র্যাব বা আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর সাথে সম্পৃক্ত সবগুলো প্রতিষ্ঠানেরই সংস্কার প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে প্যানেল আলোচক হিসেবে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সামপ্রতিক এক বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মানবাধিকার সংস্থাগুলো পৃথিবীর অন্য দেশগুলোকে পরামর্শ দিক, আমাদের দরকার নেই।
অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনায় র?্যাবের জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠার পর র?্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোতে কি বড় ধরনের সংস্কার চালানোর প্রয়োজন হয়ে পড়েছে এমন প্রশ্ন রাখা হয় আলোচকদের কাছে। এ প্রশ্নের জবাবে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা শামা ওবায়েদ বলেন, সরকারই যখন কোন রাজনৈতিক দলকে প্রশ্রয় দেয়, তবে তারা মাথায় উঠবেই। র?্যাবের সংস্কার তো প্রয়োজনই সেইসাথে তাদের দায়বদ্ধতার ব্যাপারে সচেতন হওয়া উচিত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক আশরাফ কায়সার বলেন, র?্যাব কিন্তু অনেক আগে থেকেই আইন-শৃঙ্খলা ভেঙ্গে আসছে। নারায়ণগঞ্জের ঘটনা আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে। তবে সরকারের এ ব্যাপারে এখনও কোন উদ্যোগ নেই।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা সুলতানা বলেন, র?্যাব সৃষ্টির তো কোন প্রয়োজনই ছিলো না। পুলিশ বাহিনীকে সংস্কার করলেই চলতো। র?্যাব একটা খুনী বাহিনী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা বিদেশি ব্যক্তি কিংবা সংগঠনকে দেয়া ক্রেস্টের সোনায় ভেজাল দেয়ার বিষয়টিকে কি সাধারণ দুর্নীতি হিসেবে দেখা যায়, এমন প্রশ্নের জবাবে আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, একটি টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই ক্রেস্ট তৈরি করা হয়েছিলো। স্বচ্ছ একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একটি অস্বচ্ছ কাজ হয়েছে। জাতি হিসেবে আমরা অপমানিত হয়েছি।
শামা ওবায়েদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধকে যে দল নিজেদের লাইসেন্স হিসেবে ব্যবহার করে তারাই এমন কাজ করেছে। এ দুর্নীতি টাকার অংকে হয়তো কম হতে পারে, কিন্তু বিশ্বে আমাদের ছোট করেছে।
আশরাফ কায়সার বলেন, এটা দেশদ্রোহের সামিল। এটা জাতীয় লজ্জার ঘটনা। সরকারের স্বজনপ্রীতির ফলেই এমনটি ঘটেছে।
অনুষ্ঠানের অপর একটি প্রশ্ন কোন ঘটনাকে কেন্দ্র করে চিকিত্সকদের কি হুট করে ধর্মঘটে যাওয়া উচিত কিনা এ প্রশ্নের উত্তরে প্যানেল সদস্য এবং দর্শকরা প্রত্যেকেই বলেন, চিকিত্সকদের এমন করা উচিত নয়। সেই সাথে গণমাধ্যমকর্মীদেরও সচেতন হওয়া উচিত বলে মত প্রকাশ করেন তারা।
অনুষ্ঠানটির প্রযোজনা করেন ওয়ালিউর রহমান মিরাজ এবং উপস্থাপনা করেন আকবর হোসেন।
