‘কঠিন পরিশ্রম অনেক বেশি প্রয়োজন’ — গুলজারি লাল বাবর

আপডেট : ২১ মে ২০১৪, ২১:৪৫
সাবেক প্রেসিডেন্ট, সিআইএমএ গুলজারি লাল বাবরের পেশাগত এবং ব্যক্তিগত ইতিহাস দুটোই নতুন প্রজন্মের চার্টার্ড ইনস্টিটিউ অব ম্যানেজম্যান্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস (CIMA) শিক্ষার্থীদের জন্যে একটি অসাধারণ অনুপ্রেরণার উদাহরণ। ১৯৬৭ সালে সিআইএমএ পড়তে শুরু করেন তিনি, সম্পন্ন করেছেন এর সর্বোচ্চ স্তর FCMA, CGMA, এবং তারও প্রায় ১৭ বছর পর একজন অ্যাসোসিয়েট হিসেবে যোগদান করেন সিআইএমএতে। গুলজারি ১৯৯৭ সালে সিআইএমএ’র ফেলো হিসেবে নির্বাচিত হন এবং ২০১২-২০১৩ সালে তিনি এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। খুব অল্প বয়স থেকেই গুলজারির ইচ্ছে ছিল ম্যানেজম্যান্ট অ্যকাউন্ট্যান্ট হওয়ার। ও-লেভেল সম্পন্ন করার পরই তিনি সিআইএমএ শুরু করেন। উচ্চশিক্ষার জন্যে বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা গতানুগতিক কোন শিক্ষা ব্যাবস্থার আশ্রয় নেননি। ১৯৬৭ সালে তিনি সিআইএমএ শুরু করেন। তবে কখন এটি কস্ট অ্যান্ড ওয়ার্ক অ্যাকাউন্ট্যান্টস নামে পরিচিত ছিল। তিনি অসংখ্যবার তার পেশাদারিত্বের স্বার্থে চাকরি ক্ষেত্র পরিবর্তন করেছেন, ভ্রমণ করেছেন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ। তার লক্ষ্য ছিল নিজের স্বপ্ন পূরণে নিজেকে আরও যোগ্য করে গড়ে তোলা। নতুন প্রজন্মের জন্যে অসম্ভব অনুপ্রেরণামূলক ব্যক্তিত্বের অধিকারী গুলজারির জন্ম ১৯৪৪ সালে তত্কালীন পাকিস্তানের লাহোরে। ১৯৪৭ সালের দেশ ভাগের পর তার পরিবার ভারতে পাড়ি জমায় এবং ১২ বছর বয়সে তিনি পাড়ি জমান কেনিয়ার নাইরোবিতে। ১৯৭২ সালে তিনি ব্রিটেনে আবাস গড়েন। ১৯৭২ সালে ব্রিটেনে আসার পর থেকেই গুলজারি লাল বাবর অ্যাকাউন্ট্যান্সি সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ শুরু করেন। ইনস্যুরেন্স, ট্র্যাভেল, হোলসেল ইমপোর্ট, মেডিক্যাল, ম্যানুফেকচারিং ইত্যাদি বিভিন্ন রকম সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন তিনি। এ সম্পর্কে গুলজারি বলেন, ‘যখন একজন শিক্ষার্থী সিআইএমএ সম্পন্ন করে, বহুজাতিক কোম্পানিগুলো তার জন্য মুখিয়ে থাকে। আর সিআইএমএ এমন একটি কোয়ালিফিকেশন যা নির্ধারিত কোনো ক্যাটাগরির জন্য নয় বরং ব্যাবসার প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়।’ তার পড়ালেখার এই সময়ে যথেষ্ট প্রতিকূলতা আসলেও সেগুলোকে অতিক্রম করেই এগিয়ে গেছেন তিনি। কঠিন পরিশ্রম এবং মনোযোগ ছিল তার প্রধান পাথেয়। প্রথম চেষ্টায় বেশিরভাগ পরীক্ষায় পাশ না করলেও তিনি হতাশ হননি বরং শিখতে চেষ্টা করেছেন অতীত ভুল থেকে। দীর্ঘ ১৭ বছর পরিশ্রম করার পর তিনি সিআইএমএ মেম্বার হতে সক্ষম হন। তার ভাষ্যে, ‘কঠিন পরিশ্রম অনেক বেশি প্রয়োজন। যদি তুমি ফেল কর, তবে হাল ছেড়ে দিও না। বরং ফেলের কারণগুলো শোধরাতে চেস্টা করো।’  সোহেল শেখ