নারীদের সস্তা শ্রমের উপর ভিত করে বিকশিত হচ্ছে দেশের পোশাক খাত। তাদের ঘামের উপরই দাঁড়িয়ে আছে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম এ মাধ্যমটি। দেশের অর্থনীতিতে নানা দিক থেকে পোশাক খাত অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ। এ খাতে কর্মরত শ্রমিকদের প্রায় ৮০ শতাংশ শ্রমিকই নারী। যারা দিনরাত পরিশ্রম করে দেশের জন্য নিয়ে আসছেন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার। তাদের উপার্জন অর্থনীতির গতিশীলতাকেও ত্বরান্বিত করছে। কিন্তু তাদের এ অবদানের স্বীকৃতি খুব সীমিত। পোশাক খাতের উন্নয়নে নারীদের অনেক অবদানের স্বীকৃতির পরিবর্তে তারা পায় সামাজিক অবমূল্যায়ন। কারখানাতেও নানা সমস্যায় আবর্তিত হন নারী শ্রমিকরা। তবে কিছু কারখানা নারীদের কাজের পরিবেশ তৈরি করতে বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু সামাজিকভাবে পোশাক কারখানার শ্রমিকদের সম্মান দেয়ার রীতি এখনও গড়ে উঠেনি। অনেক ক্ষেত্রে তারা নিজেরাও জানেন না দেশের জন্য তারা কত বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ে আসছেন। যে মুদ্রা দিয়ে শক্তিশালী হচ্ছে অর্থনীতির ভিত।
পোশাক খাত বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ খাতের উপর নির্ভর করে গড়ে উঠেছে ব্যাক ওয়ার্ড লিংঙ্কেজ। যেখানে কর্মসংস্থান হয়েছে অনেক মানুষের। সব মিলিয়ে পোশাক খাতের গুরুত্ব বাংলাদেশের অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে অনেক বেশি। তবে এ খাতটি যাদের ঘামের উপর দাঁড়িয়ে আছে তাদের গুরুত্বকে খাটো করে দেখলে চলবে না। পোশাক খাতে নারীদেরকে আরও সম্পৃক্ত করতে তাদেরকে তাদের যথাযোগ্য সামাজিক মর্যাদা দিতে হবে। এতে নারীরাও পোশাক খাতে কাজ করতে আগ্রহী হবে। এ খাতটি আরও বিকশিত হবে।
রাজধানীর কয়েকটি গার্মেন্টে ঘুরে কথা হয় নারী শ্রমিকদের সঙ্গে। নারী শ্রমিক সেলিনা শিমু বলেন, গার্মেন্টে কাজ করায় আত্মীয় স্বজনরা ভালো চোখে দেখে না। অনেকে হেয় করে কথা বলে। রাস্তা ঘাটেও নানা কথা শুনতে হয়। এর কারণ হলো- মানুষ এখনো গার্মেন্টে শ্রমিক হিসেবে কাজ করাকে ভালোভাবে দেখতে পারছে না। তবে সবাই খারাপ চোখে দেখে না। কেউ কেউ উত্সাহিতও করে। তবে এ সংখ্যাটা খুব কম। মানুষের মধ্যে গার্মেন্টে কাজ করাকে ইতিবাচকভাবে দেখা হলে এ খাতে নারীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে।
একই সুরে কথা বলেন আরেক নারী শ্রমিক শিরিন আক্তার স্বর্ণা। তিনি বলেন, আমরা দেশের জন্য যে বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ে আসছি সে হিসেবে সমাজে সম্মান দেয়া হলে খুব ভালো লাগবে। তবে গার্মেন্টে কাজ করায় মানুষ কি মনে করে তার চেয়ে বড় বিষয় হলো বেঁচে থাকার জন্য দ্রুত একটি চাকরি দরকার ছিল তার ব্যবস্থা হয়েছে। গার্মেন্টে চাকরি করে এখন সংসার চলছে, দুই ছেলের পড়াশোনা হচ্ছে। সুতরাং গার্মেন্টই আমার সব।
সামাজিকভাবে মূল্যায়নের অভাবে অনেক নারী পোশাক খাতে আসতে চান না। এ ধরনের প্রবণতা দেশের অর্থনীতি ও পোশাক খাতের উন্নয়নের পথে বাধা। তাই মানুষের মধ্যে গার্মেন্টে কাজ করা শ্রমিকদের ব্যাপারে ইতিবাচক ধারণা রাখতে হবে। পাশাপাশি তাদেরকে তাদের যথার্থ সম্মান দিতে হবে। এসব নারী শ্রমিকদের মাধ্যমে দেশ যে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করে তা স্মরণ করে হলেও সম্মান দেয়া প্রয়োজন।
