পাখির মতো অভিজ্ঞতা

আপডেট : ১০ মে ২০১৪, ১৯:১০
আদিম মানুষ প্রথম আকাশে উড়বার স্বপ্ন দেখেছিল পাখি দেখেই। তারপর সময়ের সাথে সাথে মানুষের উড়বার স্বপ্ন পূরণ হলেও সেই ওড়ার সাথে পাখির উড়ে বেড়ানোর বিস্তর ফারাক রয়েছে। আর তাই আকাশযানে করে অনায়াসে হাজার হাজার মাইল পাড়ি দেওয়া মানুষের কাছে এখন বেশ সহজ হলেও পাখির মতো ওড়ার অভিজ্ঞতা এখনও হয়নি। এক্ষেত্রে নানা ধরনের প্যারাগ্লাইডিং মানুষকে পাখির মতো ওড়ার কিছুটা ধারণা দিলেও সেটিতে ঝক্কি কম নয়। আর এসব কিছু মাথায় রেখেই এবার একদল সুইস বিজ্ঞানী এমন একটি সিম্যুলেটর আবিষ্কার করেছেন যেটি খুব সহজেই মানুষকে পাখির মতো উড়বার অনুভূতি দিতে সক্ষম। বিশেষ ভাবে তৈরি এই সিম্যুলেটরটির সাহায্যে শুধু যে পাখির মতো উড়বার অনুভূতিই পাওয়া যাবে তাই নয়, বরং আকাশে ওড়ার সময় পাখির চোখে নিচের দৃশ্য কেমন দেখায় কিংবা কতটা উঁচুতে গেলে বাতাসের কী ধরনের ঝাপটা লাগে বা কেমন গন্ধ নাকে আসে তার সবকিছুই সমন্বিত করা হয়েছে এই সিম্যুলেটরটিতে। সিম্যুলেটরটির কাজের ধরন ব্যাখ্যা করতে যেয়ে বিজ্ঞানীরা বলেছেন, এই সিম্যুলেটরটি ব্যবহারে জন্য ব্যবহারকারীকে প্রথমেই মাথায় পড়ে নিতে হবে একটি অক্যুলাস রিফট ভার্চুয়াল রিফট হেডসেট। মস্তিস্কে পাখির মতো ওড়ার অনুভূতি আর পাখির চোখে দেখা দৃশ্য তৈরিতে মূল ভূমিকা পালন করবে এই হেডসেটটিই। তবে হেডসেটের পাঠানো এই তরঙ্গটি যেন একঘেঁয়ে ত্রিমাত্রিক ছবির মতো বলে মনে না হয় সেজন্যই বিজ্ঞানীরা এর সাথে যুক্ত করেছেন পাখির পাখা ঝাপটানোর মতো একটি ইন্টার্যাকটিভ প্লাটফর্ম। এই প্লাটফর্মের সাথে হাত বাধা অবস্থায় ব্যবহারকারী যখন পাখির ডানার মতো তার হাতকে ব্যবহার করতে চেষ্টা করবেন তখন সেই বার্তা পৌঁছে যাবে হেডসেটে। আর এভাবেই ডানা ঝাপটানোর (পড়ুন হাত নাড়ার) গতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে দৃশ্যকল্প বা ওড়ার গতি নির্ধারণ করবে হেডসেটটি। এ ছাড়া সিম্যুলেটরের সামনে লাগানো একটি পাখার সাহায্যে ওড়ার গতির সাথে মিল রেখে বাতাসের তারতম্য ঘটানো হবে এবং সেই সাথে তৈরি করা হবে মানানসই শব্দ ও গন্ধও। এভাবে পুরো অভিজ্ঞতাটিকে নিখুঁত করে তোলার প্রতি বিজ্ঞানীরা এতটাই নজর দিয়েছেন যে চোখের সামনে যখন ব্যবহারকারী নিজেকে বনের ওপর দিয়ে উড়ে যেতে দেখবেন তখন তার নাকে এসে লাগবে পাইনের সুগন্ধ। অন্যদিকে কোনো শস্য ক্ষেতের ওপর দিয়ে উড়ে যাবার সময় মাটির সোঁদা গন্ধও নাকে ধরা পড়বে।