বড় তিন দলে গণতন্ত্র না থাকায় বাড়ছে দুর্নীতি

আপডেট : ১৮ মে ২০১৪, ২২:২০
গণতন্ত্র বিকাশের প্রধান অন্তরায় হচ্ছে পরিবারতন্ত্র। দেশের গণতন্ত্র রক্ষা করতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোকে পরিবারতান্ত্রিক চিন্তা-ভাবনা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। এছাড়া দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের গঠনতন্ত্র মানে না। নেতৃত্ব নির্বাচনে তৃণমূলের মতামত নেয় না। শনিবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে ‘রাজনৈতিক দল ও বাংলাদেশের গণতন্ত্র’ শীর্ষক সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন। সংলাপের আয়োজন করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সিপিডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহানের উপস্থাপনায় সংলাপে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, পানি সম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. মুস্তাফিজুর রহমান, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার শামসুল হুদা, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন, বিএনপি নেতা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ প্রমুখ। মূল প্রবন্ধে উপস্থাপন করেন গবেষক রওনক জাহান। তিনি বলেন, দেশের বড় তিনটি দল আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি দলের গঠনতন্ত্র মানে না। এসব দলের ভেতরে গণতন্ত্র নেই। একই জন সরকার প্রধান এবং দলীয় প্রধান। এসব কারণে দেশে দুর্নীতি বেড়েছে। তিনি আরো বলেন, তৃণমূলের মতামত ছাড়াই এসব দলের কাউন্সিল হয়। ক্ষমতায় থাকলে দলগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল বাড়ে। জোটে কোন্দল বাড়ে। এসব সমস্যার কারণেই নারায়ণগঞ্জের নূর হোসেনের মতো লোক দলে জায়গা করে নেয়। দলের প্রধানের কাছে সব ক্ষমতা দেয়ায় দলগুলোতে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পায়। তোফায়েল আহমেদ বলেন, সামরিক শাসকরা রাজনীতিবিদদের হাত থেকে রাজনীতি কেড়ে নিয়েছেন। এছাড়া যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বলা হতো নেতা তৈরির কারখানা সেখান থেকে রাজনৈতিক নেতৃত্ব বের হয়ে আসছে না। কারণ একটাই, ছাত্র সংসদ নির্বাচন নেই। আমাদের দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন হওয়া এবং ছাত্র সংসদ নির্বাচন দেয়া দরকার। মওদুদ আহমদ বলেন, বর্তমানে রাজনীতিতে মিথ্যাচার এবং অনৈতিকতা অনেকটাই মিশে গেছে। এটা থেকে বের হতে হবে। ওয়ান ইলেভেনের সরকার দেশের সকল প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে গেছে। তিনি বলেন, সরকার বিএনপিকে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে দিলে আমরা হরতালের মতো কর্মসূচী দেবো না। শামসুল হুদা বলেন, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সুশাসন ও আইনের শাসন খুবই প্রয়োজন। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধংস করা হলে নূর হোসেনের মতো লোকের উত্থান হয়। অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, সুশাসনের জন্য পারিবারিক রাজনীতি ক্ষতিকারক। তাই গণতন্ত্রের স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোকে পরিবারতন্ত্র থেকে বের হয়ে আসতে হবে।