বাস্তবমুখী ও বাস্তবায়নযোগ্য গণমুখী বাজেট চাই

আপডেট : ১৩ মে ২০১৪, ২১:৪১
আর অল্প কিছুদিন পরেই ঘোষিত হবে নতুন অর্থবছরের অর্থাত্ ২০১৪-১৫ এর বাজেট। এখন আগামী বাজেট নিয়ে জল্পনা-কল্পনা, আলোচনা, নানা ধরনের পরামর্শের পালা চলছে। আগামী অর্থবছরের বাজেটের আকার নিয়েও চলছে নানামুখী আলোচনা। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ইতোমধ্যে বলেছেন, নতুন বাজেটের আকার হবে ২ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকার। আর উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার হবে ৭৮ হাজার কোটি টাকা। প্রতি বছর বাজেট এলে অনেক কথা হয়। এবারও হচ্ছে। আগামী অর্থবছরে করের আওতা বাড়ানোর নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে পত্রপত্রিকায় খবর বেরিয়েছে। প্রবৃদ্ধির হার বাড়াতে হলে সরকারের আয় বৃদ্ধির বিকল্প নেই। আগামী বাজেটে জনগণের কাঁধে করের বোঝা বাড়বে বলে ইতিমধ্যে সবাই বেশ চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। কারণ করের পরিমাণ বাড়লেই স্বাভাবিকভাবে পণ্যসামগ্রী ও সেবার মূল্য বেড়ে যায়। এমনিতেই সাধারণ মানুষ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং বাড়িভাড়া বৃদ্ধির চাপে চরম অস্বস্তির মধ্যে আছেন। এ অবস্থায় করের বোঝা বাড়ানো মানেই জনসাধারণের জীবনযাপনকে আরো দুর্বিষহ করে তোলা। জাতীয় উন্নয়ন বাস্তবায়নের প্রধান মাধ্যম স্থানীয় সরকার হলেও দীর্ঘদিন ধরে এদিকে জাতীয় মনোযোগ নেই। দুর্বল জনবল কাঠামো, বাজেটে কম বরাদ্দ ও প্রয়োজনীয় তদারকির অভাবে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছে না। এ কারণে বছরের পর বছর ধরে অনেক জাতীয় উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় সরকারকে আরো শক্তিশালী করতে এখাতে বাজেটে অধিকতর বরাদ্দের তাগিদ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার বিশারদরা। সম্প্রতি এ সম্পর্কিত এক মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন জন আগামী বাজেটে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনা খাতে বরাদ্দের পরিমাণ ৫ শতাংশ করতে পরামর্শ দিয়েছেন। ওদিকে অর্থমন্ত্রীও আগামী বাজেটের ৫০ শতাংশেরও বেশি পরিমাণ জেলা পর্যায়ে বাস্তবায়নের বিষয়ে বিশেষ তাগিদ দিয়েছেন। যার মাধ্যমে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা অনেকটাই শক্তিশালী হয়ে উঠবে বলে মনে করেন তিনি। আগামীতে জেলাগুলোই হবে সকল উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু— তিনি বলেছেনও। দেশীয় শিল্পের বিকাশ এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্যে আগামী অর্থবছরের বাজেটে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরো কর ছাড় ও অব্যাহতি চেয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। সংগঠনটির পক্ষ থেকে আয়কর, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও আমদানি শুল্কের বিষয়ে মোট ৬১৭টি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বাজেট প্রণয়নের সময় অনেক ভালো ভালো কথা বলা হলেও সঠিকভাবে বাস্তবায়ন ও গুণগত মান ধরে রাখতে না পারায় দেশবাসী তার কোনো সুফল পায় না। বাজেট কতোটা কল্যাণমুখী তা দেখার আগে তা কতোটা বাস্তবমুখী এবং বাস্তবায়নযোগ্য তা বিবেচনা করতে হবে। বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য না রেখে বাজেট প্রণীত হলে তা যতোই উচ্চাভিলাষী হোক না কেন সাধারণ মানুষের কোনো কাজে আসে না, তাদের ভাগ্যেরও পরিবর্তন হয় না। বাজেট আসে, বাজেট যায়। কিন্তু সাধারণ মানুষ রয়ে যায় তার আগের অবস্থানেই। বাজেট প্রণয়নের সময় ভাবতে হবে নিজেদের সক্ষমতা সম্পর্কে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি এখন পৃথিবীব্যাপী আলোচনার বিষয় হলেও এখন পর্যন্ত বেশ অনেক ক্ষেত্রে আমরা কিছু কিছু সীমাবদ্ধতার বেড়াজালে বন্দি রয়েছি। সুশাসন প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে দুর্নীতির মূলোত্পাটন, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার বিকাশ, মানববম্পদ উন্নয়ন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণ এবং রাজস্ব আদায় ব্যবস্থা ত্রুটিমুক্ত, স্বচ্ছ এবং আধুনিক করতে না পারলে হাজার হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রণীত এবং ঘোষিত হলেও তা দেশের মানুষের মাথার ওপর চাপিয়ে দেওয়া বোঝা ছাড়া আর কিছু বলে গণ্য হতে পারে না। ঢাকা