কৌতূহলের সব রাস্তা মিশেছে বেনারসে!

আপডেট : ১০ মে ২০১৪, ২৩:৩২
ভারতে গত ৭ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া ১৬ তম লোকসভা নির্বাচনের সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে আগামীকাল। প্রার্থী এবং সমর্থকদের দিন রাতের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং দীর্ঘ আশা-আকাঙ্খার প্রতিফল ঘটবে ১৬ মে ফলাফল ঘোষণার দিন। তবে নির্বাচনের শেষ দফা নিয়েই যেন মানুষের মধ্যে রয়েছে অন্যরকম এক আবেগঘন কৌতুহল। আর এই কৌতুহলের সব রাস্তা গিয়ে মিশেছে দেশটির ধর্মনিরপেক্ষ এবং পবিত্র শহর হিসেবে খ্যাত বেনারসে। ভারতের মুম্বাইকে বাণিজ্যিক রাজধানী এবং দিল্লিকে রাজনীতির রাজধানী হিসেবে যেমন বিবেচনা করা হয় তেমনি বেনারসকে বিবেচনা করা হয় আধ্যাত্মিক রাজধানী হিসেবে। কারন এখানে মসজিদ এবং মন্দির পাশাপাশি অবস্থান করে। বিভিন্ন ধর্মের মানুষ একই সঙ্গে নিজেদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করলেও তাদের মধ্যে নেই কোনো ভেদাভেদ। তারা নিজেদের ধর্মের ভিত্তিতে বিবেচনা করে না। তারা মনে করে, তাদের সবার রক্ত লাল, তাই তারা একই প্রকৃতির জীব। আর সেটা হলো তারা মানুষ। তাইতো ধর্মনিরপেক্ষতার অনুপম এই দৃষ্টান্ত দেখতে শহরটিতে প্রতিদিনই সারা বিশ্ব থেকে শত শত পর্যটক এসে ঘুরে যান। তবে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী নরেন্দ্র মোদী এই শহরকে মনে করেন জাতীয় সংস্কৃতির কেন্দ্রস্থল হিসেবে। বেনারস নিয়ে মানুষের মধ্যে যে কৌতুহল তার প্রধান কারন গণমাধ্যমে জনপ্রিয় মোদীকে নিয়ে মাতামাতির কারনে। তবে কৌতুহলের যে গভীরতা বৃদ্ধি পেয়েছে তার কারন হলো একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আলোচিত রাজনীতিক আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল। এখন প্রশ্ন জাগতে পারে মোদী কেন গুজরাটের বারোদা ছাড়াও বেনারসের আসনকে প্রতিদ্বনিদ্বতা করার জন্য বেছে নিলেন? বারোদার আসনে তার শতভাগ জয়ের আশা রয়েছে। কেবল পবিত্র শহরের কারনেই কিন্তু মোদী বেনারসে প্রতিদ্বনিদ্বতা করছেন না। আছে তার রাজনৈতিক চালাকিও। এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে তার নির্বাচনী প্রচারণার আঁঁচ লাগতে পারে উত্তরপ্রদেশের পূর্বাঞ্চলেও। কারন এই অঞ্চলে তার দল যারপরনাই দুর্বল অবস্থানে। মজার বিষয়, বেনারসে মোদী এবং কেজরিওয়াল উভয়ই বাইরের প্রার্থী। ভেতরের প্রার্থী কংগ্রেসের অজয় রায়। তবে তার জনপ্রিয়তা খুব একটা নেই বললেই চলে। কেজরিওয়ালের প্রচার বাধ্য করেছে মোদীর সমর্থকদের প্রচার প্রচেষ্টায় গতি আনতে। বেনারসের লোকজন গত এক মাস ধরে প্রার্থী এবং তার সমর্থকদের নির্বাচনী প্রচারের যন্ত্রণায় অতীষ্ট। বেনারসে বাইরের লোকদের আসাটা শত বছরের ঐতিহ্য। বাইরের লোকেরা এসে শহরটিকে নিজেদের করে নিয়েছে। শহরটিতে ভারতের বিভিন্ন শাসকরা পরিদর্শন করেছেন এবং বাইরের লোকদের কাছ থেকেই শহরটি বেশি লাভবান হয়েছে। সব নির্বাচনেই শেষ ভোটটি না হওয়া পর্যন্ত জয়-পরাজয় নির্ধারণ করা যায় না। সবাই জয়ের আশা করলেও জয় পায় একজন। এর কোনটিরই ব্যতিক্রম নয় বেনারস। তবে তারপরও ভারতের লোকসভা নিবার্চনের সবচেয়ে আলোচিত-সমালোচিত বেনারসের রসময় নির্বাচন।