স্মার্ট কার্ডের জাতীয় পরিচয়পত্র হারালে টাকা ছাড়া সেটি পাওয়া যাবে না। প্রথমবার হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হলে ৫শ’ টাকা, দ্বিতীয়বারের জন্য এক হাজার টাকা এবং পরবর্তী যে কোন বারের জন্য দুই হাজার টাকা নির্বাচন কমিশন সচিবের অনুকূলে জমা দিতে হবে নতুন পরিচয় পত্র পাওয়ার জন্য। তবে জরুরি ভিত্তিতে পরিচয়পত্র পেতে হলে চার হাজার টাকা লাগবে। আর নবায়ন করতে হলে আড়াইশ’ টাকা দিতে হবে। কিন্তু প্রথমবারের জন্য কাউকে কোন টাকা দিতে হবে না। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রণীত জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন বিধিমালা-২০১৪ খসড়ায় এ বিধান রাখা হয়েছে। এ সংক্রান্ত খসড়া ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠায় কমিশন। গত সাত মে কিছু অভিমতসহ মন্ত্রণালয় বিধিমালাটি নির্বাচন কমিশনে ফেরত পাঠায়। এতে বলা হয়েছে, স্মার্ট কার্ড নবায়ন ও হারিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে যে ফিস ধার্য করা হয়েছে তার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি প্রয়োজন।
স্মার্ট কার্ড প্রসঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক সুলতানুজ্জামান মো. সালেহ উদ্দীন ইত্তেফাককে বলেন, প্রথমবার বিনামুল্যে স্মার্ট কার্ড দেয়া হবে। নবায়ন, হারানো বা নষ্ট হলে নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে নতুন কার্ড নিতে হবে। মূলত উন্নতমানের এই কার্ডের সুরক্ষার জন্য এই বিধান করা হয়েছে। আগামীতে একজন ভোটার ওয়েবসাইটে লগ-ইন করে নিজের তথ্য দেখতে পাবেন। এজন্য সফটওয়ার ডেভেলপ করা হচ্ছে।
আইডিয়া নামের প্রকল্পের (আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যান্সিং অ্যাক্সেস টু সার্ভিসেস) আওতায় এ বছরের শেষদিকে সব নাগরিকদের পর্যায়ক্রমে স্মার্ট কার্ড দিতে চায় কমিশন। এ জন্য বাংলাদেশ সরকার ২০১১ সালের ২১ জুলাই বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ১ হাজার ৩৭৯ কোটি টাকার একটি ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর করে। স্মার্ট কার্ড প্রদানের জন্য কমিশন যে জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন বিধিমালার খসড়া করেছে তাতে প্রথমবারের মতো অনলাইনে ভোটার হওয়ার সুযোগ থাকছে। কমিশনের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে ভোটার হওয়ার আবেদন করার সুযোগ থাকবে। এমনকি যারা ভোটার তালিকাভুক্ত নন তারাও স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। প্রায় দুইশ’ টাকা মূল্যের স্মার্টকার্ড প্রথমে সব নাগরিককেই বিনামূল্যে বিতরণের পরিকল্পনা নিয়েছে কমিশন। কার্ডের মেয়াদ হবে অন্তত ১০ বছর।
ইসির জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগ থেকে বলা হয়, জাতীয় পরিচয়পত্রের জালিয়াতি রোধে নাগরিকদের দেয়া হবে যন্ত্রে পাঠযোগ্য জাতীয় পরিচয়পত্র তথা স্মার্টকার্ড। দেশে তৈরি দীর্ঘমেয়াদি এ কার্ডের প্রাথমিক ব্যয় হচ্ছে প্রায় দুইশ’ টাকা। টেকসই ও সুন্দর অবয়বে এ কার্ড নানা কাজে ব্যবহার করা যাবে। বর্তমানে এক পৃষ্ঠায় নাম, পিতা ও মাতার নাম, জন্মতারিখ ও আইডি নম্বর এবং অপর পৃষ্ঠায় ঠিকানা-সংবলিত লেমিনেটিং করা কার্ড পাচ্ছেন ভোটাররা। স্মার্ট কার্ডে নাগরিকের সব তথ্য থাকবে। তবে ভোটারদের সবাইকে পর্যায়ক্রমে স্মার্ট কার্ড দিতে চায় কমিশন।
বর্তমানে ৯ কোটি ২০ লাখের বেশি নাগরিক ভোটার তালিকাভুক্ত রয়েছেন। সর্বশেষ হালনাগাদ কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত লাখ দশেক ভোটার এখনো জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে পারেননি। এর আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালে এটিএম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশন সেনাবাহিনীর সহায়তায় ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণের কাজ শুরু করে। দেশের সব নাগরিককে জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়ার বিধান রেখে গত বছর ৬ অক্টোবর ‘জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন (সংশোধন) বিল, ২০১৩’ সংসদে পাস হয়। আইনে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় নাগরিকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা তথ্য-উপাত্ত তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে সংরক্ষণ ও গোপনীয়তা রক্ষার বিধান রাখা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা নির্বাচন কমিশনের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী বিনা অনুমতিতে ভোটার তালিকা বা জাতীয় পরিচয়পত্র-সংক্রান্ত তথ্য বা উপাত্তের বিষয়ে গোপনীয়তা লঙ্ঘন করলে শাস্তি সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা।
টাকা দিয়ে স্মার্ট কার্ড নবায়ন প্রসঙ্গে সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজমুদার ইত্তেফাককে বলেন, প্রথমবার বিনামুল্যে কার্ড দেয়ার উদ্যোগটি ভালো। তবে পরবর্তী ধাপে যে ফিস নির্ধারণ করা হয়েছে তা যৌক্তিক পর্যায়ে আনতে হবে।
