সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার প্রায় অর্ধশত টালি কারখানা প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ না পাওয়া, আন্তর্জাতিক বাজার সৃষ্টিতে সরকারি সহযোগিতা না পাওয়া, আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার না হওয়া, অসুস্থ প্রতিযোগিতা, উত্পাদন খরচ বেড়ে যাওয়াসহ নানা কারণে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সম্ভাবনাময় এই টালি শিল্প আজ মুখ থুবড়ে পড়েছে। অধিকাংশ কারখানার উত্পাদন বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ফলে উপজেলার মুরালিকাঠি, শ্রীরামপুর ও মির্জাপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা এ টালি শিল্পের প্রায় ৫ হাজার শ্রমিক মানবেতর জীবনযাপন করছে। সরকারি পৃষ্ঠপাষকতা না পেলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সম্ভাবনাময় এই শিল্প অচিরেই ধ্বংস হয়ে যাবে বলে মনে করছেন টালি শিল্প মালিক ও শ্রমিকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০০ সালে মুরালিকাঠি পালপাড়া এলাকায় প্রথম শুরু হয় নানা প্রকারের টালি উত্পাদন। শুরুতেই ৫টি টালি কারখানায় উত্পাদিত টালি ইটালিতে রপ্তানি করা হয়। একে একে দুবাই, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, নেদারল্যান্ড ও আমেরিকায় রপ্তানি শুরু হয় টালি। প্রায় ৫০টি টালি কারখানা গড়ে উঠেছে এসব এলাকায়।
কলারোয়া টালি ব্যবসায়ি সমবায় সমিতির সভাপতি গোষ্ট চন্দ্র পাল জানান, ২০১০ সাল পর্যন্ত টালি শিল্প মালিকরা আন্তর্জাতিক বাজারে বেশ ভালই দাম পেয়েছে। প্রতিটি টালি ৩০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি করেন তারা। প্রতিবছর প্রায় ৩০০ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয় এই শিল্প থেকে। কিন্তু ২০১০ সালের পর এই শিল্পে ধস নামতে শুরু করে। স্থানীয় টালি কারখানা মালিকদের মধ্যে অনৈক্য, নিজেদের মধ্যে রেষারেষি, বেচা-বিক্রির অসম প্রতিযোগিতা শুরু হয়। এই সুযোগ লুফে নেয় বিদেশি ক্রেতারা। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে টালির দাম কমতে শুরু করে অথচ দিন দিন উত্পাদন খরচ বাড়তে থাকে। যে টালি আগে ৬০ টাকায় বিক্রি হতো, বর্তমানে তার দাম কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৮ থেকে ১০ টাকা। বর্তমানে যে দামে বিক্রি হচ্ছে তার চেয়ে উত্পাদন খরচ বেশি হচ্ছে। লোকসানের কারণে অর্ধেকেরও বেশি টালি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে ৭ থেকে ৮ কোটি টাকার টালি রপ্তানি হচ্ছে।
টালি ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ ইমাদুল ইসলাম জানান, আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার না হওয়ায় উত্পাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে।
কলারোয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমেদ স্বপন জানান, টালির মান নিশ্চিত করা গেলে এই শিল্প থেকে প্রতিবছর কয়েক হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে।
