‘হরলাল উচ্চ বিদ্যালয়, আমতা’। এক সময়ের প্রমত্তা নদী বংশীর খরস্রোতা শাখা আলেক নদীর তীরে ঢাকার অদূরে ধামরাই উপজেলার আমতা গ্রামে সবুজ বৃক্ষরাজির সুশীতল ছায়ায় অবস্থিত এ বিদ্যাপীঠটি। আমি সঞ্চিতা সূত্রধর এ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের একজন ছাত্রী। আমতার তত্কালীন জমিদার জিতেন্দ্র লাল রায় স্বীয় পিতা হরলাল রায়ের নামে ১৮৮৪ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত করেন। একটি টিনের ঘর দিয়ে যাত্রা শুরু হয় এ বিদ্যালয়টির। পরবর্তীতে জিতেন্দ্র লাল রায়ের মামা মির্জাপুরের দানবীর রনদা প্রসাদ রায় বাহাদুর নিজ ভাটার ইট দিয়ে নির্মাণ করে দেন বিদ্যালয়টির মূল ভবন। বিদ্যালয় আঙ্গিনায় রয়েছে নানা প্রকার ফলজ বৃক্ষ। উত্তর-পূর্ব পাশে রয়েছে বিশাল খেলার মাঠ। রয়েছে সুসজ্জিত বিজ্ঞানাগার, কম্পিউটার ল্যাব। বিদ্যালয়ের দৃষ্টি নন্দিত মসজিদটি নিজস্ব অর্থায়নে বার লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করেছেন আজীবন দাতা সদস্য মানেজিং কমিটির সভাপতি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট বিভাগের সিনিয়র এ্যাড. আব্দুল বারেক চৌধুরী। জরাজীর্ণ মূলভবনের ছাদ নির্মাণ এবং পুরো ভবনটি মেরামতও করেছেন তিনি। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে ৫৫০ জন। শিক্ষক রয়েছেন ১৬ জন। আমাদের প্রধান শিক্ষক আলহাজ্জ মো. সাইফুল ইসলাম। শিক্ষা, সংস্কৃতি, খেলাধূলাসহ নানা বিষয়ে আমাদের বিদ্যালয়টির বেশ সুনাম রয়েছে। গরীব ও মেধাবীদের জন্য রয়েছে বিনা বেতনে অধ্যয়নের সুযোগ। ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, অন্যান্য সদস্য, শিক্ষক, সম্মানিত অভিভাবক ও এলাকাবাসী বিদ্যাপীঠটির সার্বিক উন্নয়নে সচেষ্ট। প্রাক্তন সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্জ বেনজীর আহমদ সরকারি অর্থায়নে ৫২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে চারতলা ভিত্তির ওপর একটি একতলা ভবন নির্মাণে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন। ওই বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক আমতা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ মিয়া জানান, আমতার কৃতিসন্তান ভারতের সাবেক এটর্নীজেনারেল প্রায়াত রাধিকার সেন, ভারতের ফিশারীজ ডিপার্টমেন্টের সাবেক প্রধান বাউখন্ড গ্রামের প্রয়াত কালিপদ সাহা, বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধান মন্ত্রী মরহুম আতাউর রহমান খান, মুর্শীদাবাদের কালমা কালিবাড়ি মন্দিরের প্রখ্যাত আধ্যাত্নিক সাধক ভব পাগলা, তিতাস গ্যাসের বর্তমান ডিজিএম মো. জয়নাল আবেদীন, মানিকগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. শাহ আলম অত্র বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র। নিরিবিলি ও মনোরম গ্রামীণ পরিবেশে অবস্থিত হরলাল উচ্চ বিদ্যালয়টি আমার প্রিয় বিদ্যাপীঠ, এ বিদ্যাপীঠে অধ্যয়ন করতে পেরে আমি গর্বিত।
