এবার নার্সদের পেটালেন ইন্টার্ন চিকিত্সকরা!

আপডেট : ১৯ মে ২০১৪, ২৩:২৮
রাজশাহীতে সাংবাদিক, বরিশালে রোগীর স্বজনদের ওপর হামলার পর এবার সিলেটে খোদ সহকর্মী নার্সদের পেটানোর অভিযোগ উঠেছে ইন্টার্ন (শিক্ষানবীশ) চিকিত্সকদের বিরুদ্ধে। গত রবিবার গভীর রাতে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। এই অপ্রীতিকর ঘটনার জের ধরে হাসপাতালের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। জড়িতদের শাস্তির দাবিতে কলেজের নার্সিং ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন। ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের কমিটি গঠন করতে যাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, রাত সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতালের ৫নং ওয়ার্ডে দায়িত্বরত ইন্টার্ন চিকিত্সক তোফায়েল আহমদ সেবক (পুরুষ নার্স) প্রলয়কে ডেকে পাঠান। প্রলয় তার কাছে পৌঁছতে বিলম্ব করলে, এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে তোফায়েলসহ সেখানে উপস্থিত আরো কয়েকজন শিক্ষানবীশ চিকিত্সক প্রলয়ের উপর হামলা চালান। এ সময় এলিন ও আরো এক শিক্ষার্থী নার্স এগিয়ে এলে তাদেরকেও পেটানো হয়। এলিনকে মাটিতে ফেলে তার মাথায় আঘাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে এই তিনজনকে মারধর করে হাসপাতালের মেঝেতে ফেলে রেখেই চিকিত্সকরা চলে যান। খবর পেয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সেখানে পৌঁছে আহত নার্সদের উদ্ধার করে। এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল সোমবার সকালে নার্সিং ইন্সটিটিউটের প্রায় ৩শ’ শিক্ষার্থী ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। তারা হামলায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে হাসপাতালের পরিচালকের নিকট স্মারকলিপি দেন। পরে বেলা ১২ টার দিকে তারা হাসপাতালের সামনের সড়কে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করলে সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ এসে তাদের রাস্তা থেকে হটিয়ে ক্যাম্পাসের ভেতরে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় বিকাল সাড়ে ৩ টার দিকে মেডিক্যাল কলেজের ছাত্ররা ক্যাম্পাসে পাল্টা মিছিল করেন। কোতোয়ালী থানার ওসি আতাউর রহমান জানান, পাল্টাপাল্টি মিছিলের পর হাসপাতাল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। দুপুরে হাসপাতাল পরিদর্শনকালে দেখা যায়, বিভিন্ন বিভাগে চিকিত্সা কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে। তবে একটি সূত্র জানায়, এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হলে হাসপাতালের নিয়মিত নার্সরাও আন্দোলনে যাবেন। হাসপাতালের উপ-পরিচালক তন্ময় ভট্টাচার্য জানান, খবর পেয়ে রাতেই তিনি ও হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার সারওয়ার ৫নং ওয়ার্ডে ছুটে যান। প্রলয়কে উদ্ধার করে চিকিত্সা দেয়া হচ্ছে। এ ঘটনা তদন্তে এক জন অধ্যাপককে প্রধান করে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।