এনইসিতে ৮৬ হাজার কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন

আপডেট : ২০ মে ২০১৪, ২৩:২২
আসছে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) জন্য ৮৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)। মোট বরাদ্দের মধ্যে ৫ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা বিভিন্ন সংস্থা ও কর্পোরেশনের নিজস্ব অর্থায়ন রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্ব গতকাল মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ে এনইসি সম্মেলন কক্ষে এনইসির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভাশেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের জানান, বিভিন্ন সংস্থা ও কর্পোরেশনের উন্নয়ন কর্মসূচিসহ বৈঠকে ৮৪ হাজার ৭১৬ কোটি টাকার এডিপি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হলে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের চাহিদার প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী আরো ১২৮৪ কোটি টাকা বরাদ্দ বৃদ্ধি করেন। ফলে সবমিলিয়ে এডিপি’র আকার দাঁড়িয়েছে ৮৬ হাজার কোটি টাকা। উল্লেখ্য, চলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছর থেকে বিভিন্ন সংস্থা ও কর্পোরেশনের উন্নয়ন কর্মসূচিগুলো এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ চাহিদা রয়েছে প্রায় এক লাখ কোটি টাকা। কিন্তু সম্পদের সীমাবদ্ধতার বিষয়টিও চিন্তা করতে হবে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের চাহিদা ও আমাদের সক্ষমতার মধ্যে সমন্বয় করে এডিপির বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি জানান, মোট ১১৮৭টি উন্নয়ন প্রকল্প থাকছে এডিপিতে। এর মধ্যে ৮৭৯টি বিনিয়োগ প্রকল্প, ১৩৪টি কারিগরি সহায়তা প্রকল্প, ২১টি জেডিসিএফ অর্থায়িত প্রকল্প ও ১৫৩টি নিজস্ব অর্থায়নের প্রকল্প রয়েছে। এডিপিতে বরাদ্দ বিহীনভাবে সংযুক্ত অননুমোদিত নতুন ৬৮৩টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। এছাড়া ২০১৪-১৫ এডিপিতে বৈদেশিক সাহায্য প্রাপ্তির সুবিধার্থে বরাদ্দ ব্যতিরেকে ২৭৬টি প্রকল্পেরও অনুমোদন দেয়া হয়। ৩২৪টি প্রকল্প সমাপ্ত হবে বলেও সভায় আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। অন্যদিকে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রকল্প সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে। পদ্মসেতু প্রকল্প নিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, নতুন এডিপিতে পদ্মাসেতুর জন্য ৮১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। জুন মাসে পদ্মাসেতুর ওয়ার্ক অর্ডার দেয়া হবে এবং আগামী অর্থ বছর থেকেই মূল সেতুর কাজ শুরু হবে। আগামী ৩ থেকে সাড়ে ৩ বছরের মধ্যেই পদ্মাসেতু পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হবে। সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উল্লেখ করেছেন, প্রয়োজন ছাড়া কোন প্রকল্পের মেয়াদ যেন বৃদ্ধি না করা হয়। যে টাকাই আমরা বরাদ্দ দিচ্ছি তা যেন যথাযথভাবে ব্যয় হয়। প্রকল্পের বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত হচ্ছে কিনা তা সরেজমিনে দেখতে সচিবদের তিনি নির্দেশ দেন। নতুন এডিপিতে প্রায় ২৮ হাজার ৯শ’ কোটি টাকা বৈদেশিক সাহায্যের প্রত্যাশা করা হয়েছে। বিভিন্ন সংস্থা ও কর্পোরেশনের নিজস্ব ব্যয়ের বাইরে এডিপির বাকী অর্থ সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে যোগান দেয়া হবে। নতুন এডিপিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) ৪০টি প্রকল্প থাকছে।