বিশেষজ্ঞ ডাক্তার সংকটে রোগীশূন্য হাসপাতাল

আপডেট : ১১ মে ২০১৪, ২১:৪৫
চট্টগ্রামে গ্রামাঞ্চলের সরকারি হাসপাতালে অধিকাংশ সিট খালি পড়ে রয়েছে। জ্বর, সর্দির চিকিত্সা ছাড়া উন্নত কোন চিকিত্সা মেলে না। ১৩০টি বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের সৃষ্ট পদের মধ্যে ৭০টি পদই শূন্য। পদায়ন করেও বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকদের গ্রামের এসব হাসপাতালে নেয়া যাচ্ছে না। ফলে রোগীরা উন্নত চিকিত্সার জন্য ভিড় জমাচ্ছে শহরের হাসপাতালে। চট্টগ্রামে উপজেলার ১৪টি হাসপাতালে সরকার অনুমোদিত রোগীর সিট রয়েছে ৬২৪টি। এর ফলে রেফারেল হাসপাতাল চট্টগ্রাম মেডিক্যালে রোগীর চাপ বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। চট্টগ্রাম জেলায় ১৪টি উপজেলার মধ্যে ১৬টি সরকারি হাসপাতাল রয়েছে। গ্রামের মানুষের চিকিত্সা সেবা নিশ্চিত করতে এসব হাসপাতালকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। চারটি মাত্র ৩১ শয্যার হাসপাতাল রয়েছে। জনবলের অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী সৃষ্ট পদে নিয়োগও দেয়া হয়েছে। কিন্তু মেডিক্যাল অফিসার ছাড়া কনসালটেন্টদের পদায়ন করলেও কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছে। চাকরি ছেড়ে দিতে প্রস্তুত তবুও গ্রামের হাসপাতালে যোগদান করছে না বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা। অনেকেই গ্রামের হাসপাতালে পদায়ন করা হলেও শহরের হাসপাতালে সংযুক্তি দেখিয়ে অনুপস্থিত রয়েছে। রাজনৈতিক তদবিরের কারণে অনুপস্থিত চিকিত্সকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেয়া যাচ্ছে না। সূত্র জানায়, উপজেলা পর্যায়ে সরকারি ৫০ শয্যার হাসপাতালে বিভিন্ন বিষয়ে জুনিয়র কনসালটেন্টের পদ রয়েছে ১০টি, সহকারী সার্জনের পদ রয়েছে ৭টি, আরএমও ১ জন, মেডিক্যাল অফিসার ২ জন। আর ৩১ শয্যার হাসপাতালে চিকিত্সকের সৃষ্ট পদ ৫০ শয্যার অর্ধেক। মেডিসিন, সার্জারি, এনেসথেসিয়া, গাইনী, শিশু, অর্থোপেডিক্স, কার্ডিওলজি, চক্ষু, ইএনটি, চর্ম ও যৌন বিষয়ে একজন করে কনসালটেন্টের সৃষ্ট পদ রয়েছে। কিন্তু এসব বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকদের সেবা পাচ্ছে না গ্রামের রোগীরা। প্রাথমিক চিকিত্সা ছাড়া উন্নত কোন চিকিত্সা পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে গ্রামের এসব রোগীরা উন্নত চিকিত্সার জন্য শহরের হাসপাতালে ভিড় জমাচ্ছে। সিভিল সার্জন অফিস জানায়, উপজেলার হাসপাতালে প্রায় ১৩০টি বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের সৃষ্ট পদ রয়েছে। এসব পদের মধ্যে প্রায় ৭০ জনের পদ শূন্য রয়েছে। অনেক হাসপাতালে গাইনী ও শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের পদ শূন্য থাকায় এসব এলাকায় রোগীরা সরকারি চিকিত্সা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সক সংকটে রোগীরা চিকিত্সা পাচ্ছে না। এই দ্বীপ এলাকায় কোন চিকিত্সককে পদায়ন করেও রাখা যাচ্ছে না। এখানে ৩১ ও ২০ শয্যার দু’টি হাসপাতাল রয়েছে। এসব হাসপাতালে মেডিসিন, সার্জারি, গাইনী, এনেসথেসিয়ার কোন বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক নেই। এমনকি আরএমও, সহকারী সার্জন ও মেডিক্যাল অফিসারের পদও শূন্য রয়েছে। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের চরম সংকট রয়েছে। এই হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের ১০টি পদের মধ্যে ৭টি শূন্য। পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চট্টগ্রাম শহরের অতি নিকটে। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের ৭টিই পদ শূন্য রয়েছে। অথচ পটিয়ায় সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম শহর থেকে অসংখ্য বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক গিয়ে প্রাইভেট চেম্বারে চিকিত্সা দিয়ে থাকে। প্রতিটি হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক সংকট বিরাজ করছে। সরকার নতুন হাসপাতাল নির্মাণ ও শয্যা বর্ধিত করলেও গ্রামের মানুষ সরকারি উদ্যোগের সুফল পাচ্ছে না। গ্রামের এসব হাসপাতালে উন্নত চিকিত্সা সরঞ্জাম বলতে রয়েছে ইসিজি ও এক্স-রে মেশিন। কিন্তু এগুলো অধিকাংশ নষ্ট অথবা টেকনিশিয়ান না থাকায় রোগীরা সেবা পাচ্ছে না। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সরফরাজ খান চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, ‘সরকারি উদ্যোগের সুফল জনগণ পাচ্ছে না। হাসপাতালগুলোতে চিকিত্সক ও চিকিত্সা সরঞ্জামের অপ্রতুলতা রয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকদের পদায়ন করা হলেও অনুপস্থিত থাকছেন।’