মেঘনায় একদিকে চলছে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকার বালু উত্তোলন আরেক দিকে চলছে নৌ-যান থেকে বিপুল অংকের চাঁদা আদায়। বালু উত্তোলনের ফলে ভাঙ্গনের হুমকির মুখে পড়েছে হিজলা উপজেলায় তিনটি ইউনিয়ন। আর চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ মেহেন্দীগঞ্জ পয়েন্ট দিয়ে যাতায়াতকারী নৌ-যান গুলো। দীর্ঘদিন ধরে প্রমত্তা মেঘনার বিশাল এলাকায় প্রভাবশালী চক্রের এ সব বে- আইনী কর্মকাণ্ড চললেও প্রশাসন নিরব রয়েছে।
মেঘনা নদীর হিজলা এলাকায় গত কয়েক বছর ধরে টোক বালু’র (লাল রংয়ের দামী বালু) সন্ধান পাওয়ার পর সেখানে চাঁদপুর, বরিশাল ও স্থানীয় একটি সংঘবদ্ধ চক্র রাতের অন্ধকারে বালু উত্তোলনের প্রতিযোগিতায় নামে। দিন রাত বালু উত্তোলন করায় বর্ষা শুরু হওয়ার সাথে সাথে দেখা দিয়েছে নদী ভাঙ্গন। উপজেলার গৌরবদী ইউনিয়নের সাওরা, গঙ্গাচরন কারিগাঁও মৌজা, সেকান্দার দলদী ও আলামপুর মৌজার কয়েক হাজার একর জমি ও শত শত বাড়িঘর মেঘনার করাল গ্রাসে বিলীন হতে চলেছে। হুমকির মুখে পড়েছে উপজেলার হিজলা- গৌরবদী, মেমানীয়া ও ধূলখোলা ইউনিয়নের গ্রামগুলো। এ ভাবে নদী ভাঙ্গন অব্যাহত থাকলে এ তিনটি ইউনিয়ন মেঘনা গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশংকা করছেন স্থানীয় গ্রামবাসীরা।
বালু উত্তোলনরত ড্রেজারে থাকা সুপারভাইজার জাহিদ হোসেন ইত্তেফাককে জানান - তারা অবৈধভাবে নয়, সরকারের অনুমোদন নিয়েই বালু উত্তোলন করছেন। তিনি জানান বরিশাল নগরীর জনৈক রুবেল মেসার্স হাসান হোসেন এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সে বরিশাল জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে বালু উত্তোলনের অনুমতি নিয়েছেন। পরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে রুবেলকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পোমা মৌজায় বালু উত্তোলনের জন্য। অথচ ঐ কাগজপত্র দিয়েই সে হিজলা এলাকায় অবাধে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে। রুবেলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি হিজলা এলাকায় বালু উত্তোলনের কথা অস্বীকার করে জানান- তার ড্রেজার সব মেহেন্দীগঞ্জের পোমা এলাকায়। হিজলায় তিনি কোন বালু উত্তোলন করছেন না। এ ব্যাপারে বালু মহাল ইজারা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক শহিদুল আলম জানান- ইজারা ভুক্ত এলাকার বাইরে অন্য এলাকায় বালু উত্তোলন করলে লাইন্সেস বাতিল করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হিজলায় যখন চলছে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহা- উত্সব তখন মেহেন্দীগঞ্জে চলছে নৌ-যান থেকে চাঁদা আদায়ের রমরমা বাণিজ্য। মেঘনার দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে মালবাহী কার্গো, ভেসেল, ট্যাংকার ও জাহাজ উপজেলার মল্লিকপুর পয়েন্টে মাঝ নদীতে নোঙ্গর করে যাত্রা বিরতি করে অপেক্ষা করতে থাকে। প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকা জুড়ে অসংখ্য জাহাজ নোঙ্গর করে রাখতে দেখা গেছে। এ সব জাহাজ থেকে চারশ হতে ৫শ টাকা করে চাঁদা আদায় করে স্থানীয় একটি চক্র। নৌ-যান চালকরা জানান- নোঙ্গর না করলেও জলদস্যুদের মত ট্রলার বা দ্রুতগামী নৌ-যান নিয়ে চাঁদাবাজরা এসে টাকা নিয়ে যায়। তাদের দাবিকৃত ৫শ টাকা না দিলে পরিমাণ আরো বেড়ে যায়। টাকা না দিয়ে ঐ এলাকা অতিক্রম করা কোন নৌ-যানের পক্ষেই সম্ভব হয় না। বিভিন্ন জলযানের চালক ও নাবিক জানান- চাঁদা আদায়কারীরা নিজেদের শাসক দলের লোক পরিচয় দিয়ে টাকা আদায় করছে। এক্ষেত্রে এসেছে মিঠু চৌধুরী, রাজু মেম্বার, বেল্লাল ভান্ডারি, রোমান মোল্লার নাম। চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে সেখানকার একাধিক গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।
নৌ-যান থেকে চাঁদা আদায় ও মেঘনার নিয়ন্ত্রণ রাখার অভিযোগ অস্বীকার করে নুরুল ইসলাম মিঠু চৌধুরী জানান, স্থানীয় বেকার যুবকরা নৌ-যানগুলো পাহারা দিচ্ছে যাতে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। আর নৌ-যান চালকরা খুশি হয়েই টাকা দিচ্ছে। জোরজবরদস্তির অভিযোগ সত্য নয় বলে মিঠু দাবি করেন।
মেহেন্দিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রিয়াজ হোসেন জানান- নৌ-যান মালিক বা চালকরা অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
