পারমাণবিক অস্ত্র যেভাবে কাজ করে
নির্মাণ কৌশলের দিক দিয়ে পারমাণবিক অস্ত্র দু’প্রকার—গান টাইপ ও ইমপ্লোশন টাইপ। গান টাইপ পারমাণবিক অস্ত্রের কার্যপ্রণালি খুবই সহজ-সরল কিন্তু দক্ষতা খুবই কম, মাত্র ১.৪ শতাংশ। অপরদিকে ইমপ্লোশন টাইপের দক্ষতা ২০ শতাংশের কাছাকাছি। গানটাইপ পারমাণবিক অস্ত্রের নির্মাণশৈলী অনেকটা বন্দুকের মতো, তাই এর নাম গান টাইপ। একটি লম্বা টিউব, যার গায়ে বেরিলিয়াম মৌলের প্রলেপ লাগানো থাকে, তার দু’প্রান্তে সংকট ভরের চেয়ে কম অর্থাত্ সাব ক্রিটিক্যাল ম্যাসের ফিসাইল পদার্থ ইউরেনিয়াম-২৩৫ রাখা হয়। এক প্রান্তে ইউরেনিয়ামের তৈরি বুলেট ও অপর প্রান্তে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ইউরেনিয়াম-২৩৫ জমা থাকে, যাকে বলে টার্গেট। এরপর টিউবের ভেতর সাধারণ বারুদ দিয়ে ইউরেনিয়াম বুলেটকে গতিশীল করা হয় এবং তা অপরপার্শ্বে রক্ষিত টার্গেট ইউরেনিয়ামের সাথে প্রবল বেগে ধাক্কা খায়। সংঘর্ষের পর এরা পরস্পর মিলিত হয়ে সুপার ক্রিটিক্যাল ম্যাস বা অতিসংকট ভর তৈরি করে এবং ফিসাইল পদার্থ হতে নিঃসৃত নিউট্রন কণিকা টেম্পার রিফ্লেক্টরে প্রতিফলিত হয়ে উক্ত ইউরেনিয়াম জ্বালানিকেই আঘাত করে এবং এভাবেই শুরু হয় শৃঙ্খল বিক্রিয়া, যার ফলে ঘটে পারমাণবিক বিস্ফোরণ।
হাইব্রিড গাড়ি
বর্তমান সময়ের অটোমোবাইল জগতের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হচ্ছে হাইব্রিড গাড়ি। এর মূল কারণ হলো পেট্রোলের দাম হু হু করে বেড়ে যাওয়া এবং সেই সাথে হাইব্রিড গাড়ির সামান্য তেল এ বিশাল মাইলেজ পাওয়ার স্বপ্ন আর পরিবেশবান্ধব তো আছেই। কিন্তু কি আছে এই হাইব্রিড গাড়িতে? সাধারণত দ্বৈত শক্তিতে চালিত গাড়িকেই হাইব্রিড গাড়ি বলে। হাইব্রিড গাড়িতে সাধারণ জ্বালানি শক্তি (পেট্রল বা ডিজেল) ছাড়াও বিদ্যুত্ শক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
মহানীলে মহাখেলা
নাসার হাবল্ স্পেস টেলিস্কোপ এখন আর তত্ত্বের মধ্যে বিচরণ নয় বরং পর্যবেক্ষণ করে প্রমাণ স্বরূপ উপস্থিত করেছে গ্লোবিউলার ক্লাস্টারের গঠন প্রক্রিয়া এবং বিশালাকার নক্ষত্রগুলো কীভাবে গুচ্ছাকারে আবদ্ধ হয়ে নক্ষত্রগুচ্ছ সৃষ্টি করে তারই উত্পত্তি রহস্য। এ প্রক্রিয়া সম্পাদনের জন্য আয়োজন হয় ছায়াপথে বিলিয়ার্ড বলের খেলা। ধরা যাক বিলিয়ার্ড বলগুলো হলো নক্ষত্র। ক্লাস্টার তৈরির স্থান হলো বিলিয়ার্ড টেবিল। হালকা বলগুলো দ্রুত গতিসম্পন্ন হয়ে ক্লাস্টার হতে সরে পড়ে কিনারার দিকে চলে আসে। ভারী নক্ষত্রগুলো ধীর গতিসম্পন্ন হওয়ায় ক্লাস্টারের কেন্দ্রে নিপতিত হয়।
তারহীন বিদ্যুত্ ব্যবস্থাপনা
১৮৯৬ সালে স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে কলকাতা বিজ্ঞানাগারের তিন কিলোমিটার দূরত্বে সিগন্যাল প্রেরণ করতে সমর্থ হন। সেই থেকে তারহীন জগতে প্রবেশ করে এ বিশ্ব। সব বৈদ্যুতিক পণ্যকে তারের ঝামেলামুক্ত করার উদ্দেশ্যে কাজ চলছে। রেডিও, টিভি, মোবাইল প্রযুক্তি, ওয়ারলেস নেটওয়ার্কসহ সব তথ্যকে আদান-প্রদানের জন্য তারহীন মাধ্যমের ব্যবস্থা করা গেলেও তারের সংযোগ ছাড়া বিদ্যুত্ সরবরাহ করাটা অসম্ভব বলেই জানা ছিল। তারহীন বিদ্যুত্ সরবরাহ করা সম্ভব হলে মোবাইল ও ল্যাপটপ চার্জ দেওয়ার জন্য প্লাগ লাগানোর ঝামেলা থাকবে না। আর এই সুবিধাটির জন্য ম্যাগনেটিক ফিল্ড ব্যবহার করা হয়েছে। একটি নির্দিষ্ট দূরত্বে কয়েলে প্যাঁচানে সলিনয়েডের চারপাশে একটা ম্যাগনেটিক ফিল্ড তৈরি হয়—যা আবার বিদ্যুত্ শক্তিতে রূপান্তরিত করা সম্ভব।
ভুট্টার পুষ্টিমান
পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে ভুট্টা একটি চমত্কার খাবার। এককাপ রান্না করা ভুট্টায় ১৭৮ ক্যালোরি শক্তি পাওয়া যায়। অনেক চিকিত্সা বিজ্ঞানীদের মতে ভুট্টার ভেষজগুণও রয়েছে। ইন্ডিয়ান অধ্যুষিত এক অঞ্চলে গবেষণা চালিয়ে দেখা গেছে যে, এ অঞ্চলের অধিবাসীদের রক্তে উচ্চ কোলেস্টরলের মাত্রা প্রায় নেই বললেই চলে, এছাড়া তাদের ধমনীর কাঠিন্য রোগে আক্রান্তের প্রধান খাদ্যের মধ্যে ভুট্টা অন্যতম। পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে ভুট্টায় লৌহ এবং গুরুত্বপূর্ণ জিঙ্ক উপাদানও যথেষ্ট পরিমাণে রয়েছে। ভুট্টা পটাশিয়ামের একটি আদর্শ উত্স, অন্যদিকে রক্তচাপ বৃদ্ধিকারী সোডিয়ামের পরিমাণ কম (প্রতিকাপে ২৮ মিলিগ্রাম)। ভুট্টার খই, ভুট্টার ময়দা বা রকমারি রান্নায় ব্যবহার যায়। কর্নফ্লাওয়ার, কর্নফ্লেকস—এগুলো কমবেশি জনপ্রিয় খাবার।
রিং গ্যালাক্সি
২০০১ সালের ১২ জুলাই হাবল্ স্পেস টেলিস্কোপ একটি রিং গ্যালাক্সির ছবি ধারণ করে। ছবিটি একটু ধাঁধাঁ লাগায় প্রথমে। মনে হয় যেন দুটি গ্যালাক্সি সমকেন্দ্র বরাবর আগে পিছে করে অবস্থিত। কিন্তু বাস্তবে তা নয়। ছবিটি আসলে একটি গ্যলাক্সিরই যার কেন্দ্রে রয়েছে অধিক বয়সের লালচে নক্ষত্র আর আর তাকে ঘিরে সৃষ্ট বলয়ে অবস্থান করছে অপেক্ষাকৃত নবীন নীলাভ নক্ষত্রসমূহ। এদের মধ্যবর্তী অংশটুকু নিরেট কালো। এর বিস্তৃতি প্রায় এক লক্ষ আলোকবর্ষ জুড়ে, যা সার্পেন নক্ষত্রমণ্ডল থেকে ৬০০ মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। এ নক্ষত্রমণ্ডলীর সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র আলফা-সার্পেন আকৃতিতে আমাদের সূর্যের চেয়ে দশগুণ বড় এবং আমাদের থেকে ৬৭ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত।
গ্রন্থনা সাইফুল ইসলাম জুয়েল
