দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলার বিচার কার্যক্রম চলা সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে সাবেক এমপি ও শিল্পপতি এমএ হাশেমের মামলা না চলা সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে দুদকের করা আপিল মঞ্জুর করা হয়েছে। তবে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরের সাজা বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে দুদকের করা রিভিউ আবেদন পর্যবেক্ষণ সহকারে নিষ্পত্তি করে দিয়েছে আদালত।
প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ গতকাল বুধবার এই রায় দেন। এই রায়ের ফলে ব্যারিস্টার মওদুদ, খন্দকার মোশাররফ ও হাশেমের বিরুদ্ধে মামলার বিচার কার্যক্রম চলবে বলে জানিয়েছেন দুদক কৌঁসুলি এডভোকেট খুরশীদ আলম খান।
রায়ের পর ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পর রিভিউ পিটিশন করব, না নিম্ন আদালতে গিয়ে মামলার বিষয়ে বক্তব্য রাখব সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। মওদুদ বলেন, ২০১০ সালে আওয়ামী লীগ নেতা ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরের মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এক রায়ে বলেছে, কারাবন্দি ব্যক্তির সম্পদের হিসাব বিবরণী চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইনের ২৬ ধারা মোতাবেক দুদক যে নোটিস দিয়েছে তা বেআইনি। কারণ কারাবন্দি অবস্থায় ওই ব্যক্তি কিভাবে নিজ সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল করবেন। এই রায়ের উপর ভিত্তি করেই হাইকোর্ট আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, শেখ হেলালের বিরুদ্ধে করা দুদকের মামলা খারিজ করে দেয়। তাদের মামলা খারিজ হলেও আমাদের বেলায় অন্যরকম রায় হয়েছে।
জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সাত কোটি ৩৮ লাখ ৪৮ হাজার ২৮৭ টাকার সম্পদ অর্জন এবং চার কোটি ৪০ লাখ ৩৭ হাজার ৩৭৫ টাকার তথ্য গোপনের অভিযোগে ব্যারিস্টার মওদুদের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর গুলশান থানায় মামলা করে দুদক। এ মামলা বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন তিনি। ২০১২ সালের ৭ অক্টোবর তার আবেদন খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট। ওই খারিজের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন তিনি। গতকাল এ আপিল খারিজ করে দিয়েছে আপিল বিভাগ।
জ্ঞাত আয় বহির্ভূতভাবে ১২ কোটি টাকার সম্পদ অর্জন এবং তিন কোটি টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে ২০০৮ সালের ১০ জানুয়ারি ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে রমনা মডেল থানায় মামলা করে দুদক। ওই বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এ মামলা বাতিল চেয়ে খন্দকার মোশাররফ হাইকোর্টে আবেদন করলে আদালত ২০১২ সালের ১৬ অক্টোবর তা খারিজ করে দেয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে খন্দকার মোশাররফ আপিল বিভাগে আবেদন করেছিলেন। গতকাল তা খারিজ করা হয়েছে।
এছাড়া জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে এম এ হাশেমের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের ৫ ডিসেম্বর রমনা থানায় মামলা করে দুদক। পরের বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর অভিযোগপত্র দেয়। এ মামলা বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন এম এ হাশেম। হাইকোর্ট ২০১২ সালের ১৯ জানুয়ারি মামলা বাতিল করে রায় দেয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে দুদক। গতকাল এ আপিল মঞ্জুর করে রায় দেয় আদালত।
অন্যদিকে মহীউদ্দীন খান আলমগীরের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ২৭ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০০৭ সালের ৬ মার্চ মামলা করে দুদক। এ মামলায় ওই বছরের ২৬ জুলাই বিশেষ জজ আদালত তাকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে মহীউদ্দীন খান হাইকোর্টে আপিল করলে ২০০৯ সালের ১৩ জুলাই এক রায়ে ওই সাজা বাতিল করে দেয়া হয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে দুদক। ২০১০ সালের ৪ জুলাই হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে আপিল বিভাগ। এই রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ পিটিশন করে দুদক। ওই আবেদন পর্যবেক্ষণ সহকারে নিষ্পত্তি করে দিয়েছে আদালত।
