পাবনার চাটমোহরের ডিকসি বিলে হঠাত্ পানি বাড়লে আবাদকৃত জমির ধান পানিতে ডুবে যায়। একই সঙ্গে ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ধানের ক্ষতি হয়েছে ব্যাপক। এতে ৫ শতাধিক বোরো চাষী ক্ষতির শিকার হয়েছে। গত তিন দিন ধরে ওই বিলে পানি বাড়লেও পানির উত্স নিশ্চিত করতে পারেনি উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর।
চাটমোহর উপজেলা সদর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরের এ বিল পাড়ে রয়েছে ১০টি গ্রাম। পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের ওই বিলে মোট জমির পরিমাণ ২ হাজার ২শ বিঘা। আবাদ হয় ১ হাজার ৮শ বিঘা জমিতে। ১০টি গ্রামের ৫ শতাধিক কৃষক এসব জমিতে বোরো ধানের আবাদ করে থাকে। সরেজমিনে দেখা গেছে, বিলে পানি থৈ থৈ করছে। বেশির ভাগ জমির ধান পানিতে ডুবে গেছে। বি-২৮ জাতের উচ্চ ফলনশীল ধানের শীষ কেটে নৌকায় তুলছে কৃষক। হঠাত্ করেই জমিতে পানি ঢুকে পড়ায় ওই এলাকায় ধান কাটা শ্রমিক ( কামলা) সংকট দেখা দিয়েছে। কোথায় থেকে কিভাবে পানি আসলো তা নিশ্চিত করে বলতে পারেনি কৃষকও। বিলে নিজের জমিতে ধান কাটতে এসেছেন এজাহার আলী। তার বাড়ি বিল পাড়ের পার্শ্বডাঙ্গা গ্রামে। এজাহার বললেন, ‘হঠাত্ করেই পানি ঢুকে ধান ডুবায়্যে ফালাইছে বাপু। কোন থ্যাকে পানি আসলো কেবা কইর্যা কবো। কয়েক দিন আগে বৃষ্টি হইছিলো, সেই পানি হইব্যের পারে।’ এজাহার আরো জানালেন, ‘৩ বিঘা জমিত ধান লাগাইছি। কামলা পাওয়া যাচ্ছে না, জমির অর্ধেক ধান দেওয়ার কথা কওয়ার পরও কোন লোক পাওয়া যাচ্ছে না। কোন রকম শীষ কাইট্যে ধান ঘরে তুইলব্যার পারলিই বাঁচি। কৃষি অফিসের কোন স্যার আসে নাই।’ ধান নিয়ে বিপাকের কথা আরো জানালেন ওই এলাকার ইচু আলী, কাদের, আনারসহ অন্যরা। এরা সবাই বিলে ধানের আবাদ করেছেন।
পার্শ্বডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল করিম তারেক বলেন, বৃষ্টির পানিতে এমনটা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি ভালো। বেশির ভাগ জমির ধান কাটা শেষ দিকে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রওশন আলম বলেন, আমি গত শুক্রবার ওই বিলে গিয়েছিলাম কোন পানি পাইনি। আর তেমন কোন বৃষ্টিও হয়নি। কোথায় থেকে পানি আসল তা এখনো নিশ্চিত ভাবে বলা যাচ্ছে না। আমি বিলে লোক পাঠিয়েছি। তিনি আরো বলেন, জোয়ারের পানি হতে পারে, ডেমড়া স্লুইস গেট দিয়েও পানি আসতে পারে। তবে শিলা বৃষ্টিতে বিলের বোরো ধানের বেশ ক্ষতি হয়েছে।
