এ সময়ে থ্রি-কোয়ার্টার

আপডেট : ১২ মে ২০১৪, ১৯:৫৮
ভ্যাপসা গরমে যখন চারদিক অস্বস্তিতে রয়েছে তখন প্রয়োজন খানিকটা স্বস্তি। আর এই স্বস্তি পেতে সকলের পছন্দ থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট। এ নিয়ে রইল কিছু আলোচনা— ঋতুর পালাবদলে এসেছে গরমকাল। শহর-কিংবা গ্রামে এখন সূর্যের ব্যাপক আধিপত্য। তাই মানব জীবনে গরমের উপযোগী পোশাক অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফ্যাশনপ্রেমীদের কাছে এই গরমকাল সব সময়ই একটি আকর্ষণীয় ঋতু। অবশ্য প্রয়োজনের তাগিদেও এ সময় নতুন পোশাক কিনতে হয়। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে মানুষের রুচির পরিবর্তন হচ্ছে। তাই পোশাকে লাগছে আধুনিকতার ছোঁয়া। এবারের গরমে ক্রেতাদের চাহিদার শীর্ষে আছে থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট। আর এর সাথে টি-শার্ট যেন না হলেই নয়! এই গরমে বাসায় প্যান্ট বা ট্রাউজার পড়ে থাকাটা অস্বস্তিরই বটে। অনেকেই আবার সাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না লুঙ্গিতে। তাই তরুণ-তরুণীদের প্রথম পছন্দ থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট। ঘরে কিংবা ঘরের বাইরে। সব জায়গাতেই পরিধানযোগ্য এই প্যান্ট। দমফাটা এই গরমে খেলতে, ঘুরতে-বেড়াতে, কাজে কিংবা সকালের জকিংয়ে; সব জায়াগাতেই যেন অপরিহার্য এই পোশাকটি। বর্তমান বাজারে নানা ধরনের কাপড়ের প্যান্ট রয়েছে তরুণদের জন্য। তবে জিন্স এবং সুতির প্যান্ট চলছে ভালো। এদের মধ্যেও রয়েছে নানা ডিজাইন। কোনো প্যান্টের দুই পাশে দুই পকেট দেওয়া, আবার কোনোটিতে রয়েছে দুটির বেশি পকেট। ভ্রমণের উপযোগী প্যান্টে রয়েছে অতিরিক্ত পকেট। যেখানে প্রয়োজনীয় সব ধরনের জিনিসই রাখা যাবে সহজে। বেশির ভাগ প্যান্টের রংই হালকা ধাঁচের। সাদা, ঘিয়ে, ধূসর, হালকা নীল, বাদামী, অফ হোয়াইটসহ সব রঙেরই পাওয়া যায়। থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্টের দাম কেমন হবে তা আকৃতির ওপর নির্ভর করে। যদি হাঁটু পর্যন্ত চান, তাও পাবেন, আবার হাঁটু থেকে সামান্য নিচে চাইলে তাও পাবেন। বাজারে ঘুরলেই চোখে পড়বে নানা বয়সীদের জন্য রয়েছে নানা ধরনের ডিজাইনের প্যান্ট। বিশেষ করে তরুণদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে রয়েছে থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট। স্কুলগামী বাচ্চা থেকে শুরু করেত তরুণ ছেলেমেয়ে সবাইকে কমবেশি দেখা যায় এই পোশাকে। এই গরমে নোঙর তৈরি করেছে এক রঙের কিংবা একাধিক রঙের থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট। এ প্রসঙ্গে নোঙরের কর্ণধার, আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ক্রেতাদের কথা ভেবে বছরের প্রতিটি সিজনেই আমরা পোশাক তৈরি করি। সে ধারাবাহিকতায় এবার গরমেও আমরা রং-বেরঙের থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট তৈরি করেছি। এর সাথে মানানসই বিভিন্ন রঙের টি-শার্ট ও পোলো শার্টও করেছি। ক্রেতামহলে বেশ সাড়া পাচ্ছি। পাইকারি দোকানীদের কাছ থেকেও ভালো সাড়া মিলছে।’ নোঙরের আরেক কর্ণধার ববি বলেন, ‘ইদানীং কিশোর-কিশোরীরা থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্টের দিকে বেশি ঝুঁকছে। আর এই প্যান্টের সাথে বেশ মানানসই টি-শার্ট। তেমন কিছু টি শার্ট ও পোলো শার্টও এবার করেছি। ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে এর চাহিদা বেশ ভালো। তাছাড়া নোঙর সবসময়ই কাপড়ের প্রতি বেশ যত্নবান। আমাদের বিশ্বাস, গত ছয় বছর ধরে সবার যে উত্সাহ পেয়েছি, সেটাকে সঙ্গী করে ভবিষ্যতেও সফলতার সাথে ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে পারব।’ নোঙরে গড়ে ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকায় থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট এবং এর সাথে যুত্সই ৩০০ টাকায় মধ্যে পাওয়া যাবে রং-বেরঙের নানা ডিজাইনের টি-শার্ট। আর পোলো শার্ট কিনতে ক্রেতাদের গুণতে হবে ৫০০ টাকা। এছাড়াও এসব প্যান্টের দেখা মিলবে ঢাকার নিউমার্কেট ছাড়াও দেশের অধিকাংশ বিপণী বিতানে। আর যদি নিজে বানাতে চান তাহলে ইসলামপুরে রয়েছে এসব কাপড়ের দোকান। রাজধানীর বঙ্গবাজার, গুলিস্তান, নিউমার্কেট, মিরপুর, উত্তরা প্রভৃতি এলাকায় কিনতে পাওয়া যাবে এসব প্যান্ট। বিভিন্ন শোরুমে থেকে পছন্দ করে কিনতে চাইলে যেতে পারেন ওটু, আর্টিস্টি, ফ্রিল্যান্ড, প্লাস পয়েন্ট, বিগ বস, একস্ট্যাসি, ওয়েসটেকস, মেনস ক্লাবে। ব্র্যান্ডের থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট কিনতে আপনাকে গুনতে হবে ৫০০ থেকে এক হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত। তবে সাধারণ দোকান থেকে কিনলে দাম পড়বে ৩৫০-৮০০ টাকা। বাচ্চাদের থ্রি-কোয়ার্টারের দাম ৮০-১২০ টাকা। মেয়েদের থ্রি-কোয়ার্টার ৮০-২২০ টাকা। ক্যাটস আইয়ের প্রতিটি থ্রি-কোয়ার্টার ২২০-৩৩০ টাকা। নিউমার্কেটের দোতালা, চন্দ্রিমা মার্কেট ও ধানমন্ডির হকারস মার্কেট ও নুরজাহান ম্যানশনে রয়েছে শর্ট-ট্রাউজার, থ্রি-কোয়ার্টারের সমাহার। তবে এখান থেকে কিনতে হলে আপনাকে দরদাম করায় বেশ পারদর্শী হতে হবে। মডেল লিমন