দেখা হয় নাই

উয়ারী-বটেশ্বর বৌদ্ধ পদ্মমন্দির

আপডেট : ২২ মে ২০১৪, ১৯:৪৭
বাংলাদেশজুড়েই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অসংখ্য প্রাকৃতিক আর মনুষ্যনির্মিত দর্শনীয় স্থান। মূলত এই স্থানগুলোর কথা মাথায় রেখেই প্রতি শুক্রবারের আয়োজনে থাকছে একটি করে দর্শনীয় স্থানের বিবরণ। আর আজ এতে প্রকাশিত হলো ঈশ্বরদী জেলার উয়ারী-বটেশ্বর বৌদ্ধ পদ্মমন্দির-এর কথা। বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে যেসব প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের সন্ধান পাওয়া গেছে তারই অন্যতম হলো ঢাকা থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত নরসিংদীর বেলাব উপজেলার উয়ারী-বটেশ্বর। আর এই উয়ারী-বটেশ্বর এলাকায় প্রাপ্ত অসংখ্য প্রত্ন নিদর্শনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি হলো প্রায় ১৪০০ বছরের প্রাচীণ একটি বৌদ্ধ পদ্মমন্দির। ২০১০ সালে এই অঞ্চলে নবম ধাপের উত্খননে বেরিয়ে আসে প্রাচীণ ইটনির্মিত এই পদ্মমন্দিরটি। ১০.৬ মিটার বাই ১০.৬ মিটার বর্গাকার বৌদ্ধমন্দিরটির দেয়াল ৮০ সেন্টিমিটার প্রশস্ত আর ভিত্তিমূল এক মিটার। কাদামাটির গাঁথুনির দেয়ালের ভিত্তি তিনধাপে প্রক্ষিপ্ত। মূল দেয়ালের উত্তর, দক্ষিণ ও পশ্চিমে ৭০ সেন্টিমিটারদূরত্বে সমান্তরালভাবে ৭০ সেন্টিমিটার প্রশস্ত দেয়াল রয়েছে এবং মূল দেয়ালেরচারদিকে ইট বিছানো ৭০ সেন্টিমিটার প্রশস্ত প্রদক্ষিণ পথ রয়েছে। প্রদক্ষিণপথের বাইরের দিকে মূল দেয়ালের সমান্তরাল ৬০ সেন্টিমিটার প্রশস্ত দেয়াল রয়েছে। তবে পূর্বদিকে মূল দেয়াল ও বহির্দেয়ালের দূরত্ব ৩.৫ মিটার। পূর্বদিকে প্রদক্ষিণ পথ ও বারান্দা রয়েছে। এ পর্যন্ত বৌদ্ধমন্দিরটিতে দুটিনির্মাণ যুগ শনাক্ত করা হয়েছে। আদি নির্মাণ যুগের ইট বিছানো মেঝের অংশবিশেষ উন্মোচিত হলেও এর অন্যান্য বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করতে আরও সময় লাগবে। তবে পরবর্তী নির্মাণ যুগে পূর্ব-দক্ষিণ কোণে ইট বিছানো একটি বেদি পাওয় গেছে। মূলত পদ্মের এই উপস্থিতিই মন্দিরটিকে পদ্ম মন্দির বা লোটাস টেম্পলের মর্যাদা দেয়। বৌদ্ধ ধর্মে পদ্ম খুবই তাত্পর্যপূর্ণ এবং বহুল ব্যবহূত। ধারণা করা হয়ে থাকে যে সে সময় বুদ্ধের মূর্তির বদলে প্রায়ই পদ্ম ব্যবহার করা হতো এবং খ্রীষ্টিয় তৃতীয় শতক থেকে এ ধরনের প্রতীকের ব্যবহার দেখা যায়। উয়ারী-বটেশ্বরে আবিষ্কৃত পদ্ম মন্দিরের পদ্মটিতে প্রায় ৮টি পাঁপড়ি রয়েছে যা বৌদ্ধধর্মের অষ্টমার্গের প্রতীক বলে মনে করা হয়। এ ছাড়া খননের ফলে মন্দিরটির কেন্দ স্থলে যে গর্ভগৃহ বা প্রতিমা রাখার স্থান আবিষকৃত হয়েছে সেটির আয়তন হলো চার বর্গমিটার।