মেঘালয় হাইকোর্টের রায়

একাত্তরের আগে আসা বাংলাদেশিরা ভারতের নাগরিক

আপডেট : ২১ মে ২০১৪, ২৩:১৯
ভারতের মেঘালয়ের হাইকোর্ট সম্প্রতি একটি ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন। এই রায়ে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের আগে যেসব বাংলাদেশি ভারতে এসেছেন তাদেরকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে গণ্য করা হবে। একইসঙ্গে ভোটার তালিকাতেও তাদের নাম তুলতে হবে। ভারতের সরকারি বার্তা সংস্থা পিটিআইর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে যাওয়া ৪০ জনেরও বেশি শরণার্থীর এক আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্টের এই রায় এসেছে। শরণার্থীদের আবেদনে বলা হয়, নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে সম্প্রতি তাদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে অস্বীকৃতি জানায় জেলা প্রশাসন। এসব শরণার্থী মেঘালয়ের রি-ভৈ জেলার আমজং গ্রামের বাসিন্দা। জেলার উপ-কমিশনার তাদের নাগরিকত্বের সার্টিফিকেট জব্দ করার পর তারা হাইকোর্টের শরণাপন্ন হন। শরণার্থীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি এস আর সেন গত ১৫ মে তার রায়ে রি-ভৈ জেলার ডেপুুটি কমিশনার পুজা পান্ডেকে আবেদনকারীদের নাগরিকত্ব সার্টিফিকেট ফেরত দেবার পাশাপাশি পরবর্তী নির্বাচনের জন্য তাদের সকলের নাম ভোটার তালিকায় তোলার নির্দেশ দেন। বিচারপতি সেন বলেন, কাকে ভারতে থাকতে দেয়া হবে এবং কাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে এ ব্যাপারে দুই দেশের মধ্যে একটা সমঝোতা রয়েছে। বিচারপতি আরো বলেন, আবেদনকারীদের পূর্বপুরুষেরা একাত্তরের ২৪ মার্চের আগেই ভারতে এসেছিলেন। তাই তাদের ফেরত পাঠানোর প্রশ্নই ওঠে না। এছাড়া আমজং গ্রামে তারা স্থায়ীভাবে বসবাসেরও অধিকার পেয়েছে। তারা বাংলাদেশি নাগরিক এমন যুক্তি বাতিল করে রায়ে বলা হয়, এসব শরণার্থীকে বিতাড়িত করার কোনো সুযোগ নেই। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার তাদের ওপর কোনো হস্তক্ষেপ করবে না বরং তাদের যথাযথ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক। কারণ তারা যখন এসেছিলো তখন বাংলাদেশের কোনো অস্তিত্ব ছিলো না এটা ছিলো পূর্ব পাকিস্তান।