দুই মাঠ ও এক পুকুর আবর্জনার ভাগাড়

আপডেট : ১৬ মে ২০১৪, ২১:২৪
গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর একটি প্রতিনিধিদল সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ডাঃ মোঃ আব্দুল মতিনের নেতৃত্বে ঢাকার টি এন্ড টি মাঠ (মানিকমিয়া এভিনিউ), পিসি কালচার মাঠ (শ্যামলী রিং রোড) ও পুষ্পসাহা পুকুর (জগন্নাথ সাহা রোড, পুরাতন ঢাকা) সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। এই দলে অংশগ্রহণ করেন বাপা’র যুগ্ম-সম্পাদক স্থপতি ইকবাল হাবিব, জাকির হোসেন, মিহির বিশ্বাস ও আলমগীর কবির, বাপার নির্বাহী সদস্য মুহিদুল হক খান ও অধ্যাপক একেএম মোজাম্মেল হক ও জাভেদ জাহান। বাপার প্রতিনিধি দল লক্ষ্য করেন যে, টি এন্ড টি মাঠের চারদিকের দেয়াল ও গ্রিল অনেকটাই ভাঙ্গা, মাঠটির একটি অংশ অপরিচ্ছন্ন ও আবর্জনায় পরিপূর্ণ, অবহেলিত। মাঠে প্রবেশে বড় ও সহজে যাতায়াতযোগ্য কোন গেইট নেই। ইন্দিরা রোড ক্লাব নিয়ন্ত্রিত এই মাঠে এলাকার ছেলেরা খেলা করে। তবে চারপাশে হাঁটার রাস্তা না থাকা ও অপরিচ্ছন্নতার কারণে অত্র এলাকার সাধারণ মানুষের মাঠ ব্যবহারের সুযোগ অনেকটাই সীমিত। এই মাঠের মালিক গণপূর্ত বিভাগ বিভিন্ন উপলক্ষে মাঠ ভাড়া দেয়ার কারণে খেলোয়ার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। ইন্দিরা রোড ক্লাব কর্তৃপক্ষের সাথে বাপা দলের আলোচনায় মাঠ রক্ষায় ভবিষ্যতে একসাথে কাজ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে বাপা দল শ্যামলী রিং রোডের পিসি কালচার মাঠ পরিদর্শন করেন। মাঠের পূর্বাংশে একটি মসজিদ, একটি কাঁচা বাজার ও অধুনালুপ্ত বিডিআর এর সেল সেন্টার স্থাপনের মাধ্যমে মাঠটির প্রায় এক তৃতীয়াংশ স্থান বেদখল হয়ে আছে। মাঠের চারদিকে একটি হাঁটার রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। মাঠ নিয়ন্ত্রক সংস্থা শ্যামলী ক্লাব তাদের প্রয়োজনের চেয়ে বড় একটি আধা পাকা দালানের দপ্তর নির্মাণ করেছে। ফলে মাঠের স্থান সংকুচিত হয়ে পড়েছে। তারা মাঠটি মাঝে মধ্যেই খেলার জন্য ভাড়া দিচ্ছেন, যার ফলে স্থানীয় ক্রিড়াবিদ ও জনগণের সুযোগ কমে আসছে। কর্মকর্তারা জানান, এই মাঠে দিনের একটা সময় অন্যান্য ক্লাব ও এলাকার সাধারণ মানুষ খেলাধুলা করে। বাপা এই মাঠের উপর স্থাপনা নির্মাণের রাজউক বিধিমালা মেনে চলার অনুরোধ জানান। বাপা ও শ্যামলী ক্লাব কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনায় এই মাঠের বেদখলকৃত জমি উদ্ধারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। শেষ পর্যায়ে বাপা দল পুরাতন ঢাকার জগন্নাথ সাহা রোডের বেদখল ও ভরাট প্রক্রিয়ার শিকার পুষ্পসাহা পুকুর পরিদর্শন করে। তারা স্থানীয় অধিবাসী ও পুকুর রক্ষা আন্দোলনের কর্মীদের সাথে কথা বলেন। প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি কাঁচা ও পাকা ঘরবাড়ি নির্মাণ ও ময়লা ফেলার মাধ্যমে পুকুরটি ভরাটের ফলে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। পুকুর ভরাট হওয়ার কারণে গোসল, কাপড় ধোয়া ও সম্ভাব্য অগ্নিকাণ্ডের সময় আগুন নেভানোর মত গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা থেকে সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন। বাপা নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে পুষ্পসাহা পুকুর থেকে সকল বাড়ি-ঘর ও আবর্জনা সরিয়ে নেয়া ও পুকুরটি পুনঃখননের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।