সাহিত্যে অবদানের জন্য তিন সাহিত্যিককে পদক প্রদান ও গুণীজন সংবর্ধনা জানিয়েছে বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ। শুক্রবার জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে ‘লেখিকা সংঘ’র ৪১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে এ পদক ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
জীবনের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ সময় সাহিত্য চর্চায় কাটানোর জন্য আজীবন সম্মাননা পদক প্রদান করা হয়, লেখিকা সংঘের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও আজীবন সদস্য ‘সেলিনা খালেদ’কে। সাহিত্য পদকপ্রাপ্তরা হলেন, কবি সিরাজুল করিম, কবি নাহার আহমেদ এবং কবি ফেরদৌস আরা।
অনুষ্ঠানে প্রতি বছরের ন্যায় প্রবন্ধ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করা স্কুল শিক্ষার্থীদের মধ্যে থেকে বিজয়ী তিনজন শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করা হয়। পুরস্কার হিসেবে তাদের হাতে ক্রেষ্ট ও সনদপত্র তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি।
প্রধান অতিথি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান বলেন, গত ৫০/৬০ বছরে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন যেটা হয়েছে, তা হচ্ছে নারীর অগ্রগতি। নারীদের জন্য যথাযথ আসন ছেড়ে দিতে হবে। নারীরা যে শুধু লেখেন তা নয়, তারা উন্নয়নেও কাজ করছেন। তবুও কিছু মানুষ মনে করেন, নারীদের কেবল ঘরের ভেতরেই থাকা উচিত। তাদের সেই পশ্চাত্পদ ধারণাকে দূরে ঠেলে দিয়ে নারীদের এগিয়ে যেতে হবে।
অনুষ্ঠানে লেখিকা সংঘ থেকে প্রকাশিত ‘সাহিত্যে অর্জন: বাংলাদেশের নারী ২য় খণ্ড’ গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। গত এক বছরে আমাদের মাঝ থেকে চলে যাওয়া বিশিষ্ট ব্যক্তি—নাট্যকার আতিকুল হক চৌধুরী, চলচ্চিত্র অভিনেতা আনোয়ার হোসেন, মান্না দে, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলাম লেখক এবিএম মূসা, নেলসন ম্যান্ডেলা, মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম, সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দিন, বিচারপতি মুহম্মদ হাবিবুর রহমান, অভিনেতা খালেদ খান, মহানায়িকা সুচিত্রা সেন, গায়ক বশীর আহমেদ স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
বিশেষ অতিথি অধ্যাপিকা পান্না কায়সার বলেন, লেখিকা সংঘের জন্ম শুধু লেখালেখির জন্য নয়। তারা সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে কলম ধরেছে। দেশ, মানুষ ও জাতিকে পথ দেখাতে কলম ধরেছে। তিনি বলেন, লেখিকা সংঘের সাহিত্যে নতুন প্রজন্ম যেন আলোর পথ পায়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লেখিকা সংঘের সভাপতি রওশন আরা বেগম বেবী। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান অধ্যাপক মমতাজ বেগম। গেষ্ট অব অনার ছিলেন, ‘বেগম’ পত্রিকার সম্পাদক সাংবাদিক নূরজাহান বেগম। সংঘের উপদেষ্টা নয়ন রহমান, ঝর্ণা রায় পুরকায়স্থ, লিপি মনোয়ার প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন কাজী মদিনা।
