ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল দেশের প্রাচীনতম চিকিত্সালয়। কিন্তু এখানে কোনো গুরুতর রোগী ভর্তি হলে চিকিত্সায় অব্যবস্থা সহজেই ধরা পড়ে। সম্প্রতি আমার এক আত্মীয় গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় সেখানকার জরুরি বিভাগে নেয়া হলে তাকে আইসিইউ বা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়। তিনি ডায়াবেটিসের রোগী ছিলেন। সুতরাং, তার ব্লাডসুগার সব সময় পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন ছিল। দেখা গেলো এখানে ব্লাডসুগার পরিমাপের কোনো যন্ত্র নেই। আমাদের কিনে আনতে বলা হলে সৌভাগ্যবশত আগে থেকে পরিমাপক যন্ত্র থাকায় এর প্রয়োজন হয়নি। একটি পরিমাপক যন্ত্রের দাম হাজার টাকার ওপরে। লক্ষ করা গেলো এখানে চিকিত্সা সংক্রান্ত সবকিছুই কিনে আনতে হয়। আইসিইউ থেকে সরবরাহ করা হয় না। সুতরাং, আকস্মিক গুরুতর অসুস্থ কোনো রোগী এখানে ভর্তি হলে এবং অর্থ সংক্রান্ত ঘাটতি থাকলে বিপদগ্রস্ত হতে হয়। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রোগীর আত্মীয়-স্বজনকে সহজে ঢুকতে দেয়া হয় না। এই সুযোগে রোগীদের প্রতি অবহেলা করা হয়ে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে, যেরূপ আমরা আমাদের রোগীর ক্ষেত্রেও লক্ষ্য করেছি।
এই যদি হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ বা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের অবস্থা, তাহলে ওয়ার্ডসহ এখানকার অন্যান্য বিভাগের অবস্থা সহজেই অনুমেয়। দেশের একটি প্রাচীনতম চিকিত্সা প্রতিষ্ঠান হলেও এর সার্বিক পরিবেশ বেশ অপরিচ্ছন্ন। বিষয়টির প্রতি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
ফরহাদ আহমেদ, হাজারীবাগ, ঢাকা
