রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার রোধে দরকার আইন

আপডেট : ১০ মে ২০১৪, ২১:৪১
‘গণতন্ত্র, রাজনীতি ও ধর্ম’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, ধর্মের সাথে রাজনীতি সংমিশ্রণের ফলে দেশে সাম্প্রদায়িকতা বেড়েই চলেছে। বেড়েছে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা। এ সমস্যা সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এতটাই প্রবেশ করেছে যে, তা থেকে পরিপূর্ণভাবে মুক্তি পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বক্তারা সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদ রুখতে রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার বন্ধে আইন প্রণয়নেরও দাবি জানান। সেই সাথে ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধেরও প্রস্তাব করেছেন তারা। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন ও সাম্প্রদায়িকতা-জঙ্গিবাদ বিরোধী মঞ্চ শনিবার যৌথভাবে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। আয়োজক সংগঠনের সভাপতি অজয় রায়ের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জাতীয় অধ্যাপক ড. সালাউদ্দীন আহমেদ, এমিরেটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ডা. সারোয়ার আলী, বিশপ ড. ডেনিশ দিলীপ দত্ত, শিরীন আকতার এমপি, সাংবাদিক আবেদ খান, ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পংকজ ভট্টাচার্য, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হারুনুর রশিদ প্রমুখ। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। জাতীয় অধ্যাপক ড. সালাউদ্দীন আহমেদ বলেন, এ উপ-মহাদেশে রাজনীতির সাথে ধর্মের ব্যবহার করায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বেড়েই চলেছে। এ সমস্যা সমাধানে রাজনীতিতে ধর্ম নিষিদ্ধ করতে হবে। ড. আনিসুজ্জামান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চার দশক পর বাংলাদেশতো মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কাছাকাছি নে-ই বরং আরো দূরে সরে গেছে। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ আমরা পরিত্যাগ করেছি। সংখ্যালঘুদের উপর ধারাবাহিকভাবে নির্যাতন চলে আসছে। রাষ্ট্র তাদের নিরাপত্তা দিতে পারছে না। তিনি বলেন, এজন্য রাষ্ট্রের উপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে, যাতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে সরে না যায়। শামসুজ্জামান খান বলেন, সাম্প্রদায়িক সমস্যা সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এতটাই প্রবেশ করেছে যে, তা থেকে পরিপূর্ণভাবে মুক্তি পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিককালে জামায়াতে ইসলাম ও হেফাজতে ইসলাম যে জঙ্গিবাদী এবং জীবনবিনাশী নিষ্ঠুরতা চালিয়েছে ঐতিহাসিকভাবে সমন্বয়বাদী বাংলাদেশে সেটি ছিল ভয়ানক আতঙ্কের বিষয়। তাদের সেই আন্দোলনের সাথে ধর্মের কোন প্রকৃত সম্পর্ক ছিল না। ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহারই ছিল তাদের কৌশল। সাংবাদিক আবেদ খান বলেন, ভারতের সাম্প্রতিক রাজনীতিতে ধর্মের যে ব্যবহার দেখছি তা ভয়াবহ। এভাবেই সাম্প্রদায়িকতা শুরু হয়। তিনি বলেন, ধর্ম ব্যবসায়ীদের কাছে আমাদের বারবার পরাস্ত হতে হচ্ছে। কারণ, আমরা গণতন্ত্রের মূল্যবোধ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পুরোপুরি তুলে ধরতে পারিনি। ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পংকজ ভট্টাচার্য বলেন, স্বাধীনতার ৪২ বছর পরও বাংলাদেশের বিষয় নিয়ে পাকিস্তান, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশের পার্লামেন্টে নিন্দা প্রস্তাব আনা হয় কেন? কেন যুদ্ধপরাধীদের বিচার স্লথ হয়ে গেছে? রাজনীতিতে ধর্মকে নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হারুনুর রশিদ বলেন, যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ও রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহারকারী জামায়াতে ইসলামকে নিষিদ্ধ করতে হবে।