দেড় দশকে মাতৃমৃত্যু হ্রাস ৬০ শতাংশ

আপডেট : ০৯ মে ২০১৪, ২২:০৬
সেভ দ্যা চিলড্রেনের মাদার ইনডেক্স ২০১৪ অনুযায়ী বাংলাদেশের অবস্থান ১৩০তম। বিশ্বময় প্রকাশিত এক রিপোর্টে বাংলাদেশ এই অবস্থানে আছে। ১৭৮টি দেশের মধ্যে এই র্যাংকিং করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিবেশী ভারত এবং পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের অবস্থানের দূরত্ব দূর করার জন্য সেভ দ্যা চিলড্রেন ছয়টি জায়গা ঠিক করেছে। উল্লেখ্য, র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ নেপাল (১১৬) এবং শ্রীলঙ্কার (৮৯) থেকে পিছিয়ে আছে। শিশুদের উন্নয়নে কাজ করে এমন দাতা সংস্থাগুলোর দেয়া তথ্যের উপর ভিত্তি করে এই রিপোর্টটি করা হয়েছে। যেখানে দেখানো হয়েছে কোন দেশ মায়েদের জীবনমানের উন্নয়নে ভাল করতে পেরেছে এবং কোন দেশ ব্যর্থ হয়েছে। এই তালিকায় টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফিনল্যান্ড প্রথম হয়েছে এবং সোমালিয়া আছে তালিকার শেষে। এই প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে কিভাবে মা এবং শিশুর মৃত্যুহার নাটকীয়ভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, গত ১৫ বছরে বাংলাদেশে মাতৃমৃত্যুর হার কমেছে ৬০ শতাংশ। শিশু মৃত্যুর হার নেমে এসেছে অর্ধেকে। স্কুল থেকে ঝরে পড়া শিশুরসংখ্যা কমেছে, মাথাপিছু আয় বেড়েছে এবং জাতীয় সংসদে নারী প্রতিনিধিদের সংখ্যা বেড়েছে। সেভ দ্যা চিলড্রেনের স্বাস্থ্য এবং পুষ্টি বিষয়ক পরিচালক মাইকেল ফলয় বলেন, মা এবং শিশুর মৃত্যুহার কমিয়ে এনে বাংলাদেশ নাটকীয়ভাবে এই তালিকায় উন্নতি করছে। তারপরও বাংলাদেশ এখনো ১৩০তম অবস্থানে আছে। দেশটিকে আরো অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে। এখানে এখনো ২৪টি শিশুর মধ্যে একটি শিশু পাঁচ বছরের আগেই মৃত্যুবরণ করে। এর মধ্যে ৬০ শতাংশ শিশু জন্মের ২৮ দিনের মাথায় মৃত্যুবরণ করে। ভাল স্বাস্থ্য সেবা দেয়া হলে যা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই দেশের আরেকটি উদ্বেগের বিষয় হলো সরকার মোট বাজেটের শতকরা হিসেবে স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় কমিয়ে আনছে। এ বছর প্রতিবেদনটি তৈরীর ক্ষেত্রে মায়েদের মানবিক জটিলতাকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। অর্থনৈতিক এবং সামাজিক অবস্থানের কারণে বিশেষ করে সন্তানকে সুস্থ-সবল রাখতে মায়েদের বাধার সম্মুখীন হতে হয়। এছাড়া মায়েদের অন্য চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে দরিদ্রতা, অপুষ্টি, যৌনহয়রানি, অপরিকল্পিত গর্ভধার ইত্যাদি উল্লেখ যোগ্য। সংস্থাটির বাংলাদেশের কান্ট্রিডিরেক্টর মাইকেল ম্যাকগ্রা বলেন, বাংলাদেশ সব সময়ই নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকে। এই দুর্যোগগুলোর পরে নানা ধরনের রোগ দেখা দেয়। বিশেষ করে কলেরার মতো পানিবাহিত রোগ কখনো কখনো খুবই ভয়ংকর হয়ে ওঠে। দুর্যোগ পরবর্তী এই ধরনের বিপর্যয় এড়ানোর জন্য সরকার এবং জনগণের করণীয় সম্পর্কেও রিপোর্টটিতে বলা হয়েছে।