ষষ্ঠ ধাপে আওয়ামী লীগ ৮, বিএনপি ৪টি

আপডেট : ১৯ মে ২০১৪, ২৩:০৯
চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ষষ্ঠ ধাপে একটি উপ-নির্বাচনসহ ১৩টি উপজেলার নির্বাচন শেষ হয়েছে। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে বিদ্রোহীসহ আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন আটটিতে, বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা চারটিতে বিজয়ী হয়েছেন। জাতীয় পার্টির দুর্গ হিসাবে খ্যাত রংপুরের চারটি উপজেলার মধ্যে একটিতেও তাদের সমর্থিত প্রার্থীরা বিজয়ী হতে পারেনি। রংপুরের চারটি উপজেলার মধ্যে আওয়ামী লীগ দুইটি ও বিএনপি দুইটিতে জয়লাভ করেছে। এছাড়াও ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার চেয়ারম্যান পদের উপ-নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। এ নিয়ে সোমবার পর্যন্ত সব মিলিয়ে সারাদেশে ৪৮৭টি উপজেলার মধ্যে ৪৭১টি উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হল। প্রথম দু’টি ধাপের নির্বাচনে বিএনপি এগিয়ে ছিল, পরবর্তী তিন ধাপে এগিয়ে যায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। গতকাল অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ ধাপের নির্বাচনেও এগিয়ে থাকল আওয়ামী লীগ। ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রথম ধাপে ৯৮টি, দ্বিতীয় ধাপে ২৭ ফেব্রুয়ারি ১১৬টি, ১৫ মার্চ তৃতীয় ধাপে ৮১টি, ২৩ মার্চ চতুর্থ ধাপে ৯১টি এবং ৩০ মার্চ পঞ্চম ধাপে ৭৩টি উপজেলায় নির্বাচন হয়। নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী গত পাঁচ ধাপে ৪৫৯টি উপজেলার মধ্যে বিদ্রোহীসহ আওয়ামী লীগ ২৩৪, বিএনপি ১৬৩টি, জামায়াতে ইসলামী ৩৬টি, জনসংহতি সমিতি ৯টি, ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট-ইউপিডিএফ ৪টি, জাতীয় পার্টি-জাপা ৩টি, জাতীয় পার্টি-জেপি ১টি, এলডিপি ১টি ও স্বতন্ত্রসহ অন্যান্য ৮টি জয় পেয়েছে। পাঁচ ধাপে ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ পেয়েছে ১৭০টি, বিএনপি ১০৬টি, জামায়াত ১২০টি এবং অন্যরা পেয়েছে ৬৩টি। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ ১৭৮টি, বিএনপি ১৮৬টি, জামায়াত ৩৫টি এবং অন্যরা ৬০টিতে বিজয়ী হয়েছে। এই নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির হার ছিল প্রথম পর্বে ৬২ দশমিক ৪৪ শতাংশ, দ্বিতীয় পর্বে ৬৩ দশমিক ৩১ শতাংশ, তৃতীয় পর্বে ৬৩ দশমিক ৫২ শতাংশ, চতুর্থ পর্বে ৫৬ দশমিক ১২ শতাংশ ও পঞ্চম পর্বে ৬০ দশমিক ৮৯ শতাংশ। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী রংপুরের সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের নাসিমা জামান ববি, পীরগাছায় চেয়ারম্যান পদে বিএনপি সমর্থিত আফছার আলী জয়লাভ করেছেন। কাউনিয়া উপজেলায় তিনটি পদে ১৯ দলীয় জোটের প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন। চেয়ারম্যান পদে বিএনপির মাহফুজার রহমান মিঠু, ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিএনপির শাহ মো. ফরহাদ হোসেন অনু ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী মনঝুরী বেগম জয়ী হন। রংপুরের গঙ্গাচরা উপজেলা আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আসাদুজ্জামান বাবলু বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের আবদুল মতিন চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিএনপির আবদুল মান্নান শেখ এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে শম্পা খাতুন বিজয়ী হয়েছেন। বরগুনার তালতলিতে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনিরুজ্জামান মিন্টু, ভাইস চেয়ারম্যান পদে জাতীয় পার্টি (জাপা) সমর্থিত খলিলুর রহমান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মাকসুদা পারভীন জয়লাভ করেছেন। টাঙ্গাইলের বাসাইলে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির কাজী শহীদুল ইসলাম বিজয়ী হয়েছেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে জামায়াতের মো. শফিকুল ইসলাম ও সংরক্ষিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিএনপির রাশেদা সুলতানা রুবি জয়ী হন। গাজীপুর সদর উপজেলায় তিনটি পদেই বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। চেয়ারম্যান পদে ইজাদুর রহমান মিলন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে আবু তাহের মুসল্লিহ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে হাসিনা সরকার জয়ী হন। রাজবাড়ীর কালুখালিতে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের কাজী সাইফুল ইসলাম বিজয়ী হয়েছেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে জামায়াতের এডভোকেট সিদ্দিকুর রহমান। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসাবে বিজয়ী হয়েছেন কালুখালী উপজেলা জাসদের মহিলা সম্পাদিকা শারমিন আক্তার টুকটুকি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে তিনটি পদেই আওয়ামী লীগ সমর্থিতরা বিজয়ী হয়েছেন। চেয়ারম্যান পদে তানভীর ভুঁইয়া, ভাইস চেয়ারম্যান পদে বাবুল আক্তার এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ফয়জুন্নাহার টুনি। কুমিল্লার আদর্শ সদরে তিনটি পদেই আওয়ামী লীগ সমর্থিতরা বিজয়ী হয়েছেন। চেয়ারম্যান পদে অধ্যক্ষ আব্দুর রউফ, ভাইস চেয়ারম্যান পদে আমিনুল ইসলাম টুটুল, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে হোসনে আরা বেগম। সদর দক্ষিণ উপজেলারও তিনটি পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিতরা বিজয়ী হয়েছেন। এরা হলেন চেয়ারম্যান পদে গোলাম সারওয়ার, ভাইস চেয়ারম্যান পদে আব্দুল হাই বাবলু, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে কাজী দেলোয়ারা বেগম। ময়মনসিংহের তারাকান্দায় চেয়ারম্যান পদের উপ-নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত মোতাহার হোসেন তালুকদার বিজয়ী হয়েছেন।