আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাবে না ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। গতকাল বুধবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সাক্ষাত্ শেষে ঢাকায় ইইউ’র রাষ্ট্রদূত রেন্সজে তেরিংক এ কথা জানিয়েছেন। এ দিকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আসছে না ইউরোপীয় পার্লামেন্টও।
গতকাল দুপুরে ইইউ রাষ্ট্রদূতের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনে যায় একটি প্রতিনিধিদল। পরে রাষ্ট্রদূত রেন্সজে তেরিংক বলেন, বাংলাদেশে নির্বাচনের ব্যাপারে ইইউ’র অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর ব্যাপক আগ্রহ ও চাপ রয়েছে। তবে কোথাও পর্যবেক্ষক মিশন পাঠাতে অনেক প্রস্তুতি ও সময়ের প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে কমপক্ষে ছয় মাস সময় লাগে। যথাযথ প্রস্তুতি না থাকায় আমরা পর্যবেক্ষক পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশের অনুরোধ রাখতে পারছি না। পর্যবেক্ষক না পাঠানোর সিদ্ধান্তটি ইইউ’র হেড কোয়ার্টার থেকেই এসেছে। প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ইইউ’র দুইজন বিশেষজ্ঞ ঢাকায় এসেছেন উল্লেখ করে তেরিংক বলেন, এ দুই বিশেষজ্ঞ ৪০ দিন বাংলাদেশে থাকবেন। এ সময় তারা নির্বাচনের সার্বিক প্রক্রিয়া দেখবেন। দুই বিশেষজ্ঞ হলেন, ডেভিড ওয়ার্ড ও এইরিনি মারিয়া কৌরানী।
নির্বাচন পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন খুবই চ্যালেঞ্জিং। ১০ কোটি ৪০ লাখ ভোটার ও ৪০ হাজারের বেশি ভোটকেন্দ্র একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ। আমরা আশা করছি, নির্বাচন খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতা পূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠু হবে।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টও পর্যবেক্ষণে আসছে না
জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আসছে না ইউরোপীয় পার্লামেন্টও। মঙ্গলবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য জানিয়েছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ‘গণতন্ত্র সমর্থন ও নির্বাচন সমন্বয়’ দলটির সহ-চেয়ারপার্সন ডেভিড ম্যাক আ্য্যলিস্টার এবং লিন্ডা ম্যাকআভান জানান, তারা এই নির্বাচনী প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবে না এমনকি ফলাফল নিয়ে কোনো ধরনের মন্তব্য করবেন না। এ ছাড়া, ইউরোপীয় ইউনিয়নেরও নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনও থাকবে না। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যদের কাউকে এই নির্বাচনী প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ বা নির্বাচনকে ঘিরে কোনো মন্তব্য করার দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। নির্বাচন প্রসঙ্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যদের যেকোনো ধরনের বিবৃতি ইউরোপীয় পার্লামেন্ট বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রতিনিধিত্ব করে না বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
আগামী সাধারণ নির্বাচনে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট, তাদের অবস্থান সম্পর্কে গত ১৫ নভেম্বর এক প্রস্তাবে উল্লেখ করেছিল বলে বিজ্ঞপ্তির বিশেষ দ্রষ্টব্যতে বলা হয়েছে। সেখানে তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, এবার শান্তিপূর্ণ, স্বচ্ছ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে। যাতে নাগরিকরা তাদের রাজনৈতিক মত প্রকাশ করতে পারবে। নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক দলগুলোকে কোনো সহিংসতা বা সহিংসতার উসকানি দেওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য আহ্বান জানায় ইউরোপীয় পার্লামেন্ট।
