ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বদল হয়
মানুষের পোশাক। গরমের কথা মাথায় রেখে
সবাই চান আরামদায়ক ও ফ্যাশনেবল পোশাক
পরতে। এ জন্যই সকলের ভরসা সুতি
কাপড়ের পোশাকে। সাথে রয়েছে ব্লক প্রিন্টের
সমাহার। এই গরমে আরামদায়ক
পোশাকের সমন্বয় ঘটতে এবার
আপনাদের জন্য রইল কিছু পরামর্শ।
লিখেছেন নওশীন শর্মিলী
চৈত্রের দুপুরে রোদের তাপ অসহনীয় মনে হয়। ঘামও হয় খুব। ফলে স্বাভাবিক সৌন্দর্য ধরে রাখতে সবাইকে একটু সতর্ক থাকতে হয়। তা ছাড়া রোদের তাপে ভয় পেয়ে তো আর ঘরে বসে থাকার জো নেই, তাই এ সময় যত আরামের পোশাক পরা যায়, ততই ভালো লাগবে। সুতি পোশাক সহজে ঘাম শুষে নেয়। তা ছাড়া প্রাকৃতিক তন্তুর তৈরি বলে মসৃণও হয়। গরমে সাদামাটা নকশার পোশাক বেছে নেওয়া ভালো। ফ্যাশন ডিজাইনাররা মনে করেন, যে পোশাকটা দেখতে ভালো লাগে, সেটা পরেও আরাম। তাই এ সময়ের পোশাকের রং হবে হালকা। হালকা নীল, সাদা, গোলাপি, হালকা বেগুনি, আকাশি ও লেবু রঙের পোশাক তৈরি করেছেন তারা। সুতি, ভয়েল ও সুতি এন্ডি কাপড়ের ওপর ছাপা ও হালকা কারুকাজ করা পোশাকগুলো খুব আরামদায়ক। সুতি কাপড় মূলত প্রকৃতি থেকে প্রাপ্ত। সুতির মূল উপাদান সুতা আসে কার্পাস তুলা থেকে। নরম এ উপাদানগুলোকে পরিণত করা হয় শক্ত সুতাতে। মজবুত ও মসৃণ করা হয় স্পিনিং ও নিটিংয়ের মাধ্যমে। এসব মসৃণ সুতা দিয়েই তৈরি হয় সুতি কাপড়। এর সঙ্গে কিছু প্রাকৃতিক ও রাসায়নিক উপাদানের মিশ্রণ করে তৈরি করা হয় সুতির বিবর্তিত রূপ। যা আমরা লিনেন, ফ্লানেল, অ্যান্ডি প্রভৃতি কাপড় হিসেবে চিনি। উত্কৃষ্টমানের সুতি কাপড়ের দেশ মিসর। কারণ মিসরের নীল-নদের উপত্যকায় তৈরি কাপড়ই সবচেয়ে উত্কৃষ্টমানের সুতি কাপড়। এছাড়া কয়েক বছর ধরেই কমবেশি চল রয়েছে ব্লক প্রিন্টের। গত বছর কিছুটা কমলেও এ বছর আবার এর চাহিদা বেড়েছে। গরম আবহাওয়াই এর অন্যতম কারণ। ব্লক প্রিন্ট সাধারণত সুতি কাপড়ের ওপরই করা হয়। খুব বেশি জবরজং নকশা ও কাজ থাকে না। ফলে গরমে আরাম খুঁজতে মেয়েরা বেছে নিচ্ছে এই পোশাক। গরমে কেউই জাঁকজমক পোশাক পরতে চান না। তবে লন কাপড়ের নকশার একটা প্রভাব থাকছে এ সময়ের ব্লক প্রিন্টের পোশাকে। বাজার ঘুরে দেখা গেল, হালকা রং, যেমন—লেবু রং, কচুপাতা সবুজ, হালকা ফিরোজা, হালকা গোলাপি ও সাদার মধ্যে বিভিন্ন রঙের মোটিফ ব্যবহার করা হচ্ছে। আবার উজ্জ্বল রঙের কামিজ হলে সালোয়ার-ওড়না হচ্ছে সাদা রঙের। কোনোটাতে থাকছে ফুলেল মোটিফ, কোনোটাতে জ্যামিতিক নকশা ও ফুলেল মোটিফের মিশেল। ব্লক প্রিন্টের কামিজে হাতায় ও ওপরের অংশে জ্যামিতিক নকশা থাকলে নিচের দিকে ফুলেল নকশা ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ছাড়া কলকা নকশা কামিজে ব্যবহার করা হলে সালোয়ার ও ওড়নায় জ্যামিতিক নকশার চল রয়েছে। ব্লক প্রিন্টেও ফিউশন হচ্ছে। তবে কামিজের ঝুল বেশি এবং কাটিংয়ে এক ছাঁট চলছে; সঙ্গে থ্রি-কোয়ার্টার বা ফুলহাতা।
ফ্যাশন হাউসগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে সব ধরনের সুতি কাপড়। আপনি চাইলে যেকোনোটি কিনতে পারেন। দেশীয় ফ্যাশন হাউসসহ নগরের চাঁদনি চক, গাউছিয়া ও নিউমার্কেটে পাবেন সুতি কাপড়ের বর্ণিল সমাহার। এখানে আরও পাবেনথ ভয়েল, পপলিন, তাঁত, সুতির মিশেলসহ বিভিন্ন ধরনের কাপড়। এর মধ্যে এমব্রয়ডারি, স্ক্রিনপ্রিন্ট, ব্লক, এমবোস করে কাপড়ে আনা হয়েছে বৈচিত্র্য। নকশা ও বুননের পাশাপাশি কোমল রঙে সুতি কাপড়গুলোকে করেছে আরও আরামদায়ক।
ভয়েল কাপড় পাবেন ৮০-২৫০, বেক্সি কাপড় ৯০-২৫০, চায়নিজ পপলিন ৮০-২৩০, চায়না কটন ২১০-৩৯০, মলমল কটন ২৫০-৩৫০, বিজিলিজ কটন ২০০-৩৫০, মার্সেলাইজ কটন প্রিন্ট ৮৫০-১১৫০, কটন জামদানি ২৯০-৪৫০, ভেলভেট কটন ৩৫০-৫৫০, মোগলে আজম ৬৫০-৮৫০, শিফন ওড়না ১২০-৩৫০, তাঁতের কাপড় ১৪০-৩৫০ ও বাটিক ৯০-৩৫০ টাকায়।
