বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আয়ের ক্ষেত্র হচ্ছে গার্মেন্টস সেক্টর। আর এই সেক্টরের সাথে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ পেশা হচ্ছে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং। বাংলাদেশের মতো তৈরি পোশাক শিল্পে সমৃদ্ধ একটি দেশে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং পেশাটা যে অন্যতম সেরা তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এই পেশায় কর্মরত কয়েকজন জানালেন এই পেশা সম্পর্কে তাদের বক্তব্য ও প্রত্যাশার কথা।
এস এম আজিজুর রহমান
জেনারেল ম্যানেজার অবনী টেক্সটাইলস লিমিটেড, ব্যাবিলন গ্রুপ
পেশা হিসেবে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বা বস্ত্র প্রকৌশলী যথেষ্ট সম্ভাবনাময়। শিল্প প্রতিষ্ঠানের সবক্ষেত্রেই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। সুতা থেকে পোশাক বানানোর প্রযুক্তিনির্ভর পুরো প্রক্রিয়াটিই ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিষয়। যেকোনো আঁশ থেকে সুতা, বস্ত্র এবং রঙের মিশেলে অধিকতর উপযোগী জিনিস বানানোর যে প্রযুক্তি এক কথায় তা-ই হলো টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং। প্রযুক্তি যেখানে, প্রকৌশলীদের প্রয়োজনও সেখানে। যেহেতু এখন অধিকাংশ বস্ত্রশিল্প কারখানায় কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত মাইক্রো ইলেক্ট্রোনিক্স প্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে, তাই তিনি প্রত্যাশা করেন তরুণ প্রজন্মের কিছু মেধাবী বস্ত্র প্রকৌশলীর। তিনি আশা করেন বস্ত্র প্রকৌশলীরা ফ্যাশন জগতেও ভূমিকা রাখবেন। দেশে বস্ত্র প্রকৌশলীদের অপ্রতুলতার কারণে এ পেশায় রয়েছে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের সম্ভাবনা। বস্ত্র প্রকৌশলীরা পুঁজি সংগ্রহ করে নিজ উদ্যোগে টেক্সটাইল মিল স্থাপন করে এই শিল্পকে আরও উন্নতির কাজে সাহায্য করবেন বলে আশা তার। নতুনদের কাছে তার প্রত্যাশা তারা প্রযুক্তির সাথে আপডেট থাকবে, সেটার প্রয়োগ করবে বাস্তবেও।
===
রুবেল আক্তার সোহাগ
অপারেশন ম্যানেজার, মার্ক-আপ গ্রুপ
একজন ইঞ্জিনিয়ারকে মেশিন সেটাপ থেকে শুরু করে প্রসেস কন্ট্রোল, প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট, গিয়ার মেকানিজম এবং মেইন্টেনেন্স নিয়ে কাজ করতে হয়। সব মিলিয়ে দায়িত্বপূর্ণ কাজ করতে হয় তাদেরকে। একটা ফ্যাক্টরি নির্ভর করে তাদের উপর। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন বায়িং অফিসে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়াররা আরও ভালো ভালো কাজ করবে বলে আশা করেন তিনি। যেহেতু টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিতে উত্পাদন কার্যক্রমের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত হয়ে কাজ করতে হয় তাদের, সেহেতু নতুন যারা আসবেন তারা এই পেশায় কাজ সম্পর্কে জেনে এবং ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জন করে এই পেশায় যুক্ত হবে বলে আশা করেন তিনি। টেক্সটাইল শিল্পে দক্ষ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের অপ্রতুলতার কারণে শিক্ষাজীবনের শেষ বর্ষেই অধ্যয়নরতদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান চাকরিতে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়। তিনি জানান, ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষাজীবনে এটি কোনো বিরূপ প্রভাব ফেলে না। তিনি আশা করেন শিক্ষার্থীরা পড়ার পাশাপাশি কাজ শিখবে এতে তারা যখন পড়াশোনা শেষ করবে তখন কাজে আরও দক্ষ হয়ে উঠবে। তিনি প্রত্যাশা করেন, তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিরা এই পেশায় যুক্ত হবে এবং ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে এই পেশার ভালো অবস্থানে পৌঁছবে।
===
মো. পলাশ হোসাইন
অ্যাসিস্টেন্ট মার্কেন্ডাইজার
ইকো সোর্সিং বায়িং হাউজ
টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়েই তারপর টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার হতে হয়। পড়াটাকেই অনেকে ধ্যান-জ্ঞান বানিয়ে ফেলেন। কিন্তু পড়াশোনার পাশাপাশি এই পেশায় ব্যবহারিক জ্ঞান অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই, যারা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছেন তারা ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জন করার চেষ্টা করবেন এমনটাই প্রত্যাশা তার। তার মতে, পড়াশোনা শেষে যে ইন্টার্নি হয় সেটি অনেক গুরুত্বের সাথে শেষ করে তার পরে এই পেশায় প্রবেশ করা উচিত। টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে অনেকগুলো ভাগ আছে। তিনি প্রত্যাশা করেন, প্রত্যেকেই নিজে কোন বিষয়টিতে ভালো সেটি ঠিক করে সেই বিষয়ে পড়াশোনা করবেন। তাহলেই সে পেশাজীবনে ভালো করতে পারবেন। তিনি আশা করেন, সরকার এই পেশাকে রাজনৈতিক আওতামুক্ত রাখবে, বিদেশিদের বাংলাদেশমুখী করতে পর্যাপ্ত সহযোগিতা করবে এবং বৃহত্ গার্মেন্টস শিল্পের উন্নতিতে এগিয়ে আসবে।
