একদিন রাস্তা দিয়ে তিনি হেঁটে যাচ্ছিলেন। ৩টি ডাহুক পাখির ছানা পড়েছিল। তাঁর খুব মায়া হলো। বাসায় নিয়ে এলেন। মানুষজন বলাবলি করছিল, লোকটি পাগল নাকি! এতটুকুন বাচ্চা বাঁচবে? তিনি কারো কথা শুনলেন না। পাখির যত্ন নিলেন। চিকিত্সাও করলেন টুকটাক। নিজে পোষাপাখি পুষতেন। তাই জানা-শোনা ছিল কখন কী করতে হয়। বাচ্চা ডাহুকগুলো বড় হলো। একদিন তিনি পাখিগুলো বনে ছেড়ে দিলেন। এ ঘটনা ১৮ বছর আগের। এই থেকে পাখির চিকিত্সা করে যাচ্ছেন ডা. এম এ মান্নান।
নিজে মানুষের চিকিত্সক। ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন সহকারী আবাসিক চিকিত্সক ও সার্জন। কৃতি শিক্ষার্থী ছিলেন। মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষায় সারাদেশের মাঝে তৃতীয় হয়েছিলেন। ডা. এম এ মান্নান বাংলাদেশে খাঁচার পাখির আধুনিক চিকিত্সার প্রবর্তক। নিজের লাভ হোক বা না হোক, পাখি অসুস্থ শুনলেই তিনি ছুটে যান। ফোনে পরামর্শ দেন। শুধু চিকিত্সা নয়, খাঁচায় পোষা পাখিতে মান্নানের সফলতা বলার মতো। ২৫০ প্রজাতির বেশি পাখি পালন করেছেন তিনি।
লাভবার্ডের দু-একটি বাদে সব প্রজাতি তাঁর খামারে ডিম বাচ্চা করেছে। কিছুদিন আগে ও দেশে পোষা পাখির চিকিত্সা ছিল না বললেই চলে। অসুস্থ হলেই পাখিকে নিমপাতা, অ্যালোভেরা জেল খাওয়ানো হতো। সেখানে সচরাচর পোষা পাখির যে সব রোগ হয় সবগুলো রোগের ওষুধ খুঁজে বের করতে সক্ষম হন তিনি। এ জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। খাঁচার পাখির খাবার, রোগ-বালাই, ডিম বাচ্চা করা ইত্যাদি বিষয়ে ব্যাপক গবেষণা করেছেন তিনি। ইন্টারনেটে বিশ্বের বিখ্যাত এভিয়ান ভেটদের সাথে যোগাযোগ করেন। বিদেশ থেকে পাখি বিষয়ক বই এনে পড়াশোনা করেন। বনের পাখি যেন মানুষ হত্যা না করে, শিকার না করে, সেজন্য মান্নান বিভিন্নরকম সচেতনতামূলক কাজ করেন। এক সময় মান্নান দেখলেন, চিকিত্সার অভাবে পাখি মারা যাচ্ছে। ভুল চিকিত্সা হচ্ছে। চিকিত্সা বিষয়ে জানাতে তিনি ফ্রি প্রশিক্ষণের আয়োজন করেন। কয়েকবার তিনি পাখি পালন, রোগ-বালাই ও চিকিত্সা শীর্ষক ফ্রি কর্মশালার আয়োজন করেছেন। কয়েক দফায় কয়েকশ’ পাখি পালককে প্রশিক্ষণ দেন। আবার আপ্যায়নও করেন। সবই সম্পূর্ণ ফ্রি। আর্থিক কোনো লাভ নেই। শুধুই ভালোবাসা। ভালোবেসেই মান্নান অবোলা পাখিদের পাশে আছেন। সে কথাই বলছিলেন তিনি। ‘পাখিদের চিকিত্সা করে আনন্দ পাই। ওরা যখন সুস্থ হয় আমার খুব ভালো লাগে। এতেই আমার তৃপ্তি।’—আত্মবিশ্বাস, আত্মতৃপ্তি নিয়ে বলেন ডা. এম এ মান্নান।
ভিন্নচোখে ডেস্ক
