‘লাশ না পেলে বুঝি আপনাদের ভালো লাগছে না’

আপডেট : ১৬ মে ২০১৪, ২৩:৩৬
‘টাকার প্রতি আপনাদের এত মায়া কেন? ছেলের প্রতি মায়া নেই? লাশ না পেলে বুঝি আপনাদের ভালো লাগছে না—তাই না?’ এভাবেই মোবাইলের মাধ্যমে মুক্তিপণ চেয়ে অপহূত সুজন হাসান শোভনের (১৬) মা জেসমিন হোসেনকে শাসিয়ে যাচ্ছে অপহরণকারীরা। যশোরের বিসিএমসি কলেজের মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র শোভনকে বৃহস্পতিবার বিকেলের কোনো এক সময় অপহরণ করা হয়। শোভনের বাবা মো. হানিফ হোসেন ইতালি প্রবাসী। সর্বশেষ গতকাল শুক্রবার বিকেল সোয়া ৫টায় অপহরণকারীরা বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটের মধ্যে বিকাশ নম্বরে টাকা প্রদানের দাবি জানিয়ে বলেছে, ‘এটাই শেষ ফোন। টাকা না পেলে যা হবার তাই হবে।’ জানা গেছে, অপহরণকারীরা প্রথমে ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করলেও পরে ২ লাখ টাকা নির্ধারণ করেছে। আর অপহূতের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে একের পর এক তাগাদা দিয়ে গেলেও মোবাইল ট্র্যাকিং করে পুলিশ তাদের খুঁজে বের করতে পারেনি। তবে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত বিমানবন্দর এলাকা, সদর উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নের বালিয়া ভেকুটিয়া ও এড়েন্দা এলাকায় অপহরণকারীদের সন্ধানে পুলিশ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে বলে সূত্র জানিয়েছে। এর আগে অপহরণের শিকার শোভন অপহরণকারীদের আস্তানা থেকে নিজের মোবাইল ফোন দিয়ে মায়ের কাছে আকুতি জানায় ‘মা, তুমি টাকা দিয়ে দাও, নইলে ওরা আমাকে মেরে ফেলবে।’ সে এ কথাও জানায়, তার চোখ বেঁধে রাখা হয়েছে। কোথায় তারা অবস্থান করছে সে কিছুই জানে না। এ ঘটনায় শোভনের মা জেসমিন হোসেন গতকাল শুক্রবার কোতোয়ালি মডেল থানায় দায়ের করা জিডিতে উল্লেখ করেছেন, বন্ধু সোহাগ বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের বাড়িতে যেয়ে কোচিং-এর কথা বলে শোভনকে নিয়ে বের হয়। বিকেল পৌনে ৫টায় শোভন তার মা-কে মোবাইলে জানায়, সন্ধ্যার মধ্যে বাড়িতে ফিরবে। কিন্তু সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলেও শোভন ফিরে না আসায় সম্ভাব্য সবখানে খোঁজ করেও শোভনের সন্ধান মেলেনি। রাত সাড়ে ১২টায় শোভনের মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে অজ্ঞাত পরিচয়ের ব্যক্তি মুক্তিপণ দাবি করে। শুক্রবার বেলা ১১টায় পুনরায় ফোন করে নম্বরটি বন্ধ করে রাখে। থানায় জিডি করার পরও অপহরণকারীরা কয়েক দফায় শোভনের ফোন থেকে তার মা ও নিকটাত্মীয়দের সাথে যোগাযোগ করে পর্যায়ক্রমে মুক্তিপণের অংক বাড়ায়। এদিকে শোভনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া তার বন্ধু সোহাগও নিখোঁজ রয়েছে। সোহাগের বাবা শহরের খড়কি এলাকার কবীর হোসেনকে পুলিশ আটক করেছে। তবে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমদাদুল হক জানান, শোভন অপহরণ হয়েছে, নাকি সে নিজেই অপহরণ নাটক সাজিয়েছে তা আমরা উদঘাটনের চেষ্টা করছি।