ভোটার তালিকার হালনাগাদ কাজ আজ শুরু

আপডেট : ১৪ মে ২০১৪, ২৩:৩৪
তিনটি ধাপে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকার হালনাগাদ কার্যক্রম আজ বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে। ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি যাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হবে তারাই ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির সুযোগ পাচ্ছেন। তবে প্রথম ধাপে সারাদেশের ১৮১টি উপজেলায় এই কার্যক্রম শুরুর কথা থাকলেও অনেক উপজেলায় এখনো ভোটার নিবন্ধন ফরম পৌঁছেনি। এমনকি উপজেলা পর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তারা এ সংক্রান্ত চূড়ান্ত কোন পরিকল্পনাও জানেন না। এই অবস্থার মধ্যে আজ সকাল ১০টায় মানিকগঞ্জের শিবালয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অগোছালো প্রস্তুতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ ‘ইত্তেফাক’কে বলেন, ভোটার তালিকা হালনাগাদের সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত। মাঠ পর্যায়ে ভোটার নিবন্ধন ফরম পৌঁছে গেছে। তবে যেসব এলাকায় বাকি আছে সেখানেও সময়মতো পৌঁছে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। ইসিসূত্র জানিয়েছে, বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই কার্যক্রম শুরুর কথা থাকলেও এখনও প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ করতে পারেনি নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগ (এনআইডি)। অনেক উপজেলায় নির্দিষ্ট ধরনের ফরম মাঠ পর্যায়ে পৌঁছেনি। তথ্য সংগ্রহকারী, সুপারভাইজার, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর, টেকনিক্যাল টিমের সদস্য এখনও নিয়োগ শেষ হয়নি। ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমের প্রথমদিন থেকে মাঠ পর্যায়ে নিবন্ধন ফরম (২ নং ফরম), ভোটার তালিকা থেকে কর্তন ফরম (১২ নং ফরম), ভোটার এলাকা স্থানান্তর ফরম (১৩ নং ফরম) ও ভোটার তথ্য সংশোধন ফরম (১৪ নং ফরম) সহ বেশকিছু ফরম তথ্য সংগ্রহকারীদের কাছে থাকতে হয়, তা এখনও পাওয়া যায়নি। ঢাকায় অবস্থিত আর্মি প্রিন্টিং প্রেস থেকে গতকাল বুধবার সকল জেলার নির্বাচন কর্মকর্তারা ওই ফরম সংগ্রহ করেছেন। কিন্তু ওই ফরমগুলো জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছতে বৃহস্পতিবার পার হয়ে যাবে। এরপর ওই ফরম সুপারভাইজারদের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহকারীদের দেয়া হবে। এর ফলে ১৫ মে থেকে বাস্তবে অনেক উপজেলায় তথ্য সংগ্রহ শুরু করা সম্ভব হবে না। এছাড়া ভোটারদের ছবি তোলা, ডাটা এন্ট্রি করার জন্য এখনও নিবন্ধন কেন্দ্র স্থাপন করা হয়নি। বসানো হয়নি ক্যামেরাসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি। এসব কাজ তথ্য সংগ্রহের ফাঁকেই শেষ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। নিবন্ধন কেন্দ্রে ২৬ মে থেকে কার্যক্রম শুরু হবে। ইসি ও এনআইডির ঊর্ধ্বতন একাধিক কর্মকর্তা ইত্তেফাককে জানান, প্রথম পর্যায়ে ১৮১ উপজেলায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে বৃহস্পতিবার থেকে তথ্য সংগ্রহের সময় নির্ধারিত রয়েছে। বেশিরভাগ উপজেলায় এ কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি শেষ করতে পারেনি। কমিশনও পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। এ অবস্থায় মান রক্ষার্থে স্বল্প পরিসরে হলেও কার্যক্রম শুরু করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রেও বাড়ি বাড়ি গিয়ে সব উপজেলায় তথ্য সংগ্রহ সম্ভব হবে না বলেই মনে হচ্ছে। একাধিক মাঠ পর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তা বলেন, ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রমে স্থানীয় বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিয়োগ দেয়া হয়। অথচ তথ্য সংগ্রহকারীদের ফরম ওই দিনেও দেয়া সম্ভব হবে না। এছাড়া কমিশন বা এনআইডি থেকে এখনও কোনো পরিপত্র জারি করা হয়নি। স্থানীয় পর্যায়ে প্রচারের জন্য মাইকিং করার বিষয়ে কোনো লিখিত নির্দেশনা দেয়া হয়নি। এবারও আইনের ব্যত্যয় ২০১২ সালের মতো এবারও ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার ক্ষেত্রে আইনে ব্যত্যয় ঘটেছে। বর্তমান ভোটার তালিকা আইনের ১১ ধারায় বলা আছে, ‘কম্পিউটারে ডাটাবেজ সংরক্ষিত বিদ্যমান সকল ভোটার তালিকা, প্রতি বছর ২রা জানুয়ারি থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়কালের মধ্যে, নির্ধারিত পদ্ধতিতে হালনাগাদ করতে হবে।’ কিন্তু ২০১৪ সালের ১লা জানুয়ারি যাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছে তারা ভোটার হওয়া থেকে এখনো বঞ্চিত রয়েছেন। প্রচারণার দায়িত্ব পেয়েছে এনজিও সারাদেশে ছবিসহ ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে স্থানীয় পর্যায়ে প্রচারণার দায়িত্ব বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বা এনজিওগুলোকে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ বিষয়ে ইসির সঙ্গে নিবন্ধিত এনজিও প্রতিনিধিদের নিয়ে বুধবার ইসি সম্মেলন কক্ষে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে এনজিওদের মাধ্যমে সারাদেশে প্রচারণা চালানোর সিদ্ধান্ত হয়। এনজিওগুলো ইসির মুদ্রিত প্রচার সামগ্রী বিশেষ করে পোস্টার, লিফলেট বিতরণ করবে। স্থানীয় পর্যায়ে তারা মাইকিং, র্যালি, সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচির মাধ্যমে ভোটারদের সচেতন করবে।