প্র জ ন্ম ক থা

নব উচ্ছ্বাসে যুক্তির আসর

আপডেট : ১৮ মে ২০১৪, ১৯:৪৭
‘ন্যাশনাল ডিবেট ফেডারেশন অব বাংলাদেশ’ আয়োজন করে ৮ম এনডিএফ বিডি ন্যাশনাল ডিবেট ফেস্টিভ্যাল ’১৪। বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার বাংলা ও ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল, কলেজ, মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসা বিতার্কিক, মডারেটর ও শিক্ষকদের অংশগ্রহণে দুই দিনব্যাপী এই উত্সব অনুষ্ঠিত হয়। গত ১৬ মে উত্সবের উদ্বোধন করেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির ডিরেক্টর জেনারেল শামসুজ্জাম খান ও ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লি. ও চ্যানেল আইয়ের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ফরিদুর রেজা সাগর। এই উত্সবে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয় বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. আবুল বারকাতকে। সমাপনী দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যামিরেটস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান ও সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক ইত্তেফাকের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক তাসমিমা হোসেন, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান একরাম আহমেদ, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী। ৮ম এনডিএফ বিডি ন্যাশনাল ডিবেট ফেস্টিভ্যাল ’১৪-তে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন। লিখেছেন আহসান রনি এনডিএফ বিডি ফরমেট ডিবেট ন্যাশলাম ডিবেট ফেডারেশন বাংলাদেশ (এনডিএফ বিডি) বিতর্ককে আরও সুন্দর ও মজাদার করার লক্ষ্যে ‘এনডিএফ বিডি ফরমেট’ ডিবেট নামে নতুন এক ধরনের ডিবেট ফরমেট চালু করে। ৮ম বিতর্ক উত্সবেও এই বিতর্ক ফরমেটে একটি বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। বিতর্কের বিষয় ছিল—‘আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশি শ্রমিকদের অনিরাপদ অভিবাসন মানব পাচারের প্রধান কারণ’। বিতর্কের পক্ষে অংশ নেন শিহাব হাসান নিয়ন, আশরুপা হক চৌধুরী ও তাহসান বিনতে হাসান এবং বিপক্ষে ছিলেন নুর-ই-জান্নাত, তাসনুহা মেহনাজ ও কানিজ মেহজাবিন মেহের তোরসা। বিতর্কে তরুণ বিতার্কিকদের যুক্তির জাদুতে মুগ্ধ হয় দর্শকরা। রিলিফ ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের পৃষ্ঠপোষকতায় সুস্মিতা চৌধুরীর উপস্থাপনায় এই বিতর্কে কানিজ মেহজাবিন মেহের তোরসাকে সেরা বিতার্কিক ও রিলিফ ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের তরুণ অ্যাম্বাসেডর ঘোষণা করা হয়। উল্লেখ্য, তোরসা ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় স্কুল বিতর্কে ঢাকা অঞ্চলের সেরা বিতার্কিক হয়েছিলেন। গ্লোবাল ডিবেট উত্সবের প্রথম দিনে ছিল গ্লোবাল ডিবেট নামে মজাদার এক ডিবেট ফর্ম। এই ডিবেটে সাধারণত বিতার্কিকরা তাদের দেশকে অন্যদের থেকে বেশি ভালো হিসেবে সকলের কাছে উপস্থাপন করেন। এদিন বিতর্কের বিষয় ছিল—‘আমার দেশেই পাবে তুমি তোমার মনের মানুষ’। বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও মালদ্বীপের চারজন বিতার্কিক এই বিতর্কে অংশ নেয়। মালদ্বীপের হয়ে অংশ নেন ফাতিমাথ ইবতিহাল সামীর, নেপালের হয়ে আশীষ মিশ্র, ভারতের কাশ্মীর থেকে লুবনা মালেক এবং বাংলাদেশ থেকে সিন্থিয়া শারমীন বিনতে শহীদ। চারজনের প্রত্যেকে ‘এনাম মেডিকেল কলেজ’-এ পড়াশোনা করছেন। প্রত্যেকেই তাদের দেশেই যে সবাই তাদের মনের মানুষ খুঁজে পাবেন তা প্রমাণ করার চেষ্টা করেন। দেশের বাইরে থেকে আসা ডিবেটরদের ভাঙা ভাঙা বাংলা সকলকে আনন্দ দেয়। বিশিষ্ট বিতার্কিক উত্তম রায়ের উপস্থাপনা ও আলমগীর হোসেনের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত বিতর্কে দর্শকরা বিতর্কের পাশাপাশি বিতার্কিকদের সৌন্দর্যেও মুগ্ধ হন! প্ল্যানচেট ডিবেট চারদিকে ভুতুড়ে পরিবেশ। অন্ধকার। পিছনে শোনা যাচ্ছে ওঝার হু হু হা হা হাসির গর্জন। ভুতুড়ে গা ছমছম করা শব্দ চারদিকে। ওঝা একে একে ডাকতে শুরু করলেন আত্মাদের। একে একে মঞ্চে হাজির হলো প্রিন্সেস ডায়না, মান্না দে, হুমায়ূন আহমেদ, মার্গারেট থ্যাচার, নায়ক মান্না, কার্ল মার্কস ও মাইকেল জ্যাকসন। তারা তাদের মনের না বলা কথাগুলো শুনিয়ে যায় দর্শকদের। দর্শকরা চুপ হয়ে শোনে তাদের কথা। এভাবেই চলে প্ল্যানচেট ডিবেট। এই ডিবেটে অংশ নেন সারাদেশ থেকে আসা ডিবেটররা। তারা হলেন—সোহানুর রহমান সোহান, নাহিদ, বিজয়, মাহমুদুল ইসলাম, বুলি, অরূপ রতন চৌধুরী ও ইমরান হোসাইন। বিতর্কের ওঝা হিসেবে সকলের সামনে চমত্কারভাবে বিতর্কটি উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট বিতার্কিক ও ৮ম বিতর্ক উত্সবের উপস্থাপক আলমগীর হোসেন। সারাদেশ থেকে আসা সব বয়সের বিতার্কিকরা বিতর্কটি সবচেয়ে বেশি আনন্দের সাথে উপভোগ করেন। শিশু বিতর্ক এনডিএফ-এর ৮ম জাতীয় বিতর্ক উত্সবের যখন পরিকল্পনা করা হচ্ছিল তখন সকলের মাথায় ছিল জাতীয়ভাবে নতুন কিছু করার চেষ্টা। তখনই প্রস্তাব করা হয় শিশু বিতর্কের কথা। কারণ এর আগে নানা জায়গায় শিশু বিতর্ক হলেও জাতীয় কোনো অনুষ্ঠানে শিশু বিতর্ক হয়নি। সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর বিভিন্ন জাতীয় প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পাওয়া ডিবেটর নুর-ই-জান্নাতকে দায়িত্ব দেওয়া হয় শিশু বিতর্ক পরিচালনার। তিনি সারা দেশের নানা স্থান থেকে ছয়জন শিশু ডিবেটরদেরকে একত্র করেন এবং প্রায় দশ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ৮ম জাতীয় বিতর্ক উত্সব শুরু হয় শিশু বিতর্কের মাধ্যমে। বিতর্কের বিষয় ছিল ‘শিশুদের বিকাশে ডোরেমনের চেয়ে খেলার মাঠ বেশি গুরুত্বপূর্ণ’। এর পক্ষে ছিলেন সাদিকা তাসনিম ওর্নিলা, ইভান মান্নান ও সাদমান সাকিব নাবিল এবং বিপক্ষে ছিলেন সাওমিত হাসান সাওম, মাহফুজ আহমেদ অনিক ও কায়নাত কারিন। সাত-আট বছর বয়সী এই বিতার্কিকদের যুক্তিতে মুগ্ধ হয় বাংলা একাডেমির হল ভর্তি দর্শক। এছাড়াও সারা বাংলাদেশ থেকে আসা ডিবেটরদের নিয়ে প্রতিযোগিতামূলক ইংলিশ পাবলিক স্পিকিং প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এই প্রতিযোগিতায় স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার প্রায় অর্ধ শতাধিক ডিবেটর অংশগ্রহণ করে। পাবলিক স্পিকিংয়ের বিষয় ছিল—‘I will drink life to the less...’। চমত্কার ইংরেজি উচ্চারণে ডিবেটররা তাদের বক্তব্য বিচারকদের সামনে উপস্থাপন করেন। প্রতিযোগিতায় পাঁচজনকে পুরস্কৃত করা হয়। তারা হলেন—জিয়াউল, শাকিলা আক্তার, সিনাত ই আফরোজা, তাসমিউল হাসান, তাসনুরা আহসান। তার সাথে আরও কয়েকটি ক্যাটাগরিতে বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। ক্যাটাগরিগুলো হচ্ছে— বাংলা পার্লামেন্টারি ডিবেট, ফ্যান ডিবেট, বাংলা পাবলিক স্পিকিং, জুটি বিতর্ক।