অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নতুন দফতর করছে ভারত

আপডেট : ২০ মে ২০১৪, ২৩:২০
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মতো প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নতুন দপ্তর চালু করতে বলেছেন ভারতের ভাবী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এজন্য স্বরাষ্ট্র সচিব অনীল গোস্বামীকে ‘দ্রুততম সময়ের’ মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি বিশেষ দপ্তর চালু করতে বলেছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও বিজেপি সূত্রের বরাত দিয়ে অনলাইন বার্তা সংস্থা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন জনসভায় ভারতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মোদী। এমনকি তল্পিতল্পাসহ তাদের ফেরত পাঠানো হবে বলে জানিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগেই তার এ ধরনের পদক্ষেপে আসন্ন সরকারের মনোভাব এই ইস্যুতে কঠোর হবে এমন ইঙ্গিতই দিচ্ছে। মোদী নিজেই টেলিফোনে স্বরাষ্ট্র সচিবকে নতুন দপ্তর খুলতে বলেন। এজন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে নতুন দপ্তরের বিস্তারিত ঠিক করতে বিজেপির এমপি ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব আর কে সিংকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে চাকরি থেকে অবসর নেয়ার পর বিজেপিতে যোগ দেন এই সাবেক আমলা। লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে অনু্প্রবেশ নিয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানান নরেন্দ্র মোদী। ক্ষমতায় গেলে বিশেষ করে আসাম ও পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ারও ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। নির্বাচনের আগে মোদীর এ ধরনের বক্তব্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন মহলে আলোচনার ঝড় ওঠে। তবে অনেক বিশ্লেষকের দাবি ছিলো বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে মোদীর এ ধরনের বক্তব্য ছিলো নির্বাচনী প্রচারণার কৌশল। ক্ষমতায় গেলে তার এই মনোভাব নাও থাকতে পারে। তবে কিছু মহলে তার এসব বক্তব্যে শঙ্কাও ছিলো। তবে দপ্তর খোলার বিষয়ে বিজেপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেছেন, মোদীর এই পদক্ষেপে ঢাকা ও ইসলামাবাদের ‘বিচলিত’ হওয়ার কিছু নেই। কারণ এটা সম্পূর্ণরূপে ভারতের ‘অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা’ জোরদারের একটি প্রস্তাব। এই নেতা আরো বলেন, অবৈধ অভিবাসীদের ঠেকানোর অধিকার রয়েছে আমাদের, যারা এখানে এসে আমাদের কাজের সুযোগ নিয়ে নিচ্ছে। আজমল কাসাবের মতো সন্ত্রাসীদের দেশে ঢুকতে না দেয়ার অধিকার আমাদের আছে। মোদী মনে করেন, ভারতেরও যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা থাকা দরকার যাতে সন্ত্রাসী তত্পরতা এবং আসামে সংঘটিত অভিবাসীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষের পুনরাবৃত্তি ঠেকানো যায়। তবে এ বিষয়ে গণমাধ্যমে কথা বলার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত না হওয়ায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি। নির্বাচনী প্রচারণায় বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে প্রচারণাকালে ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলেন মোদীসহ বিজেপির অন্যান্য নেতারা। ২৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের শ্রীরামপুরে বিজেপি’র এক নির্বাচনী সমাবেশে মোদী বলেন, ভোটের জন্য অন্যান্য রাজনৈতিক দল অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের লাল গালিচা সংবর্ধনা দিয়ে স্বাগত জানায়। কিন্তু বিজেপি ক্ষমতায় এলে এসব বাংলাদেশি অবৈধ অভিবাসীকে বিতাড়িত করা হবে। ১৬ মে’র পর এসব বাংলাদেশি ব্যাগ গুছিয়ে তৈরি হয়ে থাকলেই ভাল করবে। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে আক্রমণ করে মোদী বলেছিলেন, ভোট ব্যাংক রাজনীতির জন্য আপনারা লাল গালিচা বিছিয়ে রেখেছেন। বিহার থেকে লোক এলে, তারা আপনাদের কাছে বহিরাগত হয়ে যায়। উড়িষ্যা থেকে এলেও বহিরাগত। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে কয়েকজন এলেই আপনাদের চোখমুখ উজ্জ্বল হয়ে যায়। এইভাবে দেশ চলতে পারে না। চলতি মাসের শুরুতে ভারতে লোকসভা নির্বাচনের মধ্যে আসামে মুসলিম হত্যার একদিন পর ফের অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের তাড়ানোর কঠোর সংকল্প ব্যক্ত করেন মোদী। এক সপ্তাহের ব্যবধানে পশ্চিমবঙ্গে আরেকটি জনসভায় মোদী ফের অভিবাসনের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকার নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য নিজ দেশের জনগণের চেয়ে অনুপ্রবেশকারীদের বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তাদেরকে অবশ্যই ফিরে যেতে হবে। নির্বাচনের প্রচারণাকালে বিজেপি সভাপতি রাজনাথ সিংয়ের ভাষাও ছিল অনেকটা সেরকম। তিনি বলেছিলেন, ১৯৭১ সালের পর বাংলাদেশ থেকে যে সব মানুষ ভারতের অসম, পশ্চিমবঙ্গ ও অন্যান্য রাজ্যে এসে বসতি গেড়েছে তাদের অবৈধ অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। কিছু প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতে এখন প্রায় ২ কোটি বাংলাদেশি অভিবাসী আছে। কিন্তু এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য নেই।