ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে গত রবিবার অনুষ্ঠিত ১০৫তম একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় পাস হওয়া নতুন ১৫টি বিভাগ খোলা বিষয়ক প্রস্তাবটি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন অধিকাংশ শিক্ষক। সভায় উপস্থিত ১৪৩ জন সদস্যের মধ্যে প্রায় ৮০ জন সদস্য ওই প্রস্তাব বাতিলের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. আবদুল হাকিম সরকারকে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন। দাবি আদায় না হলে বুধবার তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।
অভিযোগ উঠেছে, একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনবল বিন্যাস (অর্গানোগ্রাম) বিষয়ক নতুন ১৫টি বিভাগ খোলার প্রস্তাবটি উত্থাপিত হলে অধিকাংশ শিক্ষক এর বিরোধিতা করেন। কিন্তু ভিসি একক ক্ষমতায় প্রস্তাবটি পাস বলে ঘোষণা দিলে সভায় তুমুল হট্টগোল শুরু হয়। এক পর্যায়ে শিক্ষকদের তোপেরমুখে ভিসি সভাকক্ষ থেকে দ্রুত বেরিয়ে যান।
এ ঘটনার পর গতকাল সোমবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধি দল ভিসি প্রফেসর ড. আবদুল হাকিম সরকারের সাথে দেখা করেন। এসময় তারা ভিসিকে বলেন, একাডেমিক কাউন্সিলে গায়ের জোরে এভাবে প্রস্তাব পাস করিয়ে নেয়া নজিরবিহীন। তারা বলেন, সভায় গৃহীত প্রস্তাবটি আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে আপনি (ভিসি) প্রত্যাহার করবেন। অন্যথায় আগামী ২১ মে বুধবার আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করব। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. শাহিনুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. আফজাল হোসেন এবং শিক্ষকদের মধ্যে প্রফেসর ড. শহীদুল ইসলাম নুরী, প্রফেসর ড. আলীনুর রহমান, প্রফেসর এম এয়াকুব আলী, প্রফেসর ড. মিজানুর রহমান, প্রফেসর ড. রুহুল আমিন ভুঁইয়া, প্রফেসর ড. তোজাম্মেল হোসেন, প্রফেসর ড. ইকবাল হোছাইন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
অধ্যাপক ড. শহীদুল ইসলাম নুরী বলেন, ভিসি তার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করলে বুধবার ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করা হবে। সেই সাথে পরবর্তীতে আরো কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে।
এ প্রসঙ্গে ভিসি প্রফেসর ড. আবদুল হাকিম সরকার বলেন, ‘কিছু শিক্ষক আমার সাথে দেখা করে জনবল বিন্যাস (অর্গানোগ্রাম) বিষয়ে নেয়া সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য বলেছেন। আমি তাদের বলে দিয়েছি, এটা কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। কোনো সিদ্ধান্ত যদি বিশ্ববিদ্যালয় সংবিধির লঙ্ঘন হয় তাহলে তা আপনা আপনি বাতিল হয়ে যাবে।’
