দীর্ঘকাল ধরে শুষ্ক আবহাওয়া ও অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের কারণে খরা হয়
সি এম মিরাজুল ইসলাম
প্রভাষক
ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ
জলবায়ু এবং দুর্যোগ
প্রশ্ন-২: খরা কী? খরা সৃষ্টির কারণ কী? খরার প্রভাবে কী ঘটে?
উত্তর: খরা একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এর প্রভাবে মানুষ ও পরিবেশের ওপর বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে।
খরা: দীর্ঘকাল ধরে শুষ্ক আবহাওয়া ও অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের কারণে খরা হয়।
খরা সৃষ্টির কারণ: খরার সৃষ্টি কারণগুলি হচ্ছে–
i. অতিরিক্ত জনসংখ্যা বৃদ্ধি।
ii. অপরিকল্পিত উন্নয়ন।
iii. নদ-নদী ভরাট হওয়া।
iv. গাছপালা কেটে ফেলা
v. বায়ু দূষণ ইত্যাদি
খরার প্রভাব: খরার ক্ষতিকর প্রভাবগুলি হচ্ছে–
i. খরাপীড়িত অঞ্চল তপ্ত হয়ে উঠে।
ii. কুয়া, খাল, বিল শুকিয়ে যায়।
iii. ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নীচে নেমে মাটির আর্দ্রতা কমে যায়।
iv. অত্যাধিক গরমে শিশুরা বিদ্যালয়ে যেতে পারে না ও ঠিকমতো পড়ালেখা করতে পারে না।
v. অনেকে জ্বর, ডায়রিয়া, হাম, ইনফ্লুয়েঞ্জা, আমাশয়সহ নানা অসুখে আক্রান্ত হয়।
প্রশ্ন-৩: জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ কী? বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বর্ণনা কর।
উত্তর: বাংলাদেশের জলবায়ু উষ্ণ ও আর্দ্র। এখানে মৌসুমি বায়ুর প্রাধান্য আছে। বিভিন্ন কারণে এদেশের জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটে।
প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট কারণে জলবায়ু পরিবর্তিত হয়। বিশ্বব্যাপী নানা কারণে জলবায়ু পরিবর্তিত হচ্ছে। যেমন- কলকারখানার বর্জ্য, যানবাহনের কালো ধোঁয়া, বনভূমি ও নদ-নদী ধ্বংস, জলাধার ভরাট করা ইত্যাদি প্রাকৃতিক পরিবেশের উপর প্রভাব ফেলে। এর ফলে বিশ্বের তাপমাত্রা বেড়ে বরফ গলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে যায়। এভাবে মানুষের বিভিন্ন ধরনের কর্মকান্ডে জলবায়ু পরিবর্তন ঘটে।
প্রশ্ন-২: নদী ভাঙনের কারণ বর্ণনা কর।
উত্তর: বাংলাদেশের প্রধান দুর্যোগগুলোর মধ্যে নদী ভাঙন একটি অন্যতম দুর্যোগ। সাধারণত নদীর তীরবর্তী অঞ্চলের মানুষ এ দুর্যোগের শিকার হয়ে থাকে।
নদী ভাঙনের জন্য প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট উভয় কারণই দায়ী।
নদী ভাঙনের প্রাকৃতিক কারণ হচ্ছে–
১.মারাত্মক বন্যা নদী ভাঙনের অন্যতম প্রধান কারণ।
২.জোয়ার-ভাটা। ৩.ভূমিকম্প ইত্যাদি।
নদী ভাঙনের মানবসৃষ্ট কারণ:
১. অপরিকল্পিত নদী খনন ২. বালু উত্তোলন
৩. নদীর তীরবর্তী গাছপালা কাটা ইত্যাদি।
বাংলাদেশে প্রতিবছর নদীর তীরবর্তী অঞ্চলের লক্ষ লক্ষ মানুষ এ দুর্যোগের শিকার হয়ে থাকে। এর ফলে অনেক মানুষ সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ে।
অ্যানোফিলিস মশার কামড়ে ম্যালেরিয়া হয়
এ.এইচ.এ.সায়েদুজ্জামান
সহকারি শিক্ষক (গণিত ও বিজ্ঞান)
উইল্স লিট্ল ফ্লাওয়ার স্কুল এণ্ড কলেজ
ঢাকা
সুপ্রিয় শিক্ষার্থীরা, এখন অর্ধ-বার্ষিক পরীক্ষার সময়। তাই আজ তোমাদের জন্য বিজ্ঞানের ৭ম অধ্যায়ের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও তার উত্তর দেওয়া হলো ঃ
১। সুষম খাদ্য কাকে বলে ?
উত্তর ঃ যে খাদ্যে ছয়টি উপাদান সঠিক পরিমাণ মতো থাকে তাকে সুষম খাদ্য বলে।
২। সংক্রামক রোগ কী ?
উত্তর ঃ সংক্রামক রোগ হলো এমন এক ধরনের রোগ যা একজনের দেহ থেকে অন্যজনের দেহে সহজেই বিস্তার লাভ করার মাধ্যমে কোনো এলাকায় খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
৩। বয়ঃসন্ধিকাল কী ?
উত্তর ঃ ছেলে ও মেয়েদের দশ বছরের পর থেকে উনিশ বছর বয়স পর্যন্ত সময়কে বয়ঃসন্ধিকাল বলা হয়।
৪। বায়ুবাহিত রোগ কাকে বলে ?
উত্তর ঃ যেসব রোগের জীবাণু বায়ুর মাধ্যমে ছড়ায় তাকে বায়ু বাহিত রোগ বলে।
৫। বায়ুবাহিত রোগের জীবাণু কখন জীবদেহে প্রবেশ করে ?
উত্তর ঃ বায়ুবাহিত রোগের জীবাণু শ্বাস গ্রহণের জীবদেহে প্রবেশ করে।
৬। পানিবাহিত রোগ কাকে বলে ?
উত্তর ঃ যেসব রোগের জীবাণু পানির মাধ্যমে ছড়ায় তাকে পানি বাহিত রোগ বলে।
৭। কোন ধরনের মশার কামড়ে ম্যালেরিয়া হয় ?
উত্তর ঃ রোগজীবাণু বহণকারী স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশার কামড়ে ম্যালেরিয়া হয়।
৮। বাতজ্বর রোগের ভাইরাসের নাম কী ?
উত্তর ঃ বাতজ্বর রোগের ভাইরাসের নাম স্ট্রেপটোকক্কাস।
৯। ডায়রিয়া কী ?
উত্তর ঃ ডায়রিয়া হলো পানি ও খাদ্যবাহিত একটি মারাত্মক রোগ।
১০। সোয়াইন ফ্লু রোগের ভাইরাসের নাম কী ?
উত্তর ঃ সোয়াইন ফ্লু রোগের ভাইরাসের নাম এইচ ওয়ান এন ওয়ান ।
১১। যক্ষ্মা রোগীর জীবাণু কিসের মাধ্যমে বাতাসে ছড়ায় ?
উত্তর ঃ যক্ষ্মা রোগীর জীবাণু কফ, থুথু, হাঁচি-কাশির মাধ্যমে মাধ্যমে বাতাসে ছড়ায়।
১২। এডিস মশা সাধারণত কখন কামড়ায় ?
উত্তর ঃ এডিস মশা সাধারণত সকাল ও সন্ধ্যার পূর্বে কামড়ায়।
যোগ্যতাভিত্তিক প্রশ্নোত্তর
সুপ্রিয় শিক্ষার্থীরা, আজ তোমাদের জন্য কিছু যোগ্যতাভিত্তিক প্রশ্ন ও তার উত্তর দেওয়া হলো ঃ
১। ৫ বছর পূর্বে পিতা ও পুত্রের বয়সের সমষ্টি ৬২ বছর ছিল। পিতার বর্তমান বয়স পুত্রের বর্তমান বয়সের ৩ গুন ।
ক) কয় মাসে এক বছর ?
খ) পিতা ও পুত্রের বর্তমান বয়সের সমষ্টি কত ?
গ) পিতা ও পুত্রের বর্তমান বয়সের সমষ্টি পুত্রের বর্তমান বয়সের কত গুণ?
ঘ) পুত্রের বর্তমান বয়স কত ?
ঙ) পিতার বয়স পুত্রের বয়স অপেড়্গা কত বেশি ?
সমাধান ঃ
ক) ১২ মাসে এক বছর ।
খ) পিতা ও পুত্রের বর্তমান বয়সের সমষ্টি
= {(৬২+(৫+৫))} বছর
=(৬২+১০) বছর
=৭২ বছর ।
গ) পুত্রের বর্তমান বয়স = পুত্রের বর্তমান বয়সের ১ গুন ।
পিতার বর্তমান বয়স = পুত্রের বর্তমান বয়সের ৩ গুন।
পিতা ও পুত্রের বর্তমান বয়সের সমষ্টি = পুত্রের বর্তমান বয়সের ৪ গুন
ঘ) পুত্রের বর্তমান বয়সের ৪ গুন = ৭২ বছর
পুত্রের বর্তমান বয়স = (৭২ ৪) বছর = ১৮ বছর
ঙ) পিতার বর্তমান বয়স = (১৮ ৩) বছর = ৫৪ বছর
পিতার বয়স পুত্রের বয়স অপেক্ষা (৫৪-১৮) বছর বা ৩৬ বছর বেশি।
উত্তরঃ ৩৬ বছর বেশি।
