাপি। রিফাত :তবে এটা কোথাও লেখা নেই যে, আমাদের এই থিওরি মেনে চলতেই হবে। ইচ্ছে না হলে মানব না। নীলের বদলে হলুদ ভালোবাসার জন্য তো আর সরকার আমার উপর অতিরিক্ত ট্যাক্স বসাবে না! কী বলিস? বাঁধন :হ্যাঁ, মূল বিষয়টা হলো যে পারিপার্শ্বিকতা ভেবে আমাদের রং নিয়ে একটু সচেতন থাকলেই হলো। রিফাত :লাল হোক না নীল হোক আমাদের নিজেদের মানসিক পছন্দই হচ্ছে মুখ্য বিষয়। কেননা রঙের ক্ষেত্রে কোনো বাছবিচার চলে না। মৌন :ঠিক বলেছিস। আগের মতোই বলছি রং পুরো বিষয়টাই হচ্ছে পছন্দ আর রুচির ব্যাপার। এক্ষেত্রে কোনো ছেলে-মেয়ের পার্থক্য চলে না। এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই যে মেয়েরা গোলাপি পরে বলেই ছেলেরা গোলাপি পরতে পারবে না। এটা শুধুমাত্র আমাদের সামাজিক কিছু অতি বুদ্ধিজীবী লেভেলের মানুষের অতিচিন্তার অতিপ্রয়াস। নিশান :তোরা যাই বলিস ছেলেরা গোলাপি পরা মানেই একপ্রকার মেয়েলি ভাব চলে আসে। এটা যুক্তি দিয়ে খণ্ডানো সহজ কিন্তু মানসিকভাবে মেনে নেওয়া খুবই কঠিন।