গরমে, লোডশেডিংয়ে নাকাল পাবনাবাসী

আপডেট : ২১ মে ২০১৪, ২২:১০
প্রচণ্ড রোদ আর ভ্যাপসা গরমে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে গোটা পাবনার জনজীবন। তার ওপর বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং ও লো-ভোল্টেজে নাকাল জেলাবাসী। গরমে শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া ঠিকমত করতে পারছে না, লোকজন দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। গত কয়েকদিনে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় লোকজন বেকায়দায় পড়েছেন। ধান-কাটা, বোরো ক্ষেত পরিচর্যাসহ কালাই ক্ষেতে ঘাস পরিষ্কার, অন্য ক্ষেতে নিড়ানি দিতে গিয়ে কৃষি শ্রমিকরা দাবদাহে হাঁপিয়ে উঠেছেন। লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জেলার অধিকাংশ গ্রামেই প্রতিদিন গড়ে ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। মাঝে মাঝে বিদ্যু?তের দেখা মিললেও লো-ভোল্টেজ থাকায় তা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। কারণ সেচপাম্পসহ যেকোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্রই চালাতে গেলে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ঈশ্বরদী উপজেলার খয়েরবাড়িয়া গ্রামের কৃষক ওবায়দুল বলেন, ঘন ঘন লোডশেডিং ও লো-ভোল্টেজের কারণে তিনি জমিতে সেচ দিতে পারছেন না। ফলে তার প্রায় তিন বিঘা জমিতে আগাম বোনা শিম নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আটঘরিয়ার কৃষক রমজান আলী এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে অ-গভীর নলকূপ বসিয়েছেন । কিন্তু বিদ্যুতের অভাবে জমিতে পানি দিতে পারছেন না। তার শংকা, বিদ্যুতের অবস্থা এমন থাকলে ফলন নষ্ট হয়ে যাবে। তখন ভিটা বেচে ঋণ শোধ করা ছাড়া আর উপায় থাকবে না। সুজানগরের খয়রান গ্রামের ইসহাক আলি বলেন, দিন-রাতের গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোতেই বিদ্যুত্ পাওয়া যায় না। দুপুরে ও গভীর রাতে যখন কিছুটা বিদ্যুত্ পাওয়া যায়, তখন তা কোনো কাজে লাগে না। ফলে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ সবাই অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে। পাবনা পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি-১ ও ২ কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলার নয় উপজেলায় এই দুই সমিতির আওতায় প্রায় ৬শত গ্রাম রয়েছে। এসব গ্রামে প্রায় তিন লাখ সাধারণ গ্রাহক এবং ১০ হাজার ৬১টি গভীর নলকূপ রয়েছে। এসব সংযোগে প্রতিদিন গড়ে বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ৮৮ থেকে ৯০ মেগাওয়াট। কিন্তু বিদ্যুত্ সরবরাহ হচ্ছে ৪৪ থেকে ৪৫ মেগাওয়াট। ফলে লোডশেডিং ও লো-ভোল্টেজ থাকছে। জেলা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ৬০ হাজার ৩৩৫ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো আবাদ হয়েছে। এখান থেকে ধান উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৩১ হাজার ৫২৯ টন। কিন্তু কিছুদিনের বিদ্যুিবভ্রাটে সেচ ব্যাহত হওয়ায় ফলন কম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জেলা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোস্তাফিজার রহমান বলেন, পানির ঘাটতি হলে ইরি-বোরোর ফলন কম হওয়ার আশঙ্কা থাকে। পাবনা আবহাওয়া অফিস জানায়,গত কয়েকদিনে পাবনার তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ দশমিক ৮০ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠানামা করছে। ভাল বৃষ্টি হলে তাপমাত্রা কমতে পারে। তবে আপাতত সে সম্ভাবনা নেই। আগামীতে তাপমাত্রা আরো বাড়তে পারে।