রাজবাড়ীতে দুই বাসে সংঘর্ষ, নিহত ১০

আপডেট : ০৯ মে ২০১৪, ২৩:২৩
গতকাল শুক্রবার ভোরে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের রাজবাড়ী জেলা সদরের বসন্তপুর এলাকায় দু’টি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১০ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে কমপক্ষে ৩০ যাত্রী। আহতদের রাজবাড়ী ও ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপালে ভর্তি করা হয়েছে। গোয়ালন্দ মোড় হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, খুলনা থেকে ছেড়ে আসা ঈগল পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস জেলা সদরের বসন্তপুর ইউনিয়নের নিহাজ জুটমিল এলাকায় ভোর সাড়ে ৩ টার দিকে পৌঁছালে, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা গ্লোবাল পরিবহনের অপর একটি যাত্রীবাহী বাসের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ বাধে। এতে ঘটনাস্থলেই ২ মহিলা, ১ শিশু ও ৫ পুরুষ যাত্রী মারা যান। গুরুতর আহতদের মধ্যে দুইজন হাসপাতালে মারা গেছেন। নিহত সকলের পরিচয় পাওয়া গেছে। এরা হলেন- বরিশালের আগৈলঝাড়ার আমবৌল গ্রামের আবুল বাশার হাওলাদারের ছেলে সাফিন হাওলাদার (১৬), একই গ্রামের মৃত সুবল সরকারের ছেলে রতন সরকার (৫২), মৃত জগবন্ধু রায়ের ছেলে পরেশ চন্দ্র রায় (৫০), গোপালগঞ্জের মকছেদপুরের খালেক ফকিরের ছেলে বাবু ফকির (৪৫), বাগেরহাটের করিম হাওলাদারের ছেলে আফসার হোসেন হাওলাদার (৫০), ধানাইগাছি গ্রামের হাসেন আলী মণ্ডলের ছেলে জুয়েল মণ্ডল (৩০), বীথি খাতুন (২৫), খুলনার খালিশপুরের খালেদ মিয়ার স্ত্রী বীথি (২০), বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জের বিল্লাল হোসেনের স্ত্রী নাছিমা বেগম (২৮) এবং তার ৩ মাস বয়সী মেয়ে জান্নাত। দুর্ঘটনার পর পর পুলিশসহ রাজবাড়ী ও ফরিদপুরের ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার তত্পরতা শুরু করেন। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সকাল ৮ টার দিকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় ১ মহিলা ও অপর এক পুরুষ যাত্রী মারা যান। আহত ও নিহতদের বেশির ভাগেরই বাড়ি বরিশাল ও খুলনা এলাকায় বলে জানা গেছে। আগৈলঝাড়ায় শোকের মাতম গৌরনদী (বরিশাল) সংবাদদাতা জানান, রাজবাড়ীর ওই সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতদের মধ্যে কয়েকজনের বাড়ি বরিশালের আগৈলঝাড়ায়। নিহতদের ঐসব গ্রামে এখন শোকের মাতম বইছে। খবর পেয়ে গতকাল শুক্রবার সকালে শোকার্ত পরিবারগুলোকে সান্ত্বনা দিতে ছুটে যান স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ ও এ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস। কুমিল্লায় মাইক্রোবাস চাপায় কনস্টেবল নিহত কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, বৃহস্পতিবার রাতে জেলায় মাইক্রোবাস চাপায় দেলোয়ার হোসেন (৫২) নামের এক পুলিশ কনস্টেবল নিহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার দাউদকান্দি মডেল থানা প্রাঙ্গণে নিহতের নামাজে জানাজা শেষে বিকালে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। নিহত কনস্টেবল নোয়াখালীর সদর উপজেলার ধর্মপুর গ্রামের মৃত আজিজুর রহমানের পুত্র। দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি আবু ছালাম মিয়া জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দায়িত্ব পালনকালে কনস্টেবল দেলোয়ার হোসেনকে ঢাকাগামী একটি মাইক্রোবাস চাপা দিয়ে দ্রুতগতিতে পালিয়ে যায়। আহত অবস্থায় তাকে দাউদকান্দির গৌরীপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি ঘটলে শুক্রবার ভোরে ঢাকায় নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। গজারিয়া হাইওয়ে পুলিশ মাইক্রোবাসটি আটক করলেও ঘাতক চালক পালিয়ে গেছে। এ ব্যাপারে পুলিশ বাদী হয়ে দাউদকান্দি থানায় একটি হত্যা মামলা করেছে। কেরানীগঞ্জে সিএনজি-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ১ কেরানীগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকায় রামেরকান্দা কবরস্থানের সামনে সিএনজি-ট্রাক সংঘর্ষে সিএনজি চালক নিহত হয়েছেন। তবে তার নাম-পরিচয় জানা যায়নি। এ ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন- মোহাম্মদ আলী (৩৫), তার স্ত্রী হোসনেয়ারা (২৬) ও ছেলে আমান (৬)। আহতরা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের কালন্দি গ্রামের বাসিন্দা। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সিএনজি চালকের লাশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।