ব্রহ্মপুত্রের ভাঙ্গনে ৫শ’ পরিবার গৃহহীন

আপডেট : ১৭ মে ২০১৪, ২২:২৩
ব্রহ্মপুত্র নদে পানি বৃদ্ধির ফলে হঠাত্ করেই ব্রহ্মপুত্রের ভয়াবহ ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। নদের ভাঙ্গনে গত তিনদিনে দু’টি গ্রাম সম্পূর্ণ রূপে বিলীন হয়ে গেছে। আংশিক ভাঙ্গনের শিকার হয়েছে আরো চারটি গ্রাম। এতে ৫শ’ পরিবারের ঘরবাড়ি হারিয়ে গেছে নদের থাবায়। ভাঙ্গনের মুখে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী নয়াচর হাটবাজার, ইউনিয়ন পরিষদসহ ৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। নদের ভাঙ্গন থেকে ওইসব প্রতিষ্ঠানের দূরত্ব এখন মাত্র ৫শ’ মিটার। প্রায় ৪ কিলোমিটার জুড়ে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙ্গনের ওই তাণ্ডব চলছে রাজীবপুরের নয়াচর এলাকায়। গতকাল শনিবার ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, নয়াচর বাজারপাড়া গ্রামের ভাঙ্গনের শিকার মানুষগুলো তাদের ঘরবাড়ি টানছে আর আহাজারি করছে। ভাঙ্গনে বাড়ির ভিটা বিলীন হয়েছে। ভাঙ্গনের শিকার মানুষগুলো জানান, গত বৃহস্পতিবার ভোর রাত থেকে হঠাত্ করেই ভাঙ্গন শুরু হয়। সারাদিনে নয়াচর উত্তরপাড়া ও নয়াচর মুন্সিপাড়া গ্রাম দুটি সম্পূর্ণরূপে বিলীন হয়ে যায়। রাজীবপুর উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান বিলকিস বেগম জানান, যে হারে ভাঙ্গছে তা ঠেকানো না গেলে নয়াচর বাজার, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, নয়াচর ইসলামিয়া মাদ্রাসা, নয়াচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বাজারে এক হাজারের ওপর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিলীন হয়ে যাবে। বিষয়টি ইউএনও ও কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে। ব্রহ্মপুত্রের ভাঙ্গন প্রতিরোধে সরকারি ভাবে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু তাহের জানান, নয়াচর এলাকায় ব্রহ্মপুত্রের ভাঙ্গন প্রতিরোধে কোনো প্রকল্প নেই। মেঘনার ভাঙ্গনে মানচিত্র থেকে মুছে যাচ্ছে হাতিয়া হাতিয়া (নোয়াখালী) সংবাদদাতা জানান, মেঘনা নদীর ত্রিমুখী ভাঙ্গনে হাতিয়ার উল্লেখযোগ্য অংশ মেঘনাগর্ভে বিলীন হয়েছে। অব্যাহত ভাঙ্গনের ফলে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে সমৃদ্ধ জনপদ হাতিয়া। সহায়-সম্বল হারিয়ে অসংখ্য মানুষ আশ্রয় নিয়েছে নতুন জেগে ওঠা চরসহ বেড়িবাঁধে। হাতিয়ার ছয় লাখ লোকের আর্থ-সামাজিক অবস্থা ও অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থে নদী ভাঙ্গন রোধ জরুরি। ১৯৬৮ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত হাতিয়ার প্রায় ২৫০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা মেঘনাবক্ষে বিলীন হয়েছে। সবচেয়ে মারাত্মক ভাঙ্গনের শিকার হয় হরণী-চানন্দী, সুখচর ও নলচিরা ইউনিয়ন। ১৯৬০ সালে হাতিয়ার ইউনিয়ন ছিল ১১টি। ৪০ বছরে হাতিয়ার ২টি ইউনিয়ন নীললক্ষ্মী ও হরণী সম্পূর্ণভাবে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পরবর্তীকালে নদী ভাঙ্গনের কারণে উপজেলা পরিষদসহ বিভিন্ন অফিস ওছখালীতে স্থানান্তর করা হয়। নদী ভাঙ্গনের কারণে হাতিয়ার মানুষের ক্ষয়ক্ষতি ব্যাপক। হাতিয়ার ৮০ ভাগ লোক কৃষক এবং দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। ব্যাপকহারে কৃষিজমি ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে হাতিয়ার অনেক কৃষক বেকার হয়ে পড়েছে। ভূমিহীনের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক। এসব কারণে কেউ কেউ হাতিয়া ছেড়ে সদর উপজেলা চরমজিদ, চরমহিউদ্দিন, নিঝুম দ্বীপসহ বিভিন্ন চরে আশ্রয় নিচ্ছে। এভাবে ভাঙ্গন অব্যাহত থাকলে অচিরেই বাংলাদেশের মানচিত্র থেকে মুছে যাবে দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া। শ্যামনগরে পাউবো’র বেড়িবাঁধে ভাঙ্গন শ্যামনগর (সাতক্ষীরা ) সংবাদদাতা জানান, সাতক্ষীরার শ্যামনগর বুড়িগোয়ালিনী ও মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নে পাউবো’র বেড়িবাঁধে ভাঙ্গনের ফলে ইউনিয়ন প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। গতকাল শনিবার সেখানে গেলে দেখা যায়, বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের পূর্ব দুর্গাবাটি হাকিম গাজীর ঘের সংলগ্ন পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৫নং পোল্ডারে প্রায় ৩ ফুট ওয়াপদার বেড়িবাঁধে খোলপেটুয়া নদীর ভয়াবহ ভাঙ্গন, রাস্তা প্রায় অর্ধেকের বেশি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। যে কোন বড় জোয়ার ও ঢেউয়ের আঘাতে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে ইউনিয়নের পশ্চিম দুর্গাবাটি, ভামিয়া, আড়পাঙ্গাশিয়া, নীলডুমুর, বয়ারসিংহ, পোড়াকাটলা দাতিনেখালি ও মাদিয়াসহ প্রায় ১০টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় এলাকাবাসী শঙ্কিত হয়ে পড়েছে। বুড়িগোয়ালিনী ইউপি চেয়ারম্যান হাজী নজরুল ইসলাম ও মেম্বর মৃনাল কান্তি জানান, এখানে বাঁশের খাঁচা, বল্লি ও বস্তা ফেলে দ্রুত বাধা সৃষ্টি করতে হবে। তা না হলে ব্লাকসহ রাস্তা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। তিনি আরো বলেন, আশঙ্কাজনক এই ভাঙ্গনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রতিনিয়ত জানানো হচ্ছে কিন্তু দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। অপর দিকে মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের হরিনগর বাজার সংলগ্ন সিংহড়তলী ভোলানাথের বাড়ি হতে লুত্ফর ফকিরের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৪ ফুট চুনকুড়ি নদীর পাউবো’র বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে মুন্সিগঞ্জ ও ঈশ্বরীপুর ইউনিয়ন প্লাবিত হয়ে জানমালসহ ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। মুন্সিগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মোড়ল জানান, এমন অবস্থার জন্য সংশ্লিষ্ট পাউবো কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেছেন। সার্বিক বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট পাউবোর এসও নিখিল রঞ্জন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সরকারি বরাদ্দ না থাকায় কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান। ভাঙন আতংকে লোকজন বাড়ি সরিয়ে নিচ্ছে সারিয়াকান্দি (বগুড়া) সংবাদদাতা জানান, বগুড়ার সারিয়াকান্দির নিকট যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে আতংকিত লোকজন বাড়ি-ঘর সরিয়ে নিচ্ছে। উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের ধলিরকান্দি গ্রাম হতে চন্দনবাইশা ইউনিয়নের তালুকদার পাড়া পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ব্যাপক নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। গতকাল শনিবার ভাঙ্গন কবলিত এলাকার কুতুবপুরের নিজকর্নিবাড়ি গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে ওই গ্রামের আনছার আলী, আমিরুল, নয়ামিয়া, মহসিন, বারিক, আব্দুল মান্নানের পরিবারসহ ১০/১২টি পরিবার তাদের ঘর-বাড়ি সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে । কয়েক বছর ধরে যমুনা নদীর পানি হঠাত্ করে অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধির ফলে নদীর তীব্র স্রোতে নদী ভাঙতে শুরু করেছে। পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে নদী ভাঙ্গনে ওই এলাকার অর্ধশত পরিবার ঘর-বাড়ি সরিয়ে নতুন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ তাদের আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আরিফুর রহমান জানান, ভাঙন কবলিত এলাকায় ২/১ দিনের মধ্যে ভাঙন রোধে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হবে। তিনি আরও জানান, সারিয়াকান্দি এলাকা ছাড়াও ধুনটের বানিয়াজান এলাকায় নদী ভাঙন শুরু করেছে ।