স্বাস্থ্যের ওপর রঙের প্রভাব
প্রতিটি রঙের একটি নিজস্ব ভাষা আছে এবং দেহের ওপর রঙের প্রভাব আছে। গবেষণা থেকে জানা যায়, লাল রং ব্লাডপ্রেশার বৃদ্ধি করে এবং নীল রং তা কমিয়ে দেয়। নীল রং আর্থ্রাইটিসের ব্যথাও কমিয়ে দেয়। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, ক্লাসরুমের রং যদি হলুদ, কমলা ও লাল হয়, তবে শিক্ষার্থীদের উদ্দীপনা বৃদ্ধি পায়। কমলা হলো আনন্দ ও সুখের রং। এই রং মনে উদ্দীপনা জাগায়। মনের ও বুদ্ধির রং হলুদ। নিরপেক্ষতা ও নির্লিপ্ততার রং হলুদ। সবুজ হলো ঐক্য ও সমবেদনার রং। সবুজ রং দেহের ওজন কমিয়ে দেহকে সুস্থ রাখে। আসমানী অবসাদ দূর করে। কল্পনা ও অনুমানশক্তি বৃদ্ধি করে। বেগুনি রঙও আসমানীর মতো কিন্তু অমায়িক বা নম্র প্রকৃতির। এই রঙের খাবারও আমাদের জন্য উপকারী।
প্রতি মিনিটে ১০০ কদম
আজকাল চিকিত্সকেরা প্রায়ই বলে থাকেন, হাঁটবেন। এটা সুসহনীয় ব্যায়াম। সবার জন্য উপযোগী, উপকারী ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন। এতে ডায়াবেটিস রোগীর রক্তে চিনি কম থাকে, রক্তচাপের রোগীর মনস্তাপ-রক্তচাপ দুটোই সহনীয় থাকে আর হূদরোগীদের হূদযন্ত্র সুস্থ থাকে। কিন্তু কতক্ষণ হাঁটব, কী গতিতে হাঁটব? এর উত্তরে সান ডিয়েগো স্টেট ইউনিভার্সিটির সংশ্লিষ্ট গবেষকেরা বলেছেন, প্রতি মিনিটে ১০০ কদম হাঁটার লক্ষ্য স্থির করতে হবে। ৩০ মিনিট করে সপ্তাহে পাঁচ দিন হাঁটা একটি পরিমিত ব্যায়াম। মিনিটে ১০০ কদম এটা একদম ন্যূনতম। এই গতি হূদযন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখার ও বেশ কিছু ক্যান্সারের ঝুঁকি প্রতিরোধে সহায়ক।
হ্যালির ধূমকেতু
হ্যালির ধূমকেতুর নাম কমবেশি সবারই শোনা। উজ্জ্বলতম ধূমকেতুগুলোর মাঝে হ্যালির ধূমকেতু একটি। ১৯১০ সালের পর সর্বশেষ ১৯৮৬ সালে পৃথিবীর মানুষ হ্যালির ধূমকেতু দেখেছেন। হ্যালির ধূমকেতুর নামকরণ করা হয়েছে ব্রিটিশ জ্যোর্তিবিদ অ্যাডমন্ড হ্যালির নামানুসারে। হ্যালি এই ধূমকেতুর প্রত্যাবর্তনের সময়টি সর্বপ্রথম নির্ভুলভাবে হিসাব করেন। এজন্য তিনি নিউটনের গতি সূত্র ব্যবহার করেছিলেন।
নুডলসের প্রচলন
কত বছর আগে?
নুডলস খেতে ভালোবাসেন না, এমন মানুষ খুব কমই আছেন। কিন্তু জানেন কি নুডলস খাওয়ার প্রচলন আজ থেকে কত বছর আগে? নামটা আধুনিক শোনালেও আজ থেকে প্রায় চার হাজার বছর আগে চীনে নুডলস খাবার প্রচলন হয়। বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার’-এ প্রকাশিত এক খবরে জানা গেছে, চীনের ইয়েলো রিভার এলাকার লাজ্বিয়াতে প্রত্নতাত্ত্বিকরা খননের সময় পাওয়া হলুদাভ রঙের ৫০ সেন্টিমিটার দীর্ঘ এক টুকরো নুডলসের কার্বন ডেটিং করে দেখেছেন নুডলসের টুকরোটির বয়স প্রায় চার হাজার বছর। ধারণা করা হচ্ছে, বন্যার সময়ে মাটির নিচে ঢুকে গিয়েছিল। তবে প্রচলিত নুডলসের মতো এই নুডলস কিন্তু ময়দা থেকে তৈরি করা হয়নি, তৈরি করা হয়েছিল এক ধরনের ঘাস থেকে।
সিগার গ্যালাক্সি
১৭৭৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর জার্মান জ্যোতির্বিজ্ঞানী জোহান বোড বিবর্ণ ফ্যাকাশে দীর্ঘকায় উপবৃত্তাকার এক ছায়াপথের সন্ধান পেয়েছিলেন। গ্রেট বিয়ার নক্ষত্রমণ্ডলী বরাবর এর অবস্থান। এ যেন নেবুলার প্রলেপ বুলানো। নাম এম-৮২। অন্যান্য ছায়াপথের তুলনায় এখানে নক্ষত্র তৈরির হার বর্তমানে কয়েকশত গুণ বেশি এবং আরও দশ মিলিয়ন বছর ধরে এ প্রক্রিয়া চলতে থাকবে বলে তারা ধারণা করেন। যেহেতু এখানে সব সময়ে জন্ম নিচ্ছে নতুন নতুন নক্ষত্র, তাই এই ছায়াপথের অপর নাম স্টারবার্স্ট গ্যালাক্সি। ইতোমধ্যে হাবল স্পেস টেলিস্কোপ এই ছায়াপথে তৈরি হওয়া ১০০টি গ্লোবিউলার ক্লাস্টারের সন্ধান দিয়েছে যারা বয়সের দিক দিয়ে একেবারেই নবীন। নক্ষত্র উত্পাদনের অবিরাম কারখানা বলে খ্যাত এই ছায়াপথটি মহাশূন্যে সবচেয়ে উজ্জ্বলতম জ্যোতিষ্ক। সিগার বা চুরুট আকারের বলে এর অপর নাম সিগার গ্যালাক্সি।
জিওথার্মাল বা ভূ-উত্তাপ শক্তি
শীতপ্রধান দেশে এ ধরনের শক্তি কাজে লাগানোর প্রয়াস লক্ষণীয়। আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুত্পাতে যে শক্তি পরিলক্ষিত হয় তার চেয়েও কয়েকগুণ শক্তি ভূপৃষ্ঠের নিচে সংরক্ষিত রয়েছে। এই ভূ-উত্তাপ ব্যবহার করে শীতপ্রধান দেশে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট উষ্ণ রাখাসহ বিদ্যুত্ উত্পাদনের কথা জোরেসোরে উচ্চারিত হচ্ছে। এ প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে সারা বিশ্বে উত্পাদিত প্রায় আট হাজার মেগাওয়াট জিওথার্মাল বা ভূ-উত্তাপ শক্তির মধ্যে আমেরিকাতে প্রায় দুই হাজার ৮শ মেগাওয়াট শক্তি উত্পাদিত হচ্ছে। তবে এটি একটি ব্যয়বহুল প্রজেক্ট।
গ্রন্থনা সাইফুল ইসলাম জুয়েল
