ভারতের লোকসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা হবে আজ শুক্রবার। আজই অনেকটা পরিস্কার হয়ে যাবে কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ কোন দল বা জোটের অধীনে যাবে। কে হতে পারেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। দেশটির স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮ টায় ভোট গণনা শুরু হবে। বিকাল ৫ টার মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ ফল পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু বিভিন্ন সংস্থার বুথ-ফেরত জরিপে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নিয়ন্ত্রণাধীন এনডিএ জোট স্পষ্ট ব্যবধানে জয় পাবে এমনটি দাবি করার পর মোদী ধরেই নিয়েছেন এই জরিপ সত্যি হবে। একারণে সময়ক্ষেপণ না করে তিনি তার সরকারের মন্ত্রিসভা প্রায় চুড়ান্ত করে ফেলেছেন।
নরেন্দ্র মোদীর পরিকল্পনা অনুযায়ী, তিনি নিজেই হবেন প্রধানমন্ত্রী। রাজনাথ সিংকে করবেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী। সুষমা স্বরাজ এবং অরুন জেঠলিকে দেয়া হবে যথাক্রমে পররাষ্ট্র এবং অর্থ মন্ত্রণালয়। বিভিন্ন বুথ ফেরত জরিপে দাবি করা হয়েছে, নরেন্দ্র মোদীর ক্ষমতায় আসা শুধু সময়ের অপেক্ষা। কৌশল ঠিক করতে তাই বুধবার রাতে দলের তিন শীর্ষ নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন মোদী। গান্ধীনগরে পাঁচ ঘণ্টার সেই ম্যারাথন বৈঠকে হাজির ছিলেন বিজেপি শীর্ষনেতা রাজনাথ সিং, অরুণ জেঠলি এবং নীতিন গড়করি। ক্ষমতায় এলে সরকারে কে কোন পদ পেতে পারেন তা নিয়ে ওই বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে গোপন সূত্রের বরাত দিয়ে জি নিউজ এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। বিজেপির সরকার গঠনের সেই তত্পরতার মাঝেই আসরে নেমেছে আরএসএসও। গতকাল সকালে বিজেপি প্রধান রাজনাথ সিংয়ে সঙ্গে দেখা করেন আরএসএস নেতা সুরেশ সোনি।
তবে বুথ ফেরত জরিপের ফল যাই বলুক না কেন, হাল ছাড়তে রাজি নয় কংগ্রেস। গত দুটি লোকসভা নির্বাচনে বুথফেরত জরিপ মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় কংগ্রেস আশায় আছে, এবারো জরিপ মিথ্যা হোক। তাই ভবিষ্যত জোটের কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন দলের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছে কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব।
ফলের দিকে তাকিয়ে সবাই: জরিপের ফল যাই হোক না কেন, ভারতের মানুষ তাকিয়ে আছে আসল ফলাফলের দিকে। চরম উত্কণ্ঠায় অপেক্ষায় সবাই, কখন ফল ঘোষণা করা হবে। ভারতের নির্বাচন কমিশন জানায়, স্ব-স্ব রাজ্যেই ভোট গণনা হবে। ভোট গণনার জন্য স্থাপন করা হয়েছে ৯৮৯ টি কাউন্টিং সেন্টার। এই সেন্টারগুলো থেকে জানানো হবে প্রায় ৮ হাজার প্রার্থীর ভাগ্য। ইভিএমগুলো যে স্ট্রং রুমে রাখা রয়েছে সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে গণনা কেন্দ্রে ইভিএম আনা হয়েছে। ভারতে সাধারনত ডিএম কার্যালয়ে ভোট গণনা হয় তবে কোন জেলায় যদি বেশী সংসদীয় এলাকা থাকে তাহলে অন্যত্র গণনা হয়। প্রথমে গোনা হবে পোস্টাল ব্যালট। গণনা শেষ হওয়ার আধঘণ্টার মধ্যে ইভিএম গণনা। গণনা কেন্দ্রে থাকছে বড় বোর্ড। প্রতি রাউন্ডের ফলাফল অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসাররা ওই বোর্ডে লিখে দেবেন। প্রতিটি টেবিলে যে গণনা হবে তার ফটোকপি এজেন্টদের দেওয়া হবে। এই প্রথম এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এর থেকে এজেন্টরা জানতে পারবেন তার দলের প্রার্থী কোন টেবিলের গণনায় কত ভোট পেয়েছেন। একটি কেন্দ্রে প্রতিটি দলের একজন করে এজেন্ট থাকতে পারবেন। গণনা কেন্দ্র থেকেই বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হবে। পরে নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত ফোল ঘোষণা করবে।
মোদীর পরিকল্পিত মন্ত্রীসভা:
প্রধানমন্ত্রী:নরেন্দ্র মোদী
এনডি চেয়ারম্যান/জাতীয় উপদেষ্টা পরিষদের চেয়ারম্যান-লালকৃষ্ণ আদবাণী
পররাষ্ট্রমন্ত্রী-সুষমা স্বরাজ
অর্থমন্ত্রী-অরুন জেঠলি
লোকসভার অধ্যক্ষ-মুরলী মনোহর জোশী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা প্রতিরক্ষামন্ত্রী- রাজনাথ সিং
সংখ্যালঘুমন্ত্রী- মুক্তার আব্বাস নকভি
পরিবহণ মন্ত্রী-নীতিন গডকড়ি
আইনমন্ত্রী- রবিশঙ্কর প্রসাদ
কৃষিমন্ত্রী- গোপীনাথ মুন্ডে
নাগরিক উন্নয়ন বা সংখ্যালঘু মন্ত্রী- শাহনওয়াজ হুসেন
নগরোন্নয়নমন্ত্রী- রাজীব প্রতাপ রুডি
তথ্য ও সমপ্রচার মন্ত্রী-স্মৃতি ইরানি
স্বাস্থ্যমন্ত্রী- হর্ষবর্ধন
টেলিকম মন্ত্রী-পীযুষ গোয়েল
পরিবেশমন্ত্রী - মানেকা গান্ধী
নারী ও শিশু কল্যাণমন্ত্রী - উমা ভারতী
