অসাধারণ দরদী কণ্ঠ, যা সহজেই মনকে আবেগাক্রান্ত করে তুলে, বিচারকরা এভাবেই স্কুটির কণ্ঠের প্রশংসা করেছিলেন। দর্শকদের মধ্যে অনেকেই আবার ‘জোশ টানারের’ কণ্ঠের সঙ্গেও স্কুটি ম্যাকক্রেরির মন ভোলানো কণ্ঠের তুলনা করেছেন। সেই ১৭ বছর বয়সী স্কুটি আরেক প্রতিযোগী লোরেন অ্যালাইনাকে পরাজিত করে ২০১১ সালের আমেরিকান আইডল হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। স্কুটির কথা লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম
২০১১ সালের আমেরিকান আইডল স্কুটি ম্যাকক্রেরির বয়স মাত্র ১৭ বছর। তিনি ১৯৯৩ সালে আমেরিকার নর্থ ক্যারোলিনাতে জন্ম গ্রহণ করেন। তার মা একজন রিটেইলারের কাজ করতেন। ছোটবেলা থেকে তার পরিবার থেকে তাকে এলভিস নাম দেওয়া হয়। তিনি ওয়েস্ট লেক মিডল স্কুল থেকে পড়াশোনার পাঠ শেষ করেন। তিনি মাত্র ১০ বছর বয়স থেকেই গিটার চর্চা শুরু করেন। তিনি তার স্কুলের বাইরে গিয়ে, গারনার ম্যাগনেট স্কুলে মিউজিক করতেন। সেখানে তিনি একটি মিউজিক গ্রুপে যোগ দেন। তিনি প্রথমে অ্যাকুয়েস্টিকে গাইলেও পরবর্তীতে তার ভোকালের সাথে মিলিয়ে বেজে চলে যান। ছোটবেলা থেকেই গানের প্রতি আগ্রহ থাকায় তার উন্নতি হতে থাকে ভালোই। সেই সাথে ছিল তার মধুর কণ্ঠ। এই দুইয়ে মিলে ‘ক্লেটন ক্যারোলিনা’ পুরস্কারটি পেয়েছিলেন ছোট বয়সেই। এর বাইরে তিনি ‘রিপ দ্য হলওয়েজ’-এর ৩৬ ফাইনালিস্টের মধ্যে একজন। এই কন্টেস্টটি নর্থ ক্যারোলিনার টিনেজ ভোকালিস্টদের জন্য। এছাড়াও তিনি লোকাল কয়েকটি ইভেন্টেও অংশ নিয়েছিলেন।
আমেরিকান আইডল
রিয়েলিটি শো আমেরিকান আইডলে সেবার অন্যবারের তুলনায় রেকর্ড পরিমাণ ভোট পড়েছিল, যার পরিমাণ প্রায় ১২২.৪ মিলিয়ন। দুই ঘণ্টার এই আমেরিকান আইডল ফিনালে অনুষ্ঠানে বিখ্যাত তারকারাও শীর্ষ ১৩ প্রতিযোগীর সাথে আলাদা ও যুগলভাবে পারফর্ম করেন। লেডি গাগা, কেরি আন্ডারউড, জ্যাকব লাস্ক, কেসি আব্রামস্ ও মার্ক এ্যান্থনিসহ আরও অনেকেই এতে সামিল ছিলেন।
আমেরিকান আইডল প্রতিযোগিতায় ১ লক্ষ ২৫ হাজার প্রতিযোগী অংশ নিয়েছিল। সবাইকে পেছনে ফেলে আমেরিকান আইডল হলেন স্কুুটি ম্যাকক্রেরি। সবাই বলাবলি করছেন এই ছেলে যাবে আরও বহুদূর।
মিলওয়াকুই থেকে তিনি আমেরিকান আইডলের ১০ সেশনে অডিশন দিয়েছিলেন। তখনই বিচারকরা তার ডিপ বেইজ ওয়েজ শুনে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। স্টিভেন টেইলর তার পারফর্মেন্স দেখে মন্তব্য করেছিলেন, ‘দ্য মাসকট’। এই মন্তব্যটি প্রকাশ করা হয়েছিল ম্যাড ম্যাগজিনে। তিনি হলিউডের গ্রুপ রাউন্ডে তার অন্যান্য গ্রুপ মেম্বারদের তার ভক্ত হয়ে উঠতে একরকম বাধ্য করেছিলেন। অবশ্যই তা গানের মাধ্যমে মুগ্ধ করে। এবং তিনিই একমাত্র সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছিলেন অন্যসব ছেলেদের মধ্য থেকে। সেমি ফাইনাল রাউন্ডে তিনি ছিলেন টপ ১৩-এর মধ্যে। এক ইন্টারভিউতে তিনি নিজের সম্পর্কে মন্তব্য করেছিলেন, ‘অ্যাই হ্যাভ অ্যা লিটল বিট জে.লো ইন মি’। অর্থাত্, তার ভেতরে তিনি বিখ্যাত গায়ক জে.লো-কে অনুভব করেন। ফাইনালি তিনি একজন বিজয়ী। আমেরিকান আউডল ২০১১-এর ঘোষণা দেওয়া হয় ২৫ মে। তিনি আমেরিকান আইডলের ৬ষ্ঠ বিজয়ী, জরদিন স্পার্কসের পরে ২য় তরুণ যিনি আমেরিকান আইডল হলেন। সবচেয়ে বড় কথা হলো, অল্প বয়সে তার এই সাফল্যের পেছনে অনেক বড় হাত রয়েছে তার পরিবারের।
