চট্টগ্রাম বন্দরের জেটি থেকে পণ্য চুরি কিংবা গায়েব হয়ে যাওয়ার ঘটনা রোধ করা যাচ্ছে না। পূর্বের তুলনায় বর্তমানে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও কর্তৃপক্ষ এটি পুরোপুরি বন্ধ করতে পারছে না। বন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বে সেনাবাহিনী, আনসার ও নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী থাকলেও অসাধু চক্র মাঝে মধ্যেই তাদের অপকর্ম করে থাকে।
চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (নিরাপত্তা) লে. কর্নেল মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, তার দায়িত্ব থাকাকালীন এ পর্যন্ত প্রায় চারশ লোককে আটক করেছেন। এতে করে পণ্য চুরি কিংবা গায়েব হওয়ার ঘটনা অনেকাংশেই বন্ধ হয়ে গেছে। এরপরও কিছু কিছু ক্ষেত্রে এ ধরনের অপকর্ম হতে দেখা যায়। তা বন্ধেও কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
জানা যায়, চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্য চুরির সাথে কতিপয় অসাধু জেটি সরকার, সিএন্ডএফ কর্মচারী, বন্দর নিরাপত্তা কর্মী এবং কিছু চোরচক্র পরস্পরের সহযোগিতায় কাজ করে থাকে। চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিসমূহ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় থাকলেও অভিযোগ রয়েছে সেগুলো সবসময় সচল থাকে না। সিসিটিভি ক্যামেরাসমূহ সার্বক্ষণিক চালু থাকলে বিভিন্ন ইয়ার্ড ও শেডে চুরি অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।
গত রবিবার বন্দরের পণ্য চুরি বন্ধে বন্দর নিরাপত্তা পরিচালকের সাথে সিএন্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দের বৈঠকে সিএন্ডএফ কর্মকর্তাগণও সিসিটিভি ক্যামেরা ২৪ ঘণ্টা চালু রাখার যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। তাছাড়া যে সকল স্থানে চুরি হয়ে থাকে ওই সকল স্থানের দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা কর্মীদের অন্যত্র সরিয়ে দেয়া কিংবা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসার কথা বলা হয়। বন্দর নিরাপত্তা রক্ষীদের ডিউটি না থাকলে তারা যেন সিভিল ড্রেসে বন্দরের ভেতর ঘোরাফেরা না করে সেদিকেও কর্তৃপক্ষের সতর্ক থাকার জন্য সিএন্ডএফ নেতৃবৃন্দ মতামত দেন।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, চোর চক্রের অনেক সক্রিয় সদস্য বন্দরের ভেতর কর্মচারীর ন্যায় ঘোরাফেরা করে এবং সুযোগ বুঝে অপকর্ম চালায়। গত সপ্তাহে ঢাকার একটি গার্মেন্টসের কাপড় চুরির সাথে ওই প্রতিষ্ঠানের জেটি সরকারসহ বন্দরের বাইরের একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্র জড়িত ছিল বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
তবে চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা বিভাগ থেকে দাবি করা হয়েছে, কাভার্ড ভ্যান ভর্তি ট্রাক বন্দর থেকে পণ্য নিয়ে বের হওয়ার সময় প্রতিটি ভ্যানের পেছনের দরজা যদি খোলা থাকে তবে কেউ অবৈধ বা চুরি পণ্য নিয়ে বের হতে পারবে না। একইভাবে অন চেসিজ ডেলিভারীর সময় কন্টেইনারের পেছনের দরজা খোলা রাখা হলেও অবৈধ কিংবা চুরির পণ্য বের হতে পারবে না। অবশ্য সিএন্ডএফ’র পক্ষ থেকে বলা হয়, বন্দরের ভেতর যে মুহূর্তে পণ্য ভর্তি করা হয় তখন সিকিউরিটির লোকজন থাকে। তাই বের হওয়ার সময় দরজা খোলা রাখা জরুরি নয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, কাভার্ড ভ্যান কিংবা কন্টেইনারের দরজা বন্দর থেকে বের হওয়ার সময় খোলা থাকলে শুধু চুরি নয়, মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আনাও বন্ধ হয়ে যাবে। মূলত এ কারণেও অনেকে দরজা খোলা রাখতে চায় না।
