নিজেই যখন ডিজাইনার

আপডেট : ১৬ মে ২০১৪, ১৯:৫৩
নিজের তৈরি জিনিসের প্রতি মমতা থাকে অন্যরকম। নিজের সৃজনশীলতার অনুভব দেয় যে জিনিস, স্বভাবতই তার কদর হয় বেশি! এ কারণে তরুণদের মাঝে অনেকেই আছেন, যারা নিজের পোশাক নিজেই বানিয়ে পরেন। বানাতে না পারলে নিজের ডিজাইনে দর্জিকে দিয়ে বানিয়ে নেন। অনেকে জামায় সূচিকর্ম করেন, ফেব্রিকস করেন অথবা করেন অ্যাপ্লিকের কাজ। এমনই একটি সৃজনশীল শখ নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজনে লিখেছেন রিয়াদ খন্দকার ও ছবি তুলেছেন তাহের মানিক ‘আসলে রেডিমেড পোশাক কিনলে অনেক সময়ই মাপে ঝামেলা থাকে। কখনও আবার ফিট করতে গিয়ে জামার ডিজাইনটাই হারিয়ে যায়। এর চেয়ে নিজের মনমতো কাপড় কিনে নিজের মনের মতো ডিজাইন দিয়ে তৈরি করে নেওয়াই ভালো’, বলছিলেন রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এ্যানি। তার মতো অনেক তরুণীই নিজের পোশাকটি নিজে বানিয়ে পরতে পছন্দ করেন। এ ক্ষেত্রে একদিকে যেমন ফিটিংসটা ভালো হয়, অন্যদিকে ইচ্ছামতো ডিজাইন করারও সুযোগ থাকে। মূলত নানা বর্ণের বাহারি পোশাকে নিজেকে সাজিয়ে তুলতে কার না ভালো লাগে। বিভিন্ন বৈচিত্র্যময় নকশা বা ডিজাইনের পোশাক সকলকে সহজেই আকৃষ্ট করে। নিজের পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো ডিজাইনের পোশাক তৈরি করে তরুণরা। এ ছাড়া ইন্টারনেট থেকে কিছু এক্সক্লুসিভ ডিজাইন ডাউনলোড করেও নিজের ডিজাইনের মধ্যে হালফ্যাশনের ছোঁয়া ফুটিয়ে তোলা সম্ভব। পোশাকে প্রিন্টিং করা পোশাকে বিভিন্ন রকম নকশা তৈরির অন্যতম উপায় হচ্ছে প্রিন্টিং। আমরা স্বাভাবিকভাবেই প্রিন্টকৃত কাপড় পরিধান করতেই বেশি পছন্দ করি। কেননা এসব পোশাকে বিভিন্ন বৈচিত্র্যময় নকশা ও রঙের সমাহার এবং তুলনামূলক মূল্য কম হওয়ায় সহজেই আমাদেরকে আকৃষ্ট করে। বর্তমানে অনেক সুন্দর সুন্দর প্রিন্টের পোশাক বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। কিন্তু একবার ভেবে দেখেছেন কি, নিজের পোশাকটি যদি নিজেই প্রিন্ট করতে পারতেন তাহলে কেমন হতো? সাধারণ অর্থে প্রিন্টিং হচ্ছে ছাপানো। টেক্সটাইল প্রিন্টিং বলতে কাপড়ের উপর স্থান বিশেষে বিভিন্ন নকশা বা ডিজাইন, যান্ত্রিক বা হস্ত দ্বারা ও রাসাইনিক প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ডাইস্টাফ ও অন্যান্য সহায়ক রাসায়নিক পদার্থ প্রয়োগ করে নির্দিষ্ট কালার ইফেক্ট তৈরি করাকেই বুঝায়। এটি রং করার আরেকটি পদ্ধতি ব্যতীত আর কিছুই নয়। কাপড়ের উপর বিভিন্ন নকশা ডিজাইন অনুযায়ী ফুটিয়ে তুলে বিভিন্ন কালার ইফেক্ট তৈরি করার জন্য ডাইস্টাফ বা পিগমেন্ট, থিকনার এবং বিভিন্ন ক্যামিকেলের সমন্বয়ে যে ভিসকাস পেস্ট তৈরি করা হয় তাকে প্রিন্টিং পেস্ট বলে। তাই আমাদের প্রিন্টিং পেস্টে ব্যবহূত বিভিন্ন উপাদানসমূহের কাজ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন। তাহলে আসুন জেনে নেওয়া যাক এদের কার্যাবলী। কাপড়ে স্প্রে ডিজাইন স্প্রে রঙের কাজ দেখতে সুন্দর হলেও ঝামেলার কারণে অনেকেই বাসায় তা করতে চান না। কিন্তু কম ঝামেলায় খুব সহজেই বাসায় স্প্রে রং দিয়ে আপনার পছন্দমতো ডিজাইন ব্যবহার করে তৈরি করে ফেলতে পারেন নিজের পোশাক। তবে স্প্রে রং দিয়ে শাড়ি বা কামিজ ডিজাইন করা বেশি সহজ। এজন্য একটু কৌশল প্রয়োগ করতে হবে, আর কিছুই না! উপকরণগুলো হচ্ছে শাড়ি বা কামিজের কাপড়, স্প্রে রং, পিচবোর্ড, ট্রেসিং পেপার, পেনসিল, এন্টিকাটার, পুরোনো খবরের কাগজ। শুরুতে যে নকশাটি কাপড়ে করবেন তা প্রথমে ট্রেসিং পেপারে এঁকে নিন। কাপড়ে যে কয়টা রং ব্যবহার করবেন সে কয়টি পিচবোর্ডের টুকরা নিন। এবার ট্রেসিং পেপারের সাহায্যে সবকটি পিচবোর্ডে একই নকশা এঁকে ফেলুন। এরপর ধারালো এন্টিকাটার দিয়ে নকশার ভেতরের অংশটি কেটে বের করে নিন। একেক পিচবোর্ডের নকশার একেক অংশ কাটুন। অর্থাত্, যদি আপনার নকশা ফুল-লতা-পাতা ধরনের হয় এবং যদি তিনটি আলাদা রং ব্যবহার করতে চান তাহলে তিনটি পিচবোর্ডে নকশা আঁকুন। একটি পিচবোর্ডের ফুলের অংশ কেটে বের করুন, একটির পাতার অংশ বের করুন এবং আরেকটি থেকে ডালের অংশ কেটে বের করুন। এরপর যে কাপড়ে স্প্রে করবেন তা সমতলে বিছান। নির্দিষ্ট জায়গায় পিচবোর্ডের নকশাটি রাখুন। প্রথমে ফুল কাটা পিচবোর্ড রেখে এর আশপাশে কাপড়ের ওপর খবরের কাগজ বিছিয়ে দিন। এরপর ফুলের রং স্প্রে করুন। রং শুকিয়ে গেলে পিচবোর্ড উঠিয়ে ফেলুন। এরপর এর উপর পাতা কাটা পিচবোর্ডটি রাখুন। একই পদ্ধতিতে রং করুন। এবার এটা শুকিয়ে গেলে ডাল কাটা পিচবোর্ডটি রেখে একই পদ্ধতিতে রং করুন। এই পদ্ধতি একটু সময়সাপেক্ষ হলেও কাজ নিখুঁত হয়। থানকাপড় পোশাক যে ডিজাইনেরই হোক, তৈরি করতে লাগবে থানকাপড়। রাজধানীর শপিং মলগুলো ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন ধরনের থানকাপড় বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে নেটের ওপর এমব্রয়ডারি করা কাপড়টাই বেশি চলছে। সঙ্গে শাটিন কাপড়ের সালোয়ার। তবে এবার ঈদের সময়টা যেহেতু গরম, তাই নেটের সঙ্গে সুতির ওপর এমব্রয়ডারি কাজ করা অরগ্যান্ডি, জয়পুরি ও চিকেন কাপড়ও বেশ ভালো চলছে। কাটছাঁট পোশাকের কাপড় তো হলো, এবার হালফ্যাশন নিয়ে ভাবতে হবে। এ বছর কোন ডিজাইনের কাটছাঁট দাপিয়ে বেড়াবে প্রথম চিন্তাটা এমনই। গত বছরের মতো এবারও আনারকলি, সানিয়া মির্জা, মাসাক্কালি ডিজাইন বেশ চলবে। সঙ্গে অবশ্যই নেটের থ্রি কোয়ার্টার হাতা। এ ছাড়া এবারও অবস্থান ধরে রাখবে শর্ট কামিজ। সঙ্গে ন্যারো শেপ ও চওড়া বর্ডারের সালোয়ার-কামিজও। এছাড়া এখন ব্লাউজে ওয়েস্টার্ন কাটই বেশি চলছে। বড় গলার সঙ্গে চলছে ম্যাগি হাতা, ঘটি হাতা বা থ্রি কোয়ার্টার হাতা।’ কোথায় বানাবেন ঢাকায় মেয়েদের পোশাক বানানোর জন্য নিউ মার্কেট, চাঁদনী চক ও গাউছিয়া মার্কেটের টেইলার্সগুলোর খ্যাতি আছে। তা ছাড়া রাজধানীর প্রায় সব মার্কেটেই টেইলার্সের দেখা মিলবে। চাঁদনী চক, নিউ মার্কেট ও গাউছিয়া ঘুরে জানা যায়, এখানে থ্রি-পিস তৈরির মজুরি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। আনারকলি, সানিয়া মির্জা বা মাসাক্কালি তৈরিতে খরচ পড়বে ৬০০ থেকে ১২০০ টাকা এবং ব্লাউজ বানাতে লাগবে ডিজাইনভেদে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। মেয়েদের পাশাপাশি ছেলেরাও অনেকেই নিজের ডিজাইনে পোশাক বানিয়ে পরতেই পছন্দ করেন। অনেকেই শার্ট-প্যান্ট বানাতে ছোটেন দর্জিবাড়িগুলোয়। বর্তমানে শার্টের ডিজাইনে গতবারের মতোই প্রাধান্য পাবে বডি ফিটিং শার্ট। কলারের কাটিংয়ে থাকছে ফুল অ্যারো কলার, সেমি অ্যারো কলার, টাই কলার ইত্যাদি। হাতায় চওড়া কাফ এবং চার বাটন। প্যান্টের কাটছাঁটে সময় এখন ন্যারো শেপ কাটিংয়ের। প্লেটলেস অর্থাত্ কুঁচি ছাড়া এবং মিডিয়াম লুজ, সোজা পকেট ইত্যাদি। আর যেহেতু সময়টা গরম, তাই সবাই শার্টের জন্য সুতি কাপড়টাই বেশি পছন্দ করছে। সুতির মধ্যে অরবিন্দ, রেমন্ড, টিসুটি কটন ইত্যাদি শার্ট পিস বেশি চলছে। মডেল চৈতি