গাছ আমাদের বন্ধু একথা সেই ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি। গাছ অক্সিজেন দেয়, গাছ ছায়া দেয়, দিনের শেষে এই গাছ কেটে আমরা ঘরের জিনিসপত্র বানাই। এককথায় গাছের উপকারের শেষ নেই। গাছ আমাদের পৃথিবীকে বসবাসের জন্য সুন্দর করে সাজিয়ে গুছিয়েও রাখে, আগলে রাখে আমাদের পৃথিবীকে। অথচ এই গাছ আজ হুমকির মুখে। আমাদের পৃথিবীর অনেক বনই এখন হুমকির মুখে। অনেকগুলো তো প্রায় হারিয়েই গেছে। সেগুলোর কথা লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম
শেরউড বন :এই বনের নামটি আমাদের খুব পরিচিত কারণ বিখ্যাত রবিন হুডের গল্পটি আমাদের জানা আছে। বিখ্যাত সেই শেরউড বনটি ছিল এক শ হাজার একরের। কিন্তু এখন আছে মাত্র ৪৫০ একর। বছরের পর বছর ধরে এই বনের পুরোনো বিশাল বিশাল ওক গাছগুলো প্রচুর পরিমাণে কেটে ফেলার কারণে আজ এই বনটার এই করুণ হাল।
কর্ক বার্ক বন :ভূমধ্যসাগরের সাথেই লাগানো রয়েছে এই মেডিটেরিয়ান বনটি। অদ্ভুত ওক গাছের বন। এই অদ্ভুত কর্ক ওক গাছগুলোর একটা খুব মজার বৈশিষ্ট্য আছে। খুব সহজেই ভেড়ার লোম যেভাবে তুলে ফেলা যায়, তেমনি এই গাছগুলোরও ছাল তুলে ফেলা যায়। কিন্তু এই বনও উজাড় হয়ে যাচ্ছে। কেটে ফেলা হচ্ছে এই বন।
দি ক্রিসমাস ট্রি :সান্তা ক্লজের মতো ক্রিসমাস গাছটাও তো আমাদের সবারই খুব চেনা। এই ফ্রেজার ফার গাছটাও দেখতে বড়দিনের ওই ক্রিসমাস ট্রিরই মতো। আর তাই সবাই এই গাছগুলোকে আদর করে ডাকে ক্রিসমাস ট্রি বলে। কিন্তু এই গাছগুলোও মড়ক লেগে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এই গাছে এক ধরনের পোকা লেগেই রয়েছে। এই পোকাগুলোর নাম ‘এভেলগিড’ পোকা। এই পোকাটা ক্রিসমাস গাছের সব পাতা খেয়ে ফেলে। সেই ১৯৫০ সাল থেকে শুরু হয়েছে এই পোকার আক্রমণ।
দি ক্লাউড বন :ক্লাউড মানে মেঘ। নামের সাথে বনের বৈশিষ্ট্যেরও মিল রয়েছে। ঠিক মেঘের মতোই বিস্তার এই বনটির। তাই নাম দেওয়া হয়েছে ক্লাউড বন বা ‘মেঘ বন’। এই বনটা আবার পৃথিবীর অনেক জায়গাতেই আছে, তবে বেশি দেখা যায় এশিয়া আর আমেরিকাতে। এই বন খুব গুরুত্বপূর্ণ কারণ এই বন হলো বিশুদ্ধ পানি আর বাতাসের একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ উত্স। অন্য বনগুলো বাতাসে অক্সিজেনের সরবরাহ ঠিক রাখে। এই বন তার পাশাপাশি খাবার পানিরও যোগান দেয়। ‘গুয়াতেমালা’ নামের মধ্য আমেরিকার দেশটিতে তো মোট খাবার পানির প্রায় ৪০ শতাংশই আসে এই বন থেকে। কিন্তু গাছ কেটে ফেলার কারণে এই বনটাও আস্তে আস্তে ছোট হয়ে যাচ্ছে।
দ্য টংগাস :টংগাস বনটা পৃথিবীর একমাত্র নাতিশীতোষ্ণ রেইনফরেস্ট, যার পাশেই আবার সাগর! বিশ্বের দুইটি বড়োসড়ো নাতিশীতোষ্ণ রেইনফরেস্টই আমেরিকানদের। তারই একটা এই টংগাস। এটাই আবার যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় বন, যার আয়তন ১৭ মিলিয়ন, মানে ১৭০ লাখ একর!
দ্য গ্রেট বিয়ার বন :এই বন কানাডার সাগরের পশ্চীম তীরে অবস্থিত। এর আয়তন ১৫ মিলিয়ন, মানে, ১৫০ লাখ একর। এই বনটাও একসময় হুমকির মুখেই ছিল। কিন্তু ২০০৬ সালে এই বনের ৫০ লাখ একর জায়গা বাঁচানোর জন্য রীতিমতো একটা চুক্তি করা হয়েছিল। আর এখন এই বনের পুরোটাই রক্ষা করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
‘মাউ’ বন :এই বনটা আবার পৃথিবীর অনেক পুরোনো একটা বন। এই বনটার কেনিয়ার যেই অংশ, সেই অংশটাই কিন্তু বিশাল, প্রায় ৪০০ হাজার একর! আর এই অংশটাই আবার এখন খুব হুমকির মুখে আছে ফসল উত্পাদন আর বাস করার জায়গা বানানোর জন্য। অবশেষে এই বনটাকে বাঁচানোর চেষ্টা শুরু হয়েছে।
সবচেয়ে অদ্ভুত বন :পৃথিবীর অদ্ভুত এই বনভূমির বাড়িই বলা যায় চিলিকে। এই বনে এমন এমন সব গাছপালা হয়, যেগুলো আর কোথাও জন্মায়ই না! এখানে এক ধরনের গাছ রয়েছে যা ৩ হাজার বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে! ৩ হাজার বছর পরে গাছটা কত্ত বুড়ো হয়ে যায়! এই বনের আরেকটা মজার গাছ হলো ‘মাংকি পাজল ট্রি’।
