বিজেপি’র জয় :ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক

আপডেট : ২১ মে ২০১৪, ২২:২১
মোদীর জয়েও ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক উন্নয়ন সম্ভব ভারতের ৩৯ শতাংশ ভোটার বিজেপি জোটের পক্ষে রায় দিয়েছে। কিন্তু তারা আসন পেয়েছে ৬২ শতাংশের বেশি। অন্যদিকে কংগ্রেস জোট ২৪ শতাংশ ভোট পেলেও আসন পেয়েছে মাত্র ১১ শতাংশ। এক উত্তর প্রদেশে বিজেপি যে আসন পেয়েছে কংগ্রেসের পোরু ভারতে পাওয়া আসন সংখ্যা তার কাছাকাছি। তবুও জয়ের পর নরেন্দ্র মোদী ঐকমত্যের ভিত্তিতে তার সরকার পরিচালনা করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন ইন্ডিয়ার জয় হয়েছে, সুদিন আসছে এবং জানিয়েছেন দেশের প্রত্যেক মানুষের উন্নয়নই তার মন্ত্র, গণতন্ত্রে কেউ কারো শত্রু নয় ভোট শেষ হওয়ার সাথে সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও শেষ হয়ে যায়। তিনি সকলকে সঙ্গে নিয়ে সুন্দরভাবে দেশ চালাবেন এটাই কাম্য। অন্যদিকে নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতা গ্রহণের পর ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক কেমন হবে তা এখনই বলা মুশকিল। পংকজ শরণ উক্তি করেছেন, ভারতের সরকার পরিবর্তন হলেও তার বিদেশনীতিতে কোনো পরিবর্তন হবে না। অথচ নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় বসলে তিনি বাংলাদেশ হাইকমিশনার থাকবেন কি-না সেটিই নিশ্চিত নয়। কংগ্রেসকে খুশি করতে মমতা ব্যানার্জীকে দোষ দেয়া যেমন উচিত হয়নি শেখ হাসিনার তেমনি মোদী ক্ষমতায় আশায় একেবারে ভেঙ্গে পড়ারও কোনো কারণ নেই। আমরা পারস্পরিক সমতা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে সবার সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক চাই। হোসাইন আহমদ বিএসএস ফাইনাল গুরুদয়াল সরকারি কলেজ, কিশোরগঞ্জ ০০০০০০০০০০০ ঢাকা ও দিল্লি সম্পর্কে নতুন মাত্রা সৃষ্টি করবে ১৯৭৫ সালের পটপরিবর্তনের পর বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা গান্ধী পরিবারের আতিথেয়তায় ভারতে অবস্থান করে। ১৯৮১ সালে বাংলাদেশে আসার আগে পর্যন্ত গান্ধী পরিবারে শেখ হাসিনা পারিবারিক সদস্যের মত ছিলেন বলে ধারণা করা হয়। কংগ্রেস যে দশ বছর ক্ষমতায় ছিল সেই দশ বছর আওয়ামী লীগের সাথে কংগ্রেসের ভাল সম্পর্ক ছিল। বাংলাদেশ-ভারতের সাথে অনেকগুলো চুক্তিও হয়েছিল। এদিকে ১৯৯৯ সালে যে সময় বিজেপি ক্ষমতায় আসে সে সময় বিএনপি’র সাথে বিজেপি’র ভাল সম্পর্ক ছিল। এর মাধ্যমে অনেকের মতে, বিজেপি’র বিজয়ে ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্কে ছেদ পড়তে পারে। কিন্তু ভালভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের বড় ভূমিকা আছে অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে। বিজেপি সরকারেরও অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে এবং উন্নয়নের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগকে দরকার হবে। এর ফলে বিজেপি’র বিজয় ঢাকা ও দিল্লি সম্পর্কে নতুন মাত্রা সৃষ্টি করবে। সঞ্জিত মন্ডল থিয়েটার এ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ ৩য় বর্ষ (৬ষ্ঠ সে.মি.) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ০০০০০০০০০০ ঢাকা দিল্লি সম্পর্কের অবনতি হবে না প্রবল হিন্দুত্ববাদী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিজেপির বিজয় বাংলাদেশি হিসাবে উদ্বিগ্ন হবার কোন কারণ নেই। যদিও নির্বাচনী প্রচারণায় দুটি বিষয় সামনে নিয়ে এসেছিলেন একটি উন্নয়নের ধারা অপরটি সাম্প্রদায়িকতা। মোদি তার নির্বাচনী প্রচারণায় বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানোর কথা বলেছিলেন এবং সংখ্যালঘু মুসলমানদের উপর একটি অমানবিক আচরণের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের সাথে কংগ্রেসের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক হয়েছিল সেটার কারণে বিজিপির সাথে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব কাজ করতে পারে। কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও বুদ্ধিমত্তার দ্বারা তা কাটিয়ে উঠবেন বলে আমি প্রত্যাশী। তাছাড়াও বাংলাদেশে ২০ হাজার চারকিরত ভারতীয়ের কথা চিন্তা করে তিনি এই নীতি গ্রহণ করবেন না। সাধারণত ভারতের পররাষ্ট্র নীতি গ্রহণ করা হয় জাতীয় স্বার্থে। বিজিপি সভাপতি রাজনাত শিং বলেন-“দেশের সব শ্রেণির সব ভাষার সব সম্প্রদায়ের মানুষ বিজিপিকে ভোট দিয়েছেন। এই জয় ভারতের সাধারণ মানুষের। এই জয়ের উল্ল¬াসে ভেদাভেদের রাজনীতি যেন আশ্রয় না পায়। এই জয় যেন মুছে দেয় জাত-পাত আর ভিন্ন সম্প্রদায়ের তফাত”। মো. মোহাইমিনুল ইসলাম, অর্থনীতি বিভাগ (৪র্থ বর্ষ), শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী হল, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ০০০০০০০০ ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক কেমন হবে তা সময়ই বলে দেবে বিজেপি ক্ষমতায় এলেও ভারত বাংলাদেশের সম্পর্কের মধ্যে তেমন প্রভাব পড়বে না বলে আমি মনে করি। বিজেপি সরকার আসায় দু’দেশের রাষ্ট্রীয় সম্পর্কে কোন ছেদ পড়বে না। নরেন্দ্র মোদী তার দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থেই বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে চলবেন। এছাড়া একটি প্রতিবেশী দেশ হিসাবে অন্য প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক সচল রাখাই বন্ধুত্বের আচরণ বলে আমি মনে করি। নির্বাচনের আগে তিনি কি বললেন, এ নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে দু’দেশের জনগণের স্বার্থেই আমাদের এমন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা উচিত যাতে দু’দেশের জনগণের মধ্যে বা সরকারের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝি না হয়। দু’দেশের মধ্যে তেমন কোন পরিবর্তন আসবে না, তবে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। ভারতে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির চর্চা বেড়ে গেলে বাংলাদেশে এর একটা ধাক্কা লাগতে পারে। কিন্তু দেখতে হবে বাংলাদেশ সরকার কিভাবে এ বিষয়টি বিবেচনা করে। আমাদের একটু ধৈর্য ধরতে হবে, মোদী ক্ষমতা গ্রহণের পর জাতির উদ্দেশ্যে কি বলেন, আর তখনই খোলাসা হবে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে ভারতের নতুন সরকারের কি নীতি হবে। কৌশিক সরকার, অনার্স (দ্বিতীয় বর্ষ), রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, নেত্রকোনা সরকারি কলেজ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন