বলব না মধ্যবর্তী নির্বাচন দরকার তবে সবাই চাইলে আপত্তি নেই

আপডেট : ২১ মে ২০১৪, ২৩:২১
বিরোধী দলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির (জাপা) জ্যেষ্ঠ প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম রওশন এরশাদ বলেছেন, সবদলের অংশগ্রহণে মধ্যবর্তী জাতীয় নির্বাচন দরকার-একথা আমরা (বিরোধী দল বা জাপা) বলবো না। তবে সবাই মিলে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে মধ্যবর্তী নির্বাচন করতে চাইলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। এই দাবিটিও আসতে হবে জনগণের মধ্য থেকে। এক্ষেত্রে আমাদের এককভাবে সিদ্ধান্ত নেয়ার কিছু নেই। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। দশম সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে সংসদে যোগদানের পর গতকালই তিনি প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন। তাহলে সব দলর অংশগ্রহণে একটি আগাম বা মধ্যবর্তী নির্বাচনের জন্য বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে আপনি সবার সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেবেন কিনা- এরকম এক প্রশ্নের জবাবে রওশন এরশাদ বলেন, জনগণের স্বার্থে আমাদের ভূমিকা রাখা দরকার বলে মনে করছি। আমরা আলোচনা করব। এই প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, দেশে এই মুহূর্তের পর কী হবে, কেউ বলতে পারবে না। সবাই আলোচনা করলে মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন হবে না? হতে তো পারে। রওশন বলেন, রাজনীতিকদের একের প্রতি অপরের অবিশ্বাসের কারণেই তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা এসেছিল। এই সিস্টেম উঠে গেছে। এখন তো আর তত্ত্বাবধায়ক হবে না। রাজনৈতিক সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে। তারপরেও সবাই আলোচনা করে একটি সিস্টেম দাঁড় করাতে পারে। প্রশ্নোত্তরের আগে সূচনা বক্তব্যে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, কী পরিস্থিতিতে আমাদেরকে গত ৫ জানুয়ারি নির্বাচন করতে হয়েছিল, সে বিষয়ে সবাই অবগত। নির্বাচনের আগে যে পরিস্থিতি ছিল, তা থেকে পরিত্রাণ পেতে এবং গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখে সেটিকে এগিয়ে নেয়ার জন্য ওই নির্বাচন ছাড়া কোনো গতি ছিল না। হরতাল, অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি, পেট্রোল বোমা দিয়ে মানুষ মারা, আগুন জ্বালিয়ে দিয়ে বাস যাত্রীদের পুড়িয়ে মারার ঘটনায় দেশের আইন-শৃঙ্খলা কঠিন অবনতির দিকে চলে যাচ্ছিল। এজন্যই একটি নির্বাচন করা দরকার ছিল। তিনি বলেন, সেসময় প্রধানমন্ত্রী তত্কালীন বিরোধী দলীয় নেতাকে আলোচনার জন্য বারবার আহ্বান জানিয়েছিলেন; কিন্তু বিরোধী দল তখন সাড়া দেয়নি। তখনকার বিরোধী দল তাদের আন্দোলনে জনগণকেও সম্পৃক্ত করতে পারেনি। পারলে পরিস্থিতি হয়তো ভিন্ন হতো। এসময় বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, কোনো দল না গেলে তাদের জন্য তো নির্বাচন বসে থাকতে পারে না। বিএনপি নির্বাচনে গেল না কেন? তারা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে গেল, অথচ সংসদ নির্বাচনে যায়নি। কাজেই এখনো আলোচনা ছাড়া তো আগাম নির্বাচন হবে না। নারায়ণগঞ্জে আলোচিত সাত খুন, ফেনীতে উপজেলা চেয়ারম্যানকে গুলি করে ও পুড়িয়ে হত্যাসহ গুম, খুন ও অপহরণের প্রতিবাদে বিরোধী দল কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে রওশন বলেন, জনগণের পক্ষে যখন যা করা দরকার, অবশ্যই আমরা তা করবো। এসময় রওশনের অনুমতি নিয়ে জাপা মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত দেশে গুম-খুন-অপহরণ বন্ধ না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত জাপা সন্তুষ্ট নয়। বিষয়টি যেহেতু বিচারাধীন, তাই এ ব্যাপারে বেশি কিছু বলা সমীচীন হবে না। নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনার পর বিরোধী দলের তেমন কোনো ভূমিকা চোখে পড়ছে না, অথচ বিরোধী দল না হয়েও বিএনপি বিভিন্ন কর্মসূচি দিচ্ছে, খালেদা জিয়া নারায়ণগঞ্জে গেছেন, আপনি সেখানে যাননি- সাংবাদিকদের এসব জিজ্ঞাসার জবাবে কিছুটা উত্তেজিত হয়ে রওশন এরশাদ বলেন, তারা (বিএনপি) যখন বিরোধী দলে ছিল তখন জনগণের জন্য কাজ করেনি কেন? তারা যখন সংসদ বর্জন করেছে, বিরোধী নেতা (খালেদা জিয়া) মাত্র ১০ দিন সংসদে গেছেন- তখন তাদেরকে আপনারা (সাংবাদিকরা) কী প্রশ্ন করেছেন? তখন কথা বলেননি কেন? এরপর শান্ত হয়ে বর্তমান বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, গুম-খুন-অপহরণের প্রতিবাদে আমরা কেন পদক্ষেপ নিতে পারবো না, অবশ্যই পারবো। আর আমি অসুস্থতার কারণে নারায়ণগঞ্জে যেতে পারিনি। রওশন এরশাদ বলেন, সম্প্রতি ভারতে কী সুন্দর নির্বাচন হয়ে গেল। সবাই ফলাফল মেনে নিয়েছে; কিন্তু আমরা তা পারি না। ভারতের কাছ থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে। ভারতের নির্বাচনের সঙ্গে বাংলাদেশের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মৌলিক পার্থক্য সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিশ্বের সর্ববৃহত্ গণতান্ত্রিক দেশ ভারতে দীর্ঘদিন ধরে সংসদীয় ও গণতান্ত্রিক চর্চা হচ্ছে। সে হিসেবে বাংলাদেশ নতুন, আমাদের শিখতে হবে। রাতারাতি সবকিছু হবে না। সাংবাদিকদের সঙ্গে এই মতবিনিময়ে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি, বিরোধী দলের চিফ হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরী, ফখরুল ইমাম এমপি, অধ্যাপিকা রওশন আরা মান্নান এমপি, বিরোধী দলীয় নেতার রাজনৈতিক সচিব গোলাম মসীহ প্রমুখ।