লালবাগ কেল্লার পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু

আপডেট : ১৪ মে ২০১৪, ২৩:৩২
রাজধানীর লালবাগ কেল্লাসংলগ্ন তিনটি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালাচ্ছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর। গতকাল বুধবার বেলা ১১টায় অভিযান শুরু হয়। লালবাগ থানার ওসি নূরুল মোত্তাকিন জানান, লালবাগ কেল্লাসংলগ্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। যে কারণে যানবাহন চলাচলসহ পথচলায় অসুবিধা হয়। একইসাথে লালবাগ কেল্লার সৌন্দর্য হুমকির মুখে পড়েছে। হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী জনস্বার্থে এই সমস্যা দূরীকরণে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে। তিনি জানান, একটি তিনতলা বাড়ি উচ্ছেদ চলছে। আরো দুটি বাড়ি উচ্ছেদ প্রক্রিয়ায় রয়েছে। জেলা প্রশাসন, ঢাকা সিটি কর্পোরেশন (দক্ষিণ) ও লালবাগ থানা পুলিশ উচ্ছেদ অভিযানে সহায়তা করছে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মনজুরুর রহমান জানান, হাইকোর্টের নির্দেশে এই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হচ্ছে। এই ভবনে স্থানীয় লোকজনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিল। উচ্ছেদের আগে তাদের জানানো হয়, ফলে আগেই তারা ভবন ছেড়ে চলে গেছেন। এর আগে গত ৩০ মার্চ একবার এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও স্থানীয় লোকজনের বাধার মুখে ফিরে যেতে হয়েছিল উচ্ছেদকারী দলকে। ভবনটি ভাঙ্গার কাজ শেষে সেখানে প্রাচীর দিয়ে ঘিরে দেয়া হবে। ২০১০ সালের ১০ অক্টোবর বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ লালবাগ কেল্লার সুরক্ষার জন্য কিছু নির্দেশনা দেন। তাদের দেয়া নির্দেশনার মধ্যে ছিল তিন মাসের মধ্যে লালবাগ কেল্লার মূল সীমানা চিহ্নিত করা, সীমানার ভিতরের সব ব্যক্তিগত স্থাপনা ভাঙ্গা, শুরুতে সীমানা প্রাচীর যেভাবে ছিল, সেভাবে তৈরি করা, কেল্লার চারপাশের সব স্থাপনার ক্ষেত্রে প্রত্নতত্ত্ব আইন-১৯৭৮ ও নির্মাণ বিধিমালা-২০০৮-এর বিধান অনুসরণ করা, কেল্লার চারদিকে ২৫০ মিটার বৃত্তাকার সীমানার মধ্যে ঢাকা মহানগর ইমারত বিধিমালা কার্যকর করা, সীমানা প্রাচীরের চারদিকে হাঁটার জন্য ৫ মিটার প্রশস্ত পথ তৈরি করা এবং এর জন্য প্রয়োজনে জমি অধিগ্রহণ করতে হবে।